ভালুকায়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে থেকেও ঢাকা ভার্সিটিতে সুযোগ, দুশ্চিন্তায় দরিদ্র পিতা
-
Reporter Name - Update Time : ০৩:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪
- ২০২ Time View

জিএম, ভালুকা প্রতিনিধিঃ দারিদ্রা নিত্যসঙ্গী হলেও দমে যাননি মেধাবী নয়ন আহমেদ। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে ধাপে ধাপে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চলতি বছর মেধাতালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি। সুযোগ পেয়েছেন নয়ন। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দরিদ্র তোফাজ্জল হোসেন-স্বপ্না আক্তার দম্পতির সন্তান। বর্তমানে ছেলের ভর্তি, বইপত্র, লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর মা-বাবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার ধীতপুর গ্রামে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে চার ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বর্গাচাষির পাশাপাশি দিনমজুরি করেন। তাঁর বড় ছেলে রতন আহমেদ দিনমজুর। সামান্য আয় দিয়ে চলে তাঁর ছয় সদস্যের সংসার। তোফাজ্জল হোসেনের চার ছেলের মধ্যে নয়ন আহমেদ দ্বিতীয়। অর্থনৈতিক দীনতায় অন্যের কাছ থেকে পুরনো গাইড, নোট সংগ্রহ এবং কোনো প্রকার কোচিং করা ছাড়াই চলতি বছর তিনি মেধাতালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ খরচ নিয়ে মা-বাবা চিন্তায় পড়েছেন। নয়ন আহমেদ জানান, পঞ্চম শ্রেণি থেকেই টিউশনি ও দিনমজুরের কাজ করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছেন তিনি। এসএসসি পর্যন্ত বিজ্ঞান শাখায় অধ্যয়ন করলেও খরচের চিন্তায় এইচএসসিতে বিজ্ঞান ছেড়ে মানবিকে ভর্তি হন তিনি। দুটি এনজিও থেকে মায়ের উত্তোলন করা ঋণের টাকায় কলেজে ভর্তি, বইপত্র কিনে পাঁচ মাস ময়মনসিংহ শহরে ভাড়ায় অবস্থান করে কলেজে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তাঁর। এরপর টাকার অভাবে বাড়িতে অবস্থান করেই তিনি ময়মনসিংহে গিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ মা-বাবার সঙ্গে নয়ন আহমেদ। ছবি: কালের কণ্ঠ নেন। নয়ন জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, আমার জমি-জিরাত নাই। এর আগে একটা ভাঙা ছাপরা ঘর-অ কষ্ট কইরা দিন কাডাইছি। অহন আমি সরহারের দেওয়া একটা দলান ঘর-অ, রান্দাগর ও বারিন্দাত মিলাইয়া পুলাপাইন লইয়া থাহি। মাইন্যের জমি বাগে আর কামকাজ কইরা খাই। আমার পুতটা একটা বড় কলেজ-অ পরার সুযোগ পাইছে। টেহা পইসা নাই। অহন কিদ্দে-য়া যে তারে পরাইয়াম হেই চিন্তায় আমার চউকে ঘুম নাই।’














