Hi

ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যা মামলার আবেদনে শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য আসামি যারা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪
  • ১১৮ Time View

মোঃ সাকিব খান মাগুরা জেলা প্রতিনিধি কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আবু সায়েদ নামে এক মুদি দোকানি নিহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এক ব্যবসায়ীরা করা মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক দুই মন্ত্রীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে অনেককে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন এস এম আমীর হামজা শাতিল নামে আদাবর এলাকার এক বাসিন্দা। সচেতন নাগরিক হিসেবে নিরীহ এক নাগরিককে হত্যার দায়ে তিনি মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এর শুনানি হবে বলে জানা গেছে।  মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিএমপির ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। এছাড়া অজ্ঞাতনামা পুলিশ কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য ও তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হলো। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সমাবেশ করে। ওই সব শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। বহু ছাত্র জনতা হতাহত হন। গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বসিলার ৪০ ফিট এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে। তখন রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয় মুদি দোকানি আবু সায়েদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, নিহত সায়েমকে তার গ্রামের বাড়িতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নতুন বস্তি প্রধান হাটে নিয়ে দাফন করা হয়। তার মা, স্ত্রী, ছেলে সন্তান সেখানেই থাকেন। এ কারণে তারা ঢাকায় এসে মামলা করতে অপারগ। তাই বিবেকের তাড়নায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বাদী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান কামালের নির্দেশে পুলিশের আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধীনস্থ পুলিশদের নির্দেশ দিয়ে মিছিলে গুলি চালায়। পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কাজেই এর বিচার সঠিব হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

হত্যা মামলার আবেদনে শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য আসামি যারা

Update Time : ০৪:০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪

মোঃ সাকিব খান মাগুরা জেলা প্রতিনিধি কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আবু সায়েদ নামে এক মুদি দোকানি নিহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এক ব্যবসায়ীরা করা মামলাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক দুই মন্ত্রীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে অনেককে। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন এস এম আমীর হামজা শাতিল নামে আদাবর এলাকার এক বাসিন্দা। সচেতন নাগরিক হিসেবে নিরীহ এক নাগরিককে হত্যার দায়ে তিনি মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে এর শুনানি হবে বলে জানা গেছে।  মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিএমপির ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। এছাড়া অজ্ঞাতনামা পুলিশ কর্মকর্তা বা পুলিশের সদস্য ও তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর এই প্রথম তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হলো। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা মিছিল সমাবেশ করে। ওই সব শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। বহু ছাত্র জনতা হতাহত হন। গত ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে বসিলার ৪০ ফিট এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে। তখন রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয় মুদি দোকানি আবু সায়েদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, নিহত সায়েমকে তার গ্রামের বাড়িতে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নতুন বস্তি প্রধান হাটে নিয়ে দাফন করা হয়। তার মা, স্ত্রী, ছেলে সন্তান সেখানেই থাকেন। এ কারণে তারা ঢাকায় এসে মামলা করতে অপারগ। তাই বিবেকের তাড়নায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বাদী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করার বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান কামালের নির্দেশে পুলিশের আইজিপি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধীনস্থ পুলিশদের নির্দেশ দিয়ে মিছিলে গুলি চালায়। পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কাজেই এর বিচার সঠিব হবে।