Hi

ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁর মান্দায় বিএমডিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেচ লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০২৩
  • ১৬০ Time View

 নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দায় বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সেচ লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৫মে) বিকেলে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সেচ লাইসেন্স বঞ্চিত ভূক্তভোগী খাইরুল ইসলাম নামের এক কৃষক। তিনি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের চকজামদই গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভূক্তভোগী খাইরুল ইসলাম মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের চকজামদই গ্রামের একজন কৃষক। চকজামদই মৌজায় তার ১৬-১৮ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। যা সেচ ব্যবস্থাপনার অভাবে ভালোভাবে ফসল ফলাতে পারেন না। এমতাবস্থায় পার্শ্বেই ১৯৮৫ ফিট ও ১৬২০ ফিট এবং উজানে ১৫০০ ফিট (যেখান হতে পানি তার জমিতে আসে না) বিএমডিএ নলকূপ হতে সেচ না পাওয়ায় ভালোভাবে ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। তিনি নিজ উদ্যোগে উক্ত জমিতে সেচের জন্য অগভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করলে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে হয়। তার বাবা আবেদন করার পর বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের নিকট আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেও সাধমত টাকা না দেওয়ায় অন্যায় ভাবে মাঠ জরিপ না করেই মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তার লাইসেন্স প্রদানে অনিহা প্রকাশ করেছে। ভূক্তভোগী কৃষকের দাবি যে, বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনসহ ওই অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ বিনা টাকায় কাউকে লাইসেন্স প্রদান করেন না। এমতাবস্থায় তিনি তাদের টাকা আদান প্রদানের গোপন ভিডিও চিত্রও সংগ্রহ করেন। প্রতিটি লাইসেন্স প্রদানের নামে হাজার হাজার টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করছেন। টাকা প্রদানে ব্যার্থতায় লাইসেন্স প্রদানে উপজেলা কমিটির নিকট ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি। ইতোপূর্বে মাঠ জরিপের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটির গঠনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মাঠ জরিপের রিপোর্ট উপস্থাপন করা হতো । বর্তমানে তা করা হয় না। কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তার বদলির জন্য তড়িঘড়ি করে মোটা অংকের টাকা