Hi

ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া পরীক্ষক নিয়োগ করে ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ : শিক্ষক রাশিদুল গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • ১৫০ Time View

 গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রশিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো. ইদ্রিস খান। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক রসিদুল ইসলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রশিদুল ইসলাম খান (৪৩) নীলফামারী জেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। এ সুযোগে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে আর্থিক সুবিধা আদায়ের নেপথ্যে জড়িয়ে পড়েন। অধ্যক্ষ জানান, কিছুদিন আগে আরবি প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ মৌখিক অভিযোগ করেন যে, তার স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম নিজেই তাকে চলতি পরীক্ষার জন্য অবৈধভাবে পরীক্ষক নিয়োগ দেখান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অধ্যক্ষ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রেরিত গোপন নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা মেলে। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মো. আব্দুর রউফ, মো. মোফাজ্জল হোসেন, শামসুল আলম, আব্দুল হাফিজ ও হারুনুর রশিদের নামসহ ১০/১২জনের নাম ব্যবহার করে, তাদের অজান্তে স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় অনৈতিক আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অধ্যক্ষের দাবি, দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে রশিদুল ইসলাম এমন প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অধ্যক্ষের ভাষ্যমতে, ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে লিখিত প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৪৮(৭)২০২৫ ধারা -৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু করা হয়। মামলাটি এস আই মাসুদ জামালী তদন্ত করছেন। ঘটনায় জড়িত রসিদুল ইসলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ফুলপুরে শনিবার  বৃক্ষরোপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

ভুয়া পরীক্ষক নিয়োগ করে ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ : শিক্ষক রাশিদুল গ্রেফতার

Update Time : ০৮:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

 গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষর জাল করে পরীক্ষক নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রশিদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো. ইদ্রিস খান। এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক রসিদুল ইসলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রশিদুল ইসলাম খান (৪৩) নীলফামারী জেলার রামগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। এ সুযোগে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের নামে আর্থিক সুবিধা আদায়ের নেপথ্যে জড়িয়ে পড়েন। অধ্যক্ষ জানান, কিছুদিন আগে আরবি প্রভাষক মো. আব্দুর রউফ মৌখিক অভিযোগ করেন যে, তার স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম নিজেই তাকে চলতি পরীক্ষার জন্য অবৈধভাবে পরীক্ষক নিয়োগ দেখান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অধ্যক্ষ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে প্রেরিত গোপন নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা মেলে। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মো. আব্দুর রউফ, মো. মোফাজ্জল হোসেন, শামসুল আলম, আব্দুল হাফিজ ও হারুনুর রশিদের নামসহ ১০/১২জনের নাম ব্যবহার করে, তাদের অজান্তে স্বাক্ষর জাল করে রশিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় অনৈতিক আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অধ্যক্ষের দাবি, দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে রশিদুল ইসলাম এমন প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এ সময়ের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অধ্যক্ষের ভাষ্যমতে, ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে লিখিত প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং ৪৮(৭)২০২৫ ধারা -৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু করা হয়। মামলাটি এস আই মাসুদ জামালী তদন্ত করছেন। ঘটনায় জড়িত রসিদুল ইসলম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।