Hi

ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১২৮ Time View

মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ সোহান হোসেন: আজ ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মাগুরা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ৮ নং সেক্টরের অধীনে মাগুরা জেলার প্রায় ২৫০০ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের দাবি স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো চিহ্নিতকরণের।

২৩ এপ্রিল পাক বাহিনী মাগুরা জেলায় প্রবেশ করে ভকেশনাল, পিটিআই, মাইক্রোওয়েভ কেন্দ্রে ক্যাম্প স্থাপন করে হানাদার বাহিনী। পাক অফিসাররা নোমানি ময়দানের বর্তমান পানি ভবনের বাংলোয় অবস্থান নেয়। পাক বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে মাগুরা পিটিআই ও টিঅ্যান্ডটি অফিসে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। পিটিআই স্কুল মাঠ, ক্যানাল, ঢাকারোড় ব্রিজ আড়পাড়া ব্রিজ ঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি করে ফেলে রাখতো তারা। এছাড়া কামান্নায় পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ২৭ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরবর্তীতে তালখড়ি ও ৩ নম্বর ব্রিজের কাছে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।

৯ মাসের যুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর মাগুরার সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে শ্রীপুরের আকবর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী এবং মুজিব বাহিনীর সম্মলিত ভাবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাক বাহিনী ৭ তারিখ সকাল থেকেই মাগুরা ছেড়ে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করে। এ সময় তারা অসংখ্য ঘরবাড়ির উপর যুদ্ধ বিমান থেকে বোমা ফেলে এবং তাদের গুলিতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও বহু মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তযোদ্ধারা সকাল থেকেই নোমানী ময়দানে হাজির হতে থাকেন। এবং পতাকা উড়িয়ে ও গুলি ছুড়ে বিজয় উল্লাস প্রকাশ করেন। মাগুরা শত্রুমুক্ত হয়।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ ও চিহ্নিতকরণ না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়া ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির ও ভাতার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা।

তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নের পাশাপাশি চেতনা বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানালেন মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এস এম আব্দুর রহমান।

এবারের মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহরের নোমানী ময়দানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী স্মৃতি চারণ, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলা, প্রদিপ প্রজ্জ্বলন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ফুলপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির  মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  

৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস

Update Time : ০১:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ সোহান হোসেন: আজ ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে মাগুরা পাক হানাদার মুক্ত হয়। ৮ নং সেক্টরের অধীনে মাগুরা জেলার প্রায় ২৫০০ মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের দাবি স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো চিহ্নিতকরণের।

২৩ এপ্রিল পাক বাহিনী মাগুরা জেলায় প্রবেশ করে ভকেশনাল, পিটিআই, মাইক্রোওয়েভ কেন্দ্রে ক্যাম্প স্থাপন করে হানাদার বাহিনী। পাক অফিসাররা নোমানি ময়দানের বর্তমান পানি ভবনের বাংলোয় অবস্থান নেয়। পাক বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে মাগুরা পিটিআই ও টিঅ্যান্ডটি অফিসে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। পিটিআই স্কুল মাঠ, ক্যানাল, ঢাকারোড় ব্রিজ আড়পাড়া ব্রিজ ঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি করে ফেলে রাখতো তারা। এছাড়া কামান্নায় পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ২৭ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরবর্তীতে তালখড়ি ও ৩ নম্বর ব্রিজের কাছে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।

৯ মাসের যুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর মাগুরার সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে শ্রীপুরের আকবর বাহিনী, মহম্মদপুরের ইয়াকুব বাহিনী, মাগুরা শহরের খন্দকার মাজেদ বাহিনী এবং মুজিব বাহিনীর সম্মলিত ভাবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাক বাহিনী ৭ তারিখ সকাল থেকেই মাগুরা ছেড়ে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করে। এ সময় তারা অসংখ্য ঘরবাড়ির উপর যুদ্ধ বিমান থেকে বোমা ফেলে এবং তাদের গুলিতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও বহু মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তযোদ্ধারা সকাল থেকেই নোমানী ময়দানে হাজির হতে থাকেন। এবং পতাকা উড়িয়ে ও গুলি ছুড়ে বিজয় উল্লাস প্রকাশ করেন। মাগুরা শত্রুমুক্ত হয়।

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণ ও চিহ্নিতকরণ না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়া ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির ও ভাতার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা।

তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়নের পাশাপাশি চেতনা বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানালেন মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এস এম আব্দুর রহমান।

এবারের মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহরের নোমানী ময়দানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী স্মৃতি চারণ, আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলা, প্রদিপ প্রজ্জ্বলন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।