Hi

ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবশেষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকফলক হলো

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩
  • ২৭৩ Time View

হাকিকুল ইসলাম খোকন,যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধিঃ

অবশেষে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বপ্ন পূরণ হলো। স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশের ৫৩তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নিউইয়র্ক -এর বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামফলক উম্মোচন করা হয়। দুপুর ২টায় বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন করেন জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণান। জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ আমন্ত্রণ না পাওয়ায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের কোন সরকারি কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।খবর বাপসনিউজ।

জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামকরণের জন্য প্রায় এক বছর ধরে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা নানাভাবে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ সামাজিক তৎপরতা চালিয়ে আসছেন কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের কাউকেই কোন রকম বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় সেখানে উপস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকলেও তাদেরকেও দু’টি কথা বলার সুযোগ দেননি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান। এ ঘটনায় প্রবাসীরা হতবাক হয়েছেন। এমনকি জ্যাকসন হাইটসে বসবাস করন না শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত এমন এক ব্যক্তি মিলন রহমানকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা হয়। যা উপস্থিত প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, স্টিভেন রাঘাব, কাউন্সিল মেম্বার জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস, অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লি, জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, অপর জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাধারন সম্পাদক তারেক হাসান খানসহ শত শত বাংলাদেশি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলম্যানদের সাধারন সভায় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নিলে পরে ৪৭-০ ভোটে তা পাশ হয়। সেই থেকে জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউয়ের ৭৩ স্ট্রিটের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। বিলটির সিদ্ধান্ত নম্বর হলো- আইএনটি ৮৯৭।
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটসে ‘বাংলাদেশ’ নামে সড়ক করার জোর তৎপরতা চালান জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণানকে গত বছরের জুলাই মাস থেকে কয়েক দফায় তাগিদ দেন। এর আগেও জেবিবিএ’র সাবেক ও প্রয়াত নেতা সাঈদ রহমান মান্নান, পিয়ার মোহাম্মদ, মহসিন ননি, গিয়াস আহমেদ ও শাহনাওয়াজ সকলেই এই দাবির প্রতি ছিলেন ঐক্যবদ্ধ।

গত বছর জুলাই মাসে উক্ত জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান নিউ ইয়র্ক সিটি’র কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। তাদের দেওয়া তাগিদের ফলেই প্রস্তাবটি পাস করানোর চেষ্টা চালান সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলম্যানরা।
কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণান, মেয়র এরিক এডামস, বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস গত নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা জয়ী হলে এই নামকরণ বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু শেকার কৃষ্ণানের আন্তরিকতায় এবং জ্যাকসন হাইটসের নেতৃবৃন্দের দাবিতে ও সহায়তায় প্রায় ৬ মাসের প্রস্তুতিতে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্তটি পাশ করা হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির ১২৯টি স্ট্রিটের পুণঃনামকরণের বিলটি সভায় আলোচনায় আসে। এক এক করে ১২৯টি স্ট্রিটের নতুন নামকরণের প্রস্তাব শোনানো হয়। পাঁচ বরোতেই নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্ট্রিটের বা এভিনিউয়ের। এইসব নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন কম্যুনিটির নিজ দেশের বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টদের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের এক ব্লকের নামকরণ করা হলো ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। এছাড়াও বাংলাদেশ কম্যুনিটির বিশিষ্ট একটিভিস্ট, শিক্ষক ও লেখক লিজি রহমানের পুত্রের নামে এলমহার্স্টের কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কর্ণারে নামকরণ করা হলো আসিফ রহমান ওয়ে। আসিফ রহমান ২০০৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইকেল চালিয়ে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কাছে ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এই রাস্তাটিরও নামকরণ করা হলো কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানের উদ্যোগেই।
এদিকে শুনানিতে যেমন এই ১২৯টি রাস্তার তালিকায় কুইন্স বরোতে ‘লিটল বাংলাদেশ ওয়ে’ নামে একটি রাস্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, পাশ হওয়া বিলেও সেই নামটি রয়ে গেছে। কিন্তু কোন কাউন্সিলম্যানের প্রস্তাবে কোন এলাকায় কোন রাস্তার নাম লিটল বাংলাদেশ ওয়ে হলো তা জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের পার্ক কমিটির চেয়ার। আর স্ট্রিটের পুণঃনামকরণ করার দায়িত্বটিও পার্ক কমিটির। সে কারণে নির্বাচিত হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই তিনি ৭৩ স্ট্রিটের নাম বাংলাদেশ স্ট্রিট এবং ৫৫ রোডের নাম আসিফ রহমান ওয়ে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা তৈরি শুরু করেন। এর জন্য কেন ৭৩ স্ট্রিটের নাম ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ করতে হবে তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান। অবশেষে পার্ক কমিটি তার প্রস্তাবনা মেনে নেয় এবং শুনানিতে তোলে। ৩১ জানুয়ারি শুনানিতে তা গৃহীত হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি তা ফুল কাউন্সিলে ৪৭-০ ভোটে পাশ হয়। এ সময় কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান সিটি কাউন্সিল চেম্বারে ৭৩ স্ট্রিটকে বাংলাদেশ স্ট্রিট ও ৫৫ রোডকে আসিফ রহমান ওয়ে ঘোষণার পক্ষে চমৎকার দুটি বক্তব্য রাখেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শাজাহানপুরে সাজাপুর সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

অবশেষে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকফলক হলো

Update Time : ১২:৩৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩

হাকিকুল ইসলাম খোকন,যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধিঃ

অবশেষে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বপ্ন পূরণ হলো। স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশের ৫৩তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নিউইয়র্ক -এর বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামফলক উম্মোচন করা হয়। দুপুর ২টায় বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন করেন জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণান। জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। যথাযথ আমন্ত্রণ না পাওয়ায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশ দূতাবাসের কোন সরকারি কর্মকর্তাগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।খবর বাপসনিউজ।

