Hi

ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইস্তেখারার আলো

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ Time View

ইয়াসমিন আক্তার

জ্যোতি ছিল ধার্মিক পরিবারের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই সে নামাজ পড়ত, কোরআন তিলাওয়াত করত এবং আল্লাহর কাছে সুন্দর একটি জীবনসঙ্গী চাইত।

একদিন তার মা জানালেন, মাহির নামে একজন ছেলে জ্যোতিকে বিয়ে করতে আগ্রহী। মাহিরও ধার্মিক, ভদ্র এবং আল্লাহকে ভালোবেসে জীবন গড়তে চায়।

জ্যোতির মনে প্রশ্ন জাগল, “মাহির কি সত্যিই আমার জন্য উপযুক্ত হবে?” তাই সে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করল। দোয়া করে বলল, “হে আল্লাহ, মাহির আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হলে আমাদের বিয়ে সহজ করে দিন। আর অকল্যাণকর হলে আমাকে তা থেকে দূরে রাখুন।”

এরপর জ্যোতি শুধু স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকল না; মাহিরের চরিত্র, ব্যবহার ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কেও খোঁজ নিল। দুই পরিবারের সম্মতি ও পরামর্শে বিয়ের সিদ্ধান্ত হলো।

বিয়ের দিন মাহির জ্যোতির হাত ধরে বলল, “আমি চাই, আমাদের ভালোবাসার শুরু হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে। আমরা যেন একে অপরকে শুধু ভালোবাসি না, বরং জান্নাতের পথেও সহযোগী হই।”

জ্যোতির চোখে আনন্দের অশ্রু জমল। সে মনে মনে বলল, “যে সম্পর্কে আল্লাহর ওপর ভরসা থাকে, সে সম্পর্কের প্রতিটি পদক্ষেপেই থাকে প্রশান্তির আশা।”

সেদিন থেকে জ্যোতি ও মাহিরের সংসার শুধু ভালোবাসার বন্ধনে নয়, নামাজ, দোয়া, ধৈর্য ও পারস্পরিক সম্মানের আলোয় সাজতে শুরু করল।

শিক্ষা: জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু আবেগ নয়—দ্বীনদারি, সুন্দর চরিত্র, পরামর্শ এবং আল্লাহর ওপর ভরসাও জরুরি। ইস্তেখারার উত্তর স্বপ্নে আসতেই হবে, এমন নয়; কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দিকনির্দেশনা চাওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইস্তেখারার আলো

Update Time : ১০:৩৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়াসমিন আক্তার

জ্যোতি ছিল ধার্মিক পরিবারের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই সে নামাজ পড়ত, কোরআন তিলাওয়াত করত এবং আল্লাহর কাছে সুন্দর একটি জীবনসঙ্গী চাইত।

একদিন তার মা জানালেন, মাহির নামে একজন ছেলে জ্যোতিকে বিয়ে করতে আগ্রহী। মাহিরও ধার্মিক, ভদ্র এবং আল্লাহকে ভালোবেসে জীবন গড়তে চায়।

জ্যোতির মনে প্রশ্ন জাগল, “মাহির কি সত্যিই আমার জন্য উপযুক্ত হবে?” তাই সে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করল। দোয়া করে বলল, “হে আল্লাহ, মাহির আমার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হলে আমাদের বিয়ে সহজ করে দিন। আর অকল্যাণকর হলে আমাকে তা থেকে দূরে রাখুন।”

এরপর জ্যোতি শুধু স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকল না; মাহিরের চরিত্র, ব্যবহার ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কেও খোঁজ নিল। দুই পরিবারের সম্মতি ও পরামর্শে বিয়ের সিদ্ধান্ত হলো।

বিয়ের দিন মাহির জ্যোতির হাত ধরে বলল, “আমি চাই, আমাদের ভালোবাসার শুরু হোক আল্লাহর সন্তুষ্টি দিয়ে। আমরা যেন একে অপরকে শুধু ভালোবাসি না, বরং জান্নাতের পথেও সহযোগী হই।”

জ্যোতির চোখে আনন্দের অশ্রু জমল। সে মনে মনে বলল, “যে সম্পর্কে আল্লাহর ওপর ভরসা থাকে, সে সম্পর্কের প্রতিটি পদক্ষেপেই থাকে প্রশান্তির আশা।”

সেদিন থেকে জ্যোতি ও মাহিরের সংসার শুধু ভালোবাসার বন্ধনে নয়, নামাজ, দোয়া, ধৈর্য ও পারস্পরিক সম্মানের আলোয় সাজতে শুরু করল।

শিক্ষা: জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু আবেগ নয়—দ্বীনদারি, সুন্দর চরিত্র, পরামর্শ এবং আল্লাহর ওপর ভরসাও জরুরি। ইস্তেখারার উত্তর স্বপ্নে আসতেই হবে, এমন নয়; কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দিকনির্দেশনা চাওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।