Hi

ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের মামলায় ফেঁসে গেছেন বয়োবৃদ্ধ রিকসা চালক মোকলেছার রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
  • ১২৯ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

নিরপরাধ ব্যক্তিদের মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে মারিজোয়ানা বা গাঁজা। কারো কাছে গাঁজা পাওয়া গেলে ‘অনুমান’, ‘বিশ্বাস’ আর ‘সন্দেহ’র ভিত্তিতেই ঠুঁকে দেয়া হচ্ছে মামলা। এরকমই একটি মামলায় ফেঁসে গেছেন বয়োবৃদ্ধ রিকসা চালক মোঃ মোকলেছার রহমান। ঈদের পরে ঢাকা যাওয়ার সময় বাসের সীটের নীচে রাখা কাঁচা গাঁজায় ফেঁসে গেছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব খলেয়া বটতলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ মোকলেছার রহমান। পেশায় তিনি একজন রিকসা চালক। গত ১০ জুলাই পাগলাপীর বন্দর থেকে রিজভী ট্রাভেলসের কে-১ নং সীটের টিকেট কেঁটে তিনি বাসে উঠেন। রংপুর টু ঢাকা গামি রাস্তার সাদুল্লাপুর থানার অধিনে ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর এলাকার সজিব ইটভাটার কাছে রিজভী ট্রাভেলসের বাসটিকে থামিয়ে চেকিং করে পুলিশ। এসময় রিকসা চালক মোঃ মোকলেছার রহমানের দেহ তল্লাশী করা হয়। পরে তার সীটের নীচে চেকিং করে ১ দশমিক ৭ কেজি কাঁচা গাঁজা পায় পুলিশ। তাকে গাঁজাসহ আঁটক করে আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলহাজতে পাঠানো হয়। মোকলেছার রহমানের পরিবারের দাবি, কোনদিন এমন কাজ হতে পারে না। মোকলেছার রহমান একজন সাধারণ শ্রমজীবি রিকসা চালক। তার উপার্জনের উপর নির্ভর করছে গোটা পরিবার। স্বাভাবিক ভাবে ঢাকায় গিয়ে রিকসা চালানোর উদ্দেশ্যে রিজভী পরিবহনের টিকেট কেটে তিনি বাসে উঠেছিলেন। কে বা কারা তার সীটের নীচে গাঁজা রেখেছে তিনি জানতেন না। জানলে তিনি ওই বাসে উঠতেন না। তাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে মামলা থেকে খালাসের দাবি করেন তারা। নইলে পরিবারসহ না খেয়ে মরতে হবে তাদের। তবে পুলিশের দেয়া এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মোকলেছার রহমানের দেহ তল্লাশী করে তার পায়ের মাঝখান হতে লাল ও কমলা রংয়ের প্লাষ্টিকের পুরাতন বাজার করা ব্যাগের ভিতরে সাদা কাপড়ের ব্যাগদ্বারা মোড়ানো অবস্থায় এক পোটলা অবৈধ মাদকদ্রব্য ১ দশমিক ৭ কেজি কাঁচা গাজা জব্দ করা হয়েছে। এদিকে, খলেয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তালেবুল হক ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেবিউল হক প্রত্যয়ন দিয়ে জানিয়েছেন, যেহেতু মোঃ মোকলেছার রহমানের নামে আগে এ রকম কোন অভিযোগ নেই এবং পুলিশ ও বলেছে-আসামীর কোন পিসিপিআর নেই সুতারাং রিকসা চালক মোঃ মোকলেছার রহমান অন্য কারো জন্য পেতে রাখা মাদকের জালে ফেঁসে গেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, দরিদ্র শ্রমজীবি হলেও গাঁজা বহনের মতো কোন অপরাধ সে করতে পারে না। তিনি কোন রাষ্ট্র বিরোধী বা সমাজ বিরোধী ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ডিকেএমসি হসপিটাল চিকিৎসা বিষয়ক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

