Hi

ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি, ময়মনসিংহ নগরীর সড়কগুলো হয়ে উঠছে মরণফাঁদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪
  • ১৩৮ Time View

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, চলাচল করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। রাতের বেলায় কিংবা বৃষ্টির পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে এই ঝুঁকির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মাদকাসক্ত এবং পেশাদার চোরেরা রাতের আঁধারে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন মহানগরের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। নগরীর সবকটি এলাকায় ম্যানহোল থাকলেও চুরি হয়ে গেছে ঢাকনা।

ময়মনসিংহ নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তা এবং ফুটপাতের নিচে ম্যানহোলের ঢাকনাসহ আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ড্রেনগুলো নির্মাণের কয়েক মাস যেতে না যেতেই বলাশপুর, আলিয়া মাদ্রাসা, ভাটিকাশরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় একের পর এক ঢাকনা চুরি হতে থাকে। এমনকি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কের রাস্তাটির ম্যানহোলের সবকটি ঢাকনা চুরি হয়েছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি। অথচ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি সড়ক গুলোতেও।

প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৪৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ম্যানহোলের ঢাকনাসহ বক্স সিস্টেমের ড্রেন। এসব ড্রেনের ম্যানহোলের ঢাকনা খোয়া যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। ঢাকনা না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ ধরনের অপকর্ম রোধে পুলিশ টহল বাড়ানোর কথা জানালেও সিটি করপোরেশন বলছে ভবিষ্যতে বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের কথা। সব মিলিয়ে বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে। রাস্তার মাঝে ও ফুটপাতে ঢাকনা না থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ঢাকনাবিহীন এই ম্যানহোলগুলো। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেকেই।

স্থানীয়রা বাঁশের খুঁটি, কাপড় টানিয়ে সতর্কতসংকেত দিলেও মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ঢাকনা না থাকায় বৃষ্টির সঙ্গে মাটি ও ময়লা জমে ভরাট হয়ে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে মশার উপদ্রব। ঘনঘন ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হলেও কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ এলাকাবাসী। এ থেকে পরিত্রাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। ঢাকনা চুরির সঙ্গে জড়িতরা মাদকাসক্ত দাবি করে টহল তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলেছে পুলিশ।

কোতোয়ালী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে চুরি হওয়া বেশ কয়েকটি ঢাকনাসহ দুই চোরকে আটক করা হয়েছিল। ঢাকনা কেনাবেচা বন্ধের লক্ষ্যে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে। কোতোয়ালী মডেল থানার (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। এমনকি ঢাকনা চুরি, কেনা-বেচা বন্ধের লক্ষ্যে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

এদিকে আর চুরি ঠেকাতে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের কথা বলছে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী। তিনি জানান, লোহার ঢাকনার বদলে সিমেন্ট ও কংক্রিট নির্মিত ঢাকনা ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও চুরি হওয়া স্থানে দ্রুত ঢাকনা প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। খুবই অল্প সময়ে প্রতিটি ম্যানহোলেই স্থাপন করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফুলপুরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি, ময়মনসিংহ নগরীর সড়কগুলো হয়ে উঠছে মরণফাঁদ

Update Time : ০৮:০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, চলাচল করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। রাতের বেলায় কিংবা বৃষ্টির পানিতে রাস্তা তলিয়ে গেলে এই ঝুঁকির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মাদকাসক্ত এবং পেশাদার চোরেরা রাতের আঁধারে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন মহানগরের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। নগরীর সবকটি এলাকায় ম্যানহোল থাকলেও চুরি হয়ে গেছে ঢাকনা।

ময়মনসিংহ নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাস্তা এবং ফুটপাতের নিচে ম্যানহোলের ঢাকনাসহ আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ড্রেনগুলো নির্মাণের কয়েক মাস যেতে না যেতেই বলাশপুর, আলিয়া মাদ্রাসা, ভাটিকাশরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় একের পর এক ঢাকনা চুরি হতে থাকে। এমনকি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কের রাস্তাটির ম্যানহোলের সবকটি ঢাকনা চুরি হয়েছে। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি। অথচ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি সড়ক গুলোতেও।

প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৪৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ম্যানহোলের ঢাকনাসহ বক্স সিস্টেমের ড্রেন। এসব ড্রেনের ম্যানহোলের ঢাকনা খোয়া যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। ঢাকনা না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ ধরনের অপকর্ম রোধে পুলিশ টহল বাড়ানোর কথা জানালেও সিটি করপোরেশন বলছে ভবিষ্যতে বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের কথা। সব মিলিয়ে বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঢাকনা চুরি হয়ে গেছে। রাস্তার মাঝে ও ফুটপাতে ঢাকনা না থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ঢাকনাবিহীন এই ম্যানহোলগুলো। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে আহত হয়েছেন অনেকেই।

স্থানীয়রা বাঁশের খুঁটি, কাপড় টানিয়ে সতর্কতসংকেত দিলেও মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে। ঢাকনা না থাকায় বৃষ্টির সঙ্গে মাটি ও ময়লা জমে ভরাট হয়ে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, বাড়ছে মশার উপদ্রব। ঘনঘন ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হলেও কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ এলাকাবাসী। এ থেকে পরিত্রাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। ঢাকনা চুরির সঙ্গে জড়িতরা মাদকাসক্ত দাবি করে টহল তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলেছে পুলিশ।

কোতোয়ালী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে চুরি হওয়া বেশ কয়েকটি ঢাকনাসহ দুই চোরকে আটক করা হয়েছিল। ঢাকনা কেনাবেচা বন্ধের লক্ষ্যে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে। কোতোয়ালী মডেল থানার (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে। এমনকি ঢাকনা চুরি, কেনা-বেচা বন্ধের লক্ষ্যে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

এদিকে আর চুরি ঠেকাতে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের কথা বলছে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী। তিনি জানান, লোহার ঢাকনার বদলে সিমেন্ট ও কংক্রিট নির্মিত ঢাকনা ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও চুরি হওয়া স্থানে দ্রুত ঢাকনা প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। খুবই অল্প সময়ে প্রতিটি ম্যানহোলেই স্থাপন করা হবে।