রূপগঞ্জে বেনজীরের বাগান বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া গেল এসি সোফাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র
-
Reporter Name - Update Time : ১১:১০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
- ১৫৬ Time View

রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধ :বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের রূপগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্টের নামে ২৪ কাঠা জমির ওপর বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি জব্দ করার পর এর ভেতরে তল্লাশি চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও দুদকের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল।
আজ বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ৫ ঘণ্টাব্যাপী এ তল্লাশি চালানো হয়। এর আগে, গত ৬ জুলাই অভিযান চালিয়ে বাড়িটি সিলগালা করা হয়।
ভবনটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ, টিভি, রান্নাঘরের জিনিসপত্র, বইপত্র, একটি ঝারবাতি ও একসেট সোফা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে গত ৩১ মার্চ থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদক আইন অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করে। এতে তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়।
বেনজীরের বিপুল সম্পদের মধ্যে রয়েছে— গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামের এক অভিজাত পর্যটনকেন্দ্র। এ ছাড়া পূর্বাচলে রয়েছে ২৪ কাঠার মধ্যে সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পত্তি, ব্যাংক হিসেব, শেয়ারসহ অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক শুরু করে দুদক।
দুদক দুই দফা সম্পদের হিসেবে নিয়ে তলব করলেও বেনজীর ও তার পরিবারের কেউ হাজির হয়নি দুদক কার্যালয়ে। এর প্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই দুদকের নারায়ণগঞ্জের উপ-পরিচালক মাইনুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যর একটি দল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের এডিসি রাজস্ব শফিকুর আলমের নেতৃত্ব একটি দল ভবনটির প্রবেশ গেইটে সম্পত্তি ক্রোকের একটি সাইবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়। পরে পুরো ভবনটি পরিদর্শন করে ভবনটির দরজা অত্যাধুনিক তালা দিয়ে বন্ধ রাখায় ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় বুধবার পুনরায় অভিযান চালায় দুদক ও জেলা প্রশাসক। আজ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযান শেষে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুর আলম জানান, সাবেক আইজি বেনজির আহমেদের এই বাড়ির সকল ধরনের ফার্নিচার খুব সাধারণ মানের। দেশীয় প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ, টিভি, রান্নাঘরের জিনিসপত্র— একটি সাধারণ পরিবারের যেমন থাকে তেমনি আছে। কিছু বইপত্র, একটি ঝারবাতি ও একসেট সোফা ছাড়া বিশেষ কিছু নেই এই বাড়িতে।
এত দীর্ঘ সময় তল্লাশি ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে বাধার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর আলম বলেন, ‘প্রত্যকটা জিনিস নির্ভুলভাবে তালিকা করার জন্যই এত সময় ব্যয় ও সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকানো হয়নি।’
এ ব্যাপারে দুদকের উপ–পরিচালক মঈনুল হাসান জানান, মামলার আদেশের প্রেক্ষিতে তারা এই অভিযান চালিয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্ব ভবনটির ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র পেয়েছে। সেগুলোর তালিকা করা হয়েছে।
‘রিপোর্ট আমরা হেড অফিসে পাঠাব। পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা এলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’— বলেন মঈনুল হাসান।












