Hi

ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক প্রভাব, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি—শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪১ Time View

 বিশেষ প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের প্রাণহ‌রি আমিন একাডেমি স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আবু জাফরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে—অবৈধ প্রভাব খাটানো, রাজনীতির মাঠ গরম রাখা, সহকর্মীদের অপমান করা এবং শিক্ষাঙ্গনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মূল হোতা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও তার ঘনিষ্ঠ দোসররা এখনও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বজায় রাখছে। এমনই একজন হলেন আবু জাফর—বিগত সরকারের সময় ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারি থেকে শুরু করে রাজনীতির নামে নানা অপকর্মে সক্রিয় ছিলেন তিনি। নিজেকে আওয়ামী যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রমের সময়ও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ ও মিটিং আয়োজন করতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকর্মী জানান, আবু জাফরের কর্মকাণ্ড শিক্ষক কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এবং প্রযোজ্য আইন ভঙ্গ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে তিনি স্কুলের পরিচালনা ব্যবস্থায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং এমনকি প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক তার নির্দেশ অমান্য করলে চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, যার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শিক্ষা অফিসার, পরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা) চট্টগ্রাম, বোর্ড চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) বরাবর। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও আবু জাফরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি, তার ছেলেকে আমেরিকায় পাঠাতে ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন—যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একজন সাধারণ ক্রীড়া শিক্ষক এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে পেলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে উদঘাটিত হতে পারে। শিক্ষক নামের কলঙ্ক এই আবু জাফরের কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

রাজনৈতিক প্রভাব, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি—শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা

Update Time : ০৪:০১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

 বিশেষ প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের প্রাণহ‌রি আমিন একাডেমি স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আবু জাফরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে—অবৈধ প্রভাব খাটানো, রাজনীতির মাঠ গরম রাখা, সহকর্মীদের অপমান করা এবং শিক্ষাঙ্গনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মূল হোতা শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও তার ঘনিষ্ঠ দোসররা এখনও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বজায় রাখছে। এমনই একজন হলেন আবু জাফর—বিগত সরকারের সময় ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারি থেকে শুরু করে রাজনীতির নামে নানা অপকর্মে সক্রিয় ছিলেন তিনি। নিজেকে আওয়ামী যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রমের সময়ও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ ও মিটিং আয়োজন করতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকর্মী জানান, আবু জাফরের কর্মকাণ্ড শিক্ষক কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এবং প্রযোজ্য আইন ভঙ্গ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে তিনি স্কুলের পরিচালনা ব্যবস্থায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং এমনকি প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক তার নির্দেশ অমান্য করলে চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে, যার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শিক্ষা অফিসার, পরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা) চট্টগ্রাম, বোর্ড চেয়ারম্যান এবং মহাপরিচালক (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) বরাবর। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও আবু জাফরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি, তার ছেলেকে আমেরিকায় পাঠাতে ২০-২৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন—যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একজন সাধারণ ক্রীড়া শিক্ষক এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে পেলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে উদঘাটিত হতে পারে। শিক্ষক নামের কলঙ্ক এই আবু জাফরের কর্মকাণ্ডে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।