Hi

ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিমের উপর গ্রাহকদের হামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
  • ১২২ Time View

আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল অফিসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের লক্ষ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিচ্ছিন্নকারী টিমের উপর গ্রাহকদের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় হারুন অর রশিদ নামের একজন লাইন ক্রু লেভেল-১ গুরুতর ভাবে আহত হয়ে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭জুন) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে মধুপুর জোনাল অফিসের মিটার টেস্টিং সুপারভাইজার শাহীনুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিম অরণখোলা ও বেরিবাইদ এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে উত্তেজিত গ্রাহক এই হামলার ঘটনাটি ঘটায় বলে জানা যায়।
এঘটনায় আহত লাইন ক্রু হারুন অর রশিদ জানান, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের লক্ষ্যে আমরা বেরিবাইদ এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বেরিবাইদ গ্রামের আবাসিক গ্রাহক শ্রী গিরিশ চন্দ্র বৈষ্ণবের ছেলে শ্রী গনেশ চন্দ্র বৈষ্ণব এবং অরণখোলা এলাকার বানবের ছেলে পবিত্র ও প্রান কুমার সহ আরও ১০/১২ জন লোক একত্রিত হয়ে আমাদের সাথে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতে থাকে এবং সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকার কারণ এবং বিদ্যুৎ ছাড়াই বেশি বিল কিভাবে আসে এসব বিষয় নিয়ে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
কথা কাটাকাটির এক পর্ষায়ে তারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে আমাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর ভাবে আহত করে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টিমের অন্যান্য সদস্যগন ভয়ে দৌড়ে ঘটনা স্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, এই প্রচন্ড গরমে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তারা আরও জানান, এ প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবনে স্বস্তির একমাত্র মাধ্যম হলো বিদ্যুৎ যা আমরা দিনরাত মিলিয়ে ৩/৪ ঘন্টাও পাইনা।
উক্ত এলাকার মোদি দোকানদার কাজিম শেখ জানান, আগে দিনরাত ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যে বিল আসতো বর্তমানে ৪/৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ চালিয়ে তার থেকে বেশি বিল আসে। এছাড়া যতটুকু পাওয়া যায় সেখানে ভোল্টেজ থাকে খুবই কম যে কারণে দুই দিনেও একটি মোবাইলের ব্যাটারী ফুল চার্জ করা সম্ভব হয়না।
এসব বিষয় নিয়ে অনেক দিন ধরেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে জুন মাস ব্যাপি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, অনাদায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান চলমান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭জুন বৃহস্পতিবার অরণখোলা ও বেরিবাইদ এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে এলাকাবাসি জানান।
অত্র এলাকার বাসিন্দা শচীন চন্দ্র বৈষ্ণব জানান, কোরবানি ঈদের আগে থেকে শুরু করে টানা এক সপ্তাহ ১০মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ যায়নি তাহলে এখন সেই বিদ্যুৎ কোথায় গেলো। বিদ্যুতের জন্য ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না, ফ্রীজে রাখা মাছ মাংস এবং অন্যান্য খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করার কারনে বয়স্ক লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, বিদ্যুতের উর্ধতন কর্তৃপক্ষে নিকট অন্যান্য জেলা উপজেলার মতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি জানান।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন মধুপুর জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ নুরুল আমিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ফুলপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন

মধুপুরে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিমের উপর গ্রাহকদের হামলা

Update Time : ০৬:২৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

আঃ হামিদ মধুপুর টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল অফিসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের লক্ষ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিচ্ছিন্নকারী টিমের উপর গ্রাহকদের অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় হারুন অর রশিদ নামের একজন লাইন ক্রু লেভেল-১ গুরুতর ভাবে আহত হয়ে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭জুন) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে মধুপুর জোনাল অফিসের মিটার টেস্টিং সুপারভাইজার শাহীনুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিম অরণখোলা ও বেরিবাইদ এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে উত্তেজিত গ্রাহক এই হামলার ঘটনাটি ঘটায় বলে জানা যায়।
এঘটনায় আহত লাইন ক্রু হারুন অর রশিদ জানান, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের লক্ষ্যে আমরা বেরিবাইদ এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে বেরিবাইদ গ্রামের আবাসিক গ্রাহক শ্রী গিরিশ চন্দ্র বৈষ্ণবের ছেলে শ্রী গনেশ চন্দ্র বৈষ্ণব এবং অরণখোলা এলাকার বানবের ছেলে পবিত্র ও প্রান কুমার সহ আরও ১০/১২ জন লোক একত্রিত হয়ে আমাদের সাথে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতে থাকে এবং সারাদিন বিদ্যুৎ না থাকার কারণ এবং বিদ্যুৎ ছাড়াই বেশি বিল কিভাবে আসে এসব বিষয় নিয়ে আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
কথা কাটাকাটির এক পর্ষায়ে তারা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
একপর্যায়ে আমাকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর ভাবে আহত করে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টিমের অন্যান্য সদস্যগন ভয়ে দৌড়ে ঘটনা স্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, এই প্রচন্ড গরমে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তারা আরও জানান, এ প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবনে স্বস্তির একমাত্র মাধ্যম হলো বিদ্যুৎ যা আমরা দিনরাত মিলিয়ে ৩/৪ ঘন্টাও পাইনা।
উক্ত এলাকার মোদি দোকানদার কাজিম শেখ জানান, আগে দিনরাত ২০ ঘন্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যে বিল আসতো বর্তমানে ৪/৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ চালিয়ে তার থেকে বেশি বিল আসে। এছাড়া যতটুকু পাওয়া যায় সেখানে ভোল্টেজ থাকে খুবই কম যে কারণে দুই দিনেও একটি মোবাইলের ব্যাটারী ফুল চার্জ করা সম্ভব হয়না।
এসব বিষয় নিয়ে অনেক দিন ধরেই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে জুন মাস ব্যাপি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, অনাদায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান চলমান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭জুন বৃহস্পতিবার অরণখোলা ও বেরিবাইদ এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে এলাকাবাসি জানান।
অত্র এলাকার বাসিন্দা শচীন চন্দ্র বৈষ্ণব জানান, কোরবানি ঈদের আগে থেকে শুরু করে টানা এক সপ্তাহ ১০মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ যায়নি তাহলে এখন সেই বিদ্যুৎ কোথায় গেলো। বিদ্যুতের জন্য ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না, ফ্রীজে রাখা মাছ মাংস এবং অন্যান্য খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করার কারনে বয়স্ক লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, বিদ্যুতের উর্ধতন কর্তৃপক্ষে নিকট অন্যান্য জেলা উপজেলার মতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি জানান।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন মধুপুর জোনাল অফিসের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোঃ নুরুল আমিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।