পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা
-
Reporter Name - Update Time : ০৪:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩
- ৩২৮ Time View

পরিবেশ বলতে আমরা সাধারণত সুন্দর পরিবেশ, উন্নত পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বুঝি। অর্থাৎ পরিবেশের সঙ্গে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যেমন পানি হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান উপাদান। পানি ছাড়া গাছপালা, বন-বনানী, নদী-নালা, পশু-পাখি কল্পনাও করা যায় না। পানির অস্তিত্ব প্রাণীর অস্তিত্বের পূর্বশর্ত। সেই পানি কিন্তু সবচেয়ে বেশি পবিত্র, অর্থাৎ পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই (মহান আল্লাহ) স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুবার্তাবাহী বায়ু প্রেরণ করেন এবং আমি (আল্লাহ) আকাশ হতে পবিত্র (ও পবিত্রকারী) বারি বর্ষণ করি। যা দ্বারা আমি মৃত ভূমিকে জীবিত করি এবং আমার সৃষ্টির বহু জীবজন্তু ও মানুষকে উহা পান করাই।’ (২৫ সূরা ফুরকান, আয়াত: ৪৮-৪৯)।
পরিবেশদূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সুন্দর পরিবেশের প্রথম বৈশিষ্ট্য। তাই প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পরিবেশকে দূষিত করবে না।’ পুকুরের পানি, নদীর পানি, আবদ্ধ জলাশয়ের পানি যেন দূষিত না হয়, সে জন্য প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘আবদ্ধ পানি ও জলাশয়ের পানিতে তোমরা প্রস্রাব করবে না। প্রস্রাব করে তোমরা পানিকে দূষিত করে সেখানে আবার গোসল করবে না।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস: ৪২৪)।
প্রতিটি মানুষের সুস্থতার জন্য পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত পানির প্রয়োজন সর্বাগ্রে। তাই মহানবী (সা.) পানিকে পবিত্র রাখতে এবং পানিকে সংরক্ষণ করতে বলেছেন; কোনোভাবেই যাতে পানি অপবিত্র ও দূষিত হতে না পারে। কারণ দূষিত পানির মাধ্যমে পানিবাহিত রোগ সৃষ্টি হতে পারে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘খবরদার! তোমরা পানির মধ্যে নিশ্বাস ত্যাগ করবে না বা ফুঁ দেবে না।’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস: ১৪১০)। এই হাদিসটিতে খাওয়ার পানির কথা বলা হয়েছে। কারণ মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়; যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পানির অপচয় সম্পর্কে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রয়োজনের অধিক পানি অপচয় করবে না। যদিও তোমরা বহমান নদীর তীরে থাকো।’ (বুখারি)।
অতএব, আমাদের উচিত পানিকে দূষণমুক্ত রাখা এবং পানির অপচয় রোধ করা। পানির পাশাপাশি আরও যত প্রাকৃতিক সম্পদ আছে—সবকিছুর যথাযথ ব্যবহার, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা না করলে মানব সভ্যতায় নেমে আসবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের ফলে জলে ও স্থলে বিপর্যয় ঘটেছে।’ (৩০ সূরা রুম, আয়াত: ৪১)। আল্লাহ তাআলা চান মানুষ সুন্দর পরিবেশে পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করুক।
সৈয়দ তানতাভী (র.) লিখেছেন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের মধ্যে পাঁচ শতবার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য উৎসাহিত করেছেন। পবিত্রতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ব্যতীত সুন্দর পরিবেশ কল্পনা করা যায় না। প্রিয় নবী (সা.)
ইরশাদ করেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ (মিশকাত শরিফ, পৃষ্ঠা ৩৮)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের উঠান-আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখো।’ প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকে ভালোবাসেন।’ এ ছাড়া কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরও ভালোবাসেন।’ (০২ সূরা বাকারা, আয়াত: ২২২)





