মাদকের মামলায় ফেঁসে গেছেন বয়োবৃদ্ধ রিকসা চালক মোকলেছার রহমান

Update Time : ০২:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

নিরপরাধ ব্যক্তিদের মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে মারিজোয়ানা বা গাঁজা। কারো কাছে গাঁজা পাওয়া গেলে ‘অনুমান’, ‘বিশ্বাস’ আর ‘সন্দেহ’র ভিত্তিতেই ঠুঁকে দেয়া হচ্ছে মামলা। এরকমই একটি মামলায় ফেঁসে গেছেন বয়োবৃদ্ধ রিকসা চালক মোঃ মোকলেছার রহমান। ঈদের পরে ঢাকা যাওয়ার সময় বাসের সীটের নীচে রাখা কাঁচা গাঁজায় ফেঁসে গেছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব খলেয়া বটতলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ মোকলেছার রহমান। পেশায় তিনি একজন রিকসা চালক। গত ১০ জুলাই পাগলাপীর বন্দর থেকে রিজভী ট্রাভেলসের কে-১ নং সীটের টিকেট কেঁটে তিনি বাসে উঠেন। রংপুর টু ঢাকা গামি রাস্তার সাদুল্লাপুর থানার অধিনে ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর এলাকার সজিব ইটভাটার কাছে রিজভী ট্রাভেলসের বাসটিকে থামিয়ে চেকিং করে পুলিশ। এসময় রিকসা চালক মোঃ মোকলেছার রহমানের দেহ তল্লাশী করা হয়। পরে তার সীটের নীচে চেকিং করে ১ দশমিক ৭ কেজি কাঁচা গাঁজা পায় পুলিশ। তাকে গাঁজাসহ আঁটক করে আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলহাজতে পাঠানো হয়। মোকলেছার রহমানের পরিবারের দাবি, কোনদিন এমন কাজ হতে পারে না। মোকলেছার রহমান একজন সাধারণ শ্রমজীবি রিকসা চালক। তার উপার্জনের উপর নির্ভর করছে গোটা পরিবার। স্বাভাবিক ভাবে ঢাকায় গিয়ে রিকসা চালানোর উদ্দেশ্যে রিজভী পরিবহনের টিকেট কেটে তিনি বাসে উঠেছিলেন। কে বা কারা তার সীটের নীচে গাঁজা রেখেছে তিনি জানতেন না। জানলে তিনি ওই বাসে উঠতেন না। তাকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে মামলা থেকে খালাসের দাবি করেন তারা। নইলে পরিবারসহ না খেয়ে মরতে হবে তাদের। তবে পুলিশের দেয়া এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মোকলেছার রহমানের দেহ তল্লাশী করে তার পায়ের মাঝখান হতে লাল ও কমলা রংয়ের প্লাষ্টিকের পুরাতন বাজার করা ব্যাগের ভিতরে সাদা কাপড়ের ব্যাগদ্বারা মোড়ানো অবস্থায় এক পোটলা অবৈধ মাদকদ্রব্য ১ দশমিক ৭ কেজি কাঁচা গাজা জব্দ করা হয়েছে। এদিকে, খলেয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোত্তালেবুল হক ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেবিউল হক প্রত্যয়ন দিয়ে জানিয়েছেন, যেহেতু মোঃ মোকলেছার রহমানের নামে আগে এ রকম কোন অভিযোগ নেই এবং পুলিশ ও বলেছে-আসামীর কোন পিসিপিআর নেই সুতারাং রিকসা চালক মোঃ মোকলেছার রহমান অন্য কারো জন্য পেতে রাখা মাদকের জালে ফেঁসে গেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, দরিদ্র শ্রমজীবি হলেও গাঁজা বহনের মতো কোন অপরাধ সে করতে পারে না। তিনি কোন রাষ্ট্র বিরোধী বা সমাজ বিরোধী ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল না।