কেশবপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
-
Reporter Name - Update Time : ০৭:৫২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩
- ২৪৬ Time View

শামীম আখতার বিভাগীয় প্রধান (খুলনা)
যশোরের কেশবপুরে “ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযথ মর্যাদায় ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে। ৮ মার্চ (বুধবার) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় এর আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আরিফুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার শোভা রায় এঁর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক চম্পা, উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, কপোতাক্ষ নারী উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী সুফিয়া পারভীন শিখা, জীবিকা নারী উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী মনিরা খানম, পরিত্রাণ এর প্রজেক্ট ম্যানেজার উজ্জ্বল কুমার দাশ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালি রানী।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, কেশবপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ তারিকুল ইসলাম, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার পুলোক কুমার সিকদার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: সাহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ আব্দুস সামাদসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন নারী উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারী উদ্যোক্তাগণ।
উল্লেখ্য, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে এবং নারীদের সম-অধিকারের জন্য সারা বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। শিল্প সাহিত্য সহ সব ধরনের ক্ষেত্রে সমাজের সমস্ত কাজে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই দিনটি পালিত হয়। তবে, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চলে সরকারের লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। দীর্ঘদিন পর ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। তারপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। সেই সম্মেলনে ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।
১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগলো। বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করে দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানান জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে। দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে সারা বিশ্বের সকল দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

















