Hi

ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে মোটরসাইকেলের নিয়ত্রণ হারিয়ে এক যুবকের মৃত্যু ও দু’জন আহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩
  • ২২৩ Time View

শানীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা) যশোরের কেশবপুরে স্বর্ণের দোকানের কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রসেনজিৎ দে (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং উৎপল দত্ত (২৬) ও অপু পাল (১৯) নামের দুই যুবক আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার দোরমুটিয়া গ্রামে কেশবপুর ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় কেশবপুর টু ত্রিমোহিনী পাকা সড়কে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত প্রসেনজিৎ হলেন সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার মৌতলা গ্রামের প্রশান্ত দে এর ছেলে। আহতরা হলেন কেশবপুর উপজেলা মির্জানগর গ্রামের দীনবন্ধু দত্ত এর ছেলে উৎপল দত্ত ও জয়দেব পাল এর ছেলে অপু পাল। আহতরা কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার মৌতলা গ্রামের প্রশান্ত দে এর ছেলে প্রসেনজিৎ দে (২৩) এসএসসি পরিক্ষার পর কেশবপুর থানার মির্জানগর গ্রামে মামার বাড়ি থেকে কেশবপুর শহরের স্বর্ণপট্টিতে তাপস পালের কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে স্বর্ণের কারিগর হিসাবে কাজ করতেন এবং কেশবপুর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের দীনবন্ধু দত্ত এর ছেলে উৎপল দত্ত (২৬) এবং জয়দেব পাল এর ছেলে অপু পাল (১৯) কেশবপুর বাজারে স্বর্নের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় কাজ শেষে বৃষ্টির মধ্যে ৩১ জুলাই (সোমবার) অনুমান রাত সাড়ে ১২টার দিকে উৎপল দত্ত, প্রসেনজিৎ দে ও অপু পাল একটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন বাজাজ পালসার-১৫০ সিসির মোটরসাইকেলযোগে মির্জানগর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে কেশবপুর টু ত্রিমোহনী সড়কে কেশবপুর ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাইলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন জনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। ওইসময় প্রসেনজিৎ দে এর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুত্বর আহত হন এবং উৎপল দত্ত ও অপু পাল সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসেনজিৎ মারা যায় এবং বাকি দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার আহসানুল মিজান রুমি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত প্রসেনজিৎ জরুরি বিভাগে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছে এবং সামান্য আহত উৎপল দত্ত ও অপু পাল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যায়। নিহতের বিষয়ে কারখানা মালিক তাপস পাল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রসেনজিৎ এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরে আমার প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ শিখছিলেন। সে এসএসসি পরিক্ষায় পাশও করেছে। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ সৎকারের জন্য নিজ এলাকায় নেওয়া হয়েছে।  এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কেশবপুরে মোটরসাইকেলের নিয়ত্রণ হারিয়ে এক যুবকের মৃত্যু ও দু’জন আহত

Update Time : ০২:২০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩

শানীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা) যশোরের কেশবপুরে স্বর্ণের দোকানের কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রসেনজিৎ দে (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে এবং উৎপল দত্ত (২৬) ও অপু পাল (১৯) নামের দুই যুবক আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার দোরমুটিয়া গ্রামে কেশবপুর ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় কেশবপুর টু ত্রিমোহিনী পাকা সড়কে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত প্রসেনজিৎ হলেন সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার মৌতলা গ্রামের প্রশান্ত দে এর ছেলে। আহতরা হলেন কেশবপুর উপজেলা মির্জানগর গ্রামের দীনবন্ধু দত্ত এর ছেলে উৎপল দত্ত ও জয়দেব পাল এর ছেলে অপু পাল। আহতরা কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার মৌতলা গ্রামের প্রশান্ত দে এর ছেলে প্রসেনজিৎ দে (২৩) এসএসসি পরিক্ষার পর কেশবপুর থানার মির্জানগর গ্রামে মামার বাড়ি থেকে কেশবপুর শহরের স্বর্ণপট্টিতে তাপস পালের কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে স্বর্ণের কারিগর হিসাবে কাজ করতেন এবং কেশবপুর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের দীনবন্ধু দত্ত এর ছেলে উৎপল দত্ত (২৬) এবং জয়দেব পাল এর ছেলে অপু পাল (১৯) কেশবপুর বাজারে স্বর্নের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় কাজ শেষে বৃষ্টির মধ্যে ৩১ জুলাই (সোমবার) অনুমান রাত সাড়ে ১২টার দিকে উৎপল দত্ত, প্রসেনজিৎ দে ও অপু পাল একটি রেজিষ্ট্রেশন বিহীন বাজাজ পালসার-১৫০ সিসির মোটরসাইকেলযোগে মির্জানগর গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে কেশবপুর টু ত্রিমোহনী সড়কে কেশবপুর ব্রিকস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাইলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন জনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। ওইসময় প্রসেনজিৎ দে এর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়ে গুরুত্বর আহত হন এবং উৎপল দত্ত ও অপু পাল সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তাদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসেনজিৎ মারা যায় এবং বাকি দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার আহসানুল মিজান রুমি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত প্রসেনজিৎ জরুরি বিভাগে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছে এবং সামান্য আহত উৎপল দত্ত ও অপু পাল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যায়। নিহতের বিষয়ে কারখানা মালিক তাপস পাল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রসেনজিৎ এবার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরে আমার প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ শিখছিলেন। সে এসএসসি পরিক্ষায় পাশও করেছে। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ সৎকারের জন্য নিজ এলাকায় নেওয়া হয়েছে।  এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় নিহতের মরদেহ পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।