জ্যাকসন হাইটসের একটি রাস্তা ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামে নামকরণের জন্য প্রায় এক বছর ধরে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা নানাভাবে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ সামাজিক তৎপরতা চালিয়ে আসছেন কিন্তু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের কাউকেই কোন রকম বক্তব্য দিতে না দেওয়ায় প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় সেখানে উপস্থিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকলেও তাদেরকেও দু’টি কথা বলার সুযোগ দেননি কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান। এ ঘটনায় প্রবাসীরা হতবাক হয়েছেন। এমনকি জ্যাকসন হাইটসে বসবাস করন না শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত এমন এক ব্যক্তি মিলন রহমানকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করা হয়। যা উপস্থিত প্রবাসীদের মাঝে নানা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

বাংলাদেশ স্ট্রিটের নামফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, স্টিভেন রাঘাব, কাউন্সিল মেম্বার জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস, অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা, কাউন্সিল মেম্বার লিন্ডা লি, জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, অপর জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ, সাধারন সম্পাদক তারেক হাসান খানসহ শত শত বাংলাদেশি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিলম্যানদের সাধারন সভায় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নিলে পরে ৪৭-০ ভোটে তা পাশ হয়। সেই থেকে জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউয়ের ৭৩ স্ট্রিটের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। বিলটির সিদ্ধান্ত নম্বর হলো- আইএনটি ৮৯৭।
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটসে ‘বাংলাদেশ’ নামে সড়ক করার জোর তৎপরতা চালান জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান জ্যাকসন হাইটস ও এলমহার্স্ট এলাকার নব নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলম্যান উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভুদ শেখর কৃষ্ণানকে গত বছরের জুলাই মাস থেকে কয়েক দফায় তাগিদ দেন। এর আগেও জেবিবিএ’র সাবেক ও প্রয়াত নেতা সাঈদ রহমান মান্নান, পিয়ার মোহাম্মদ, মহসিন ননি, গিয়াস আহমেদ ও শাহনাওয়াজ সকলেই এই দাবির প্রতি ছিলেন ঐক্যবদ্ধ।

গত বছর জুলাই মাসে উক্ত জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (জেবিবিএ)এর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। জেবিবিএ’র বর্তমান সভাপতি হারুন ভুঁইয়া ও সাধারন সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান নিউ ইয়র্ক সিটি’র কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। তাদের দেওয়া তাগিদের ফলেই প্রস্তাবটি পাস করানোর চেষ্টা চালান সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলম্যানরা।
কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণান, মেয়র এরিক এডামস, বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস গত নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা জয়ী হলে এই নামকরণ বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু শেকার কৃষ্ণানের আন্তরিকতায় এবং জ্যাকসন হাইটসের নেতৃবৃন্দের দাবিতে ও সহায়তায় প্রায় ৬ মাসের প্রস্তুতিতে ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ নামকরণের সিদ্ধান্তটি পাশ করা হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ১৬ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির ১২৯টি স্ট্রিটের পুণঃনামকরণের বিলটি সভায় আলোচনায় আসে। এক এক করে ১২৯টি স্ট্রিটের নতুন নামকরণের প্রস্তাব শোনানো হয়। পাঁচ বরোতেই নতুন নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্ট্রিটের বা এভিনিউয়ের। এইসব নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন কম্যুনিটির নিজ দেশের বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টদের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটের এক ব্লকের নামকরণ করা হলো ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’। এছাড়াও বাংলাদেশ কম্যুনিটির বিশিষ্ট একটিভিস্ট, শিক্ষক ও লেখক লিজি রহমানের পুত্রের নামে এলমহার্স্টের কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কর্ণারে নামকরণ করা হলো আসিফ রহমান ওয়ে। আসিফ রহমান ২০০৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইকেল চালিয়ে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুইন্স বুলোভার্ডে ৫৫ রোডের কাছে ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এই রাস্তাটিরও নামকরণ করা হলো কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানের উদ্যোগেই।
এদিকে শুনানিতে যেমন এই ১২৯টি রাস্তার তালিকায় কুইন্স বরোতে ‘লিটল বাংলাদেশ ওয়ে’ নামে একটি রাস্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, পাশ হওয়া বিলেও সেই নামটি রয়ে গেছে। কিন্তু কোন কাউন্সিলম্যানের প্রস্তাবে কোন এলাকায় কোন রাস্তার নাম লিটল বাংলাদেশ ওয়ে হলো তা জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের পার্ক কমিটির চেয়ার। আর স্ট্রিটের পুণঃনামকরণ করার দায়িত্বটিও পার্ক কমিটির। সে কারণে নির্বাচিত হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই তিনি ৭৩ স্ট্রিটের নাম বাংলাদেশ স্ট্রিট এবং ৫৫ রোডের নাম আসিফ রহমান ওয়ে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা তৈরি শুরু করেন। এর জন্য কেন ৭৩ স্ট্রিটের নাম ‘বাংলাদেশ স্ট্রিট’ করতে হবে তার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান। অবশেষে পার্ক কমিটি তার প্রস্তাবনা মেনে নেয় এবং শুনানিতে তোলে। ৩১ জানুয়ারি শুনানিতে তা গৃহীত হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি তা ফুল কাউন্সিলে ৪৭-০ ভোটে পাশ হয়। এ সময় কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান সিটি কাউন্সিল চেম্বারে ৭৩ স্ট্রিটকে বাংলাদেশ স্ট্রিট ও ৫৫ রোডকে আসিফ রহমান ওয়ে ঘোষণার পক্ষে চমৎকার দুটি বক্তব্য রাখেন।