ভালুকায় অতি বৃষ্টিতে আমন ফসল ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি
-
Reporter Name - Update Time : ০৫:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩
- ১৮৪ Time View

ভালুকা (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি ঃ গত দুইদিনের টানা বর্ষণে ভালুকা পৌর এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত একর আমন ধানের ক্ষেত ও অসংখ্য মৎস্য খামার তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। অপরদিকে পৌর এলাকার ২ ও ৪ নং ওয়ার্ডে বিভিন্ন বাসা বাড়ির শয়ন কক্ষে পানি উঠায় পরিবারের লোকজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবন কাটাতে হচ্ছে। ভূক্তভোগিদের অভিযোগ পানি নিষ্কাশনের ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে বাসা বাড়ী ঘরে পানি উঠে যায়। অতি বৃষ্টিতে ভালুকা বিরুনিয়া রাস্তার পাশে মাটি সরে গিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের খুটি পরে বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার হতে শুরু হওয়া সারাদিন সারা রাত বিরামহীন টানা বর্ষণে ভালুকার খীরু নদী, লাউতি নদী, বেতিয়া হাঙ্গুন, নেউরা নদী ও রুপির খাল সহ বিভিন্ন খাল বিলের আশ পাশ তলিয়ে যাওয়ায় উঠতি আমন ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। অতি বর্ষনে মৎস্য খামারের পাড় তলিয়ে যাওয়ায় শত শত খামারির মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে খামারিরা জানান। সীডষ্টোর বাজারের আতিকুল ইসলাম জানান লবনকোঠা এলাকায় তাঁর মৎস্য খামারটি তলিয়ে যাওয়ায় অনেক মাছ ভেসে গেছে। অপরদিকে মামারিশপুর গ্রামে এম.এম ফিশারীজ এর মালিক শেখ মোঃ ইব্রাহীম মিয়া তার প্রায় দেড় কোটি মাছ ভেসে গেছে এতে তার প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে এছাড়া পাঁচগাওয়ের ইকবাল আহাম্মেদের কেয়ারটেকার শামিম মিয়া জানান,তাদের প্রায় সব মাছ ভেসে গেছে। তাছাড়াও মেদুয়ারী এলাকায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের বিলের বাধ ভেঙ্গে প্রায় ৩০লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। অন্যদিকে অনেক বড় বড় চাষিদের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। শুক্রবার সকাল হতে তিনি সহ অন্যান্য খামারিরা নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে মাছ আটকোনোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিরুনিয়া, রাজৈ, হবিরবাড়ী, মল্লিকবাড়ী, পানিভান্ডা, পাঁচগাঁও, সাতেঙ্গা, গোয়ারী, উথুরা, বরাইদ, ভালুকা, ভান্ডাব, তালাব, গাদুমিয়া, মেদিলা, ভাঁটগাও সহ অনেক গ্রামে অতি বর্ষণের ফলে আমন ধান তলিয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম হবিরবাড়ী ইউনিয়নের লাইতি নদীর আশ পাশের তলিয়ে যাওয়া আমন ক্ষেত পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা, পানি নেমে গেলে ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা, পটাশ সার ও জিপসাম প্রয়োগ ও প্রয়োজনে ছত্রাক নাশক ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেন।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জাহান জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অতি বৃষ্টির কারনে নিন্ম অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে প্রায় ১৪০০ হেক্টর জমির আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভনা রয়েছে। আমি সহ আমার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন তাদের প্রতিটা ইউনিয়নের কৃষকদের খোঁজ খবর নিচ্ছে।
ভালুকা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: সাইদুর রহমান জানান, অতি বৃষ্টির ফলে ভালুকা উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক খামারির মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে করে মৎস্য চাষীদের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।


























