Hi

ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১৪৫ Time View

শেরপুর প্রতিনিধিঃ

শেরপুর সদর উপজেলার ১৪নং বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন দুলাল নানান জটিলতায় ছুটিতে থাকার কারণে আসাদুজ্জামান অপু মেম্বার (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) জেলা প্রশাসনের ইস্যুকৃত চিঠি পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের দোসর দাবি করে ঝাড়ু মিছিল ও পরিষদ ভবনে তালা ঝুলিয়েছে এলাকাবাসী। এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় এবং চেয়ারম্যানের প্রিয়জন হওয়ার সুবাদে পরিষদের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে অন্যান্য ইউপি সদস্যদের বঞ্চিত করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এমন কোন কাজ নেই যা সে করেননি। গত ৫আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর স্থানীয় কিছু বিএনপির দলীয় নেতাদের উৎকোচ দেয়ার কারনে তারা অপুকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে বসিয়েছেন। এছাড়াও আসাদুজ্জামান অপু মেম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ডেলিকেট ভোটার ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

এসময় উৎসুক জনতারা আরও বলেন, আমরা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এমন ব্যক্তিকে এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাইনা। আমরা বিএনপির নিবেদিত প্রাণ এমন ইউপি সদস্যকে চেয়ারম্যানের আসনে দেখতে চাই। যাতে করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো তার ধারা উপকৃত হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অপু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা সঠিক না। সম্পুর্ণরুপে মিথ্যা বানোয়াট। আর আমি কোন দিনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। তবে তিনি নিজেকে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সদস্য বলে দাবি করেন।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন অবরুদ্ধ করায় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ওমর ফারুক বলেন, আমি এ মূহুর্তে চরম আতংকে আছি। এমন পরিস্থিতি থাকলে আমার পক্ষে অফিস করা কোন মতেই সম্ভব না। আমি স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সকল ইউপি সদস্যদের সম্মতির ভিত্তিতে যাকে প্যানেল চেয়ারম্যান -১ দিয়েছেন সেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। যদি সে স্বেচ্ছায় তার পদ থেকে অব্যাহতি নেয় তাহলে প্যানেল চেয়ারম্যান -২ দায়িত্ব নিবেন। আমি শুনেছি সেখানে আরেকটি পক্ষের লোকজন ঝাড়ু মিছিল করেছেন এবং পরিষদ ভবনও ঘেরাও করেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনের যে ভূমিকা রাখা দরকার সেই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

শ্রদ্ধা,ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত বিদায়ে চিরনিদ্রায় সুজাউদ্দিন সুজা

শেরপুরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

Update Time : ১০:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

শেরপুর প্রতিনিধিঃ

শেরপুর সদর উপজেলার ১৪নং বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন দুলাল নানান জটিলতায় ছুটিতে থাকার কারণে আসাদুজ্জামান অপু মেম্বার (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) জেলা প্রশাসনের ইস্যুকৃত চিঠি পেয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের দোসর দাবি করে ঝাড়ু মিছিল ও পরিষদ ভবনে তালা ঝুলিয়েছে এলাকাবাসী। এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় এবং চেয়ারম্যানের প্রিয়জন হওয়ার সুবাদে পরিষদের সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে অন্যান্য ইউপি সদস্যদের বঞ্চিত করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এমন কোন কাজ নেই যা সে করেননি। গত ৫আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর স্থানীয় কিছু বিএনপির দলীয় নেতাদের উৎকোচ দেয়ার কারনে তারা অপুকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে বসিয়েছেন। এছাড়াও আসাদুজ্জামান অপু মেম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ডেলিকেট ভোটার ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।

এসময় উৎসুক জনতারা আরও বলেন, আমরা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এমন ব্যক্তিকে এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাইনা। আমরা বিএনপির নিবেদিত প্রাণ এমন ইউপি সদস্যকে চেয়ারম্যানের আসনে দেখতে চাই। যাতে করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো তার ধারা উপকৃত হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অপু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা সঠিক না। সম্পুর্ণরুপে মিথ্যা বানোয়াট। আর আমি কোন দিনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। তবে তিনি নিজেকে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির সদস্য বলে দাবি করেন।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন অবরুদ্ধ করায় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ওমর ফারুক বলেন, আমি এ মূহুর্তে চরম আতংকে আছি। এমন পরিস্থিতি থাকলে আমার পক্ষে অফিস করা কোন মতেই সম্ভব না। আমি স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভূঁইয়া জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সকল ইউপি সদস্যদের সম্মতির ভিত্তিতে যাকে প্যানেল চেয়ারম্যান -১ দিয়েছেন সেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। যদি সে স্বেচ্ছায় তার পদ থেকে অব্যাহতি নেয় তাহলে প্যানেল চেয়ারম্যান -২ দায়িত্ব নিবেন। আমি শুনেছি সেখানে আরেকটি পক্ষের লোকজন ঝাড়ু মিছিল করেছেন এবং পরিষদ ভবনও ঘেরাও করেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসনের যে ভূমিকা রাখা দরকার সেই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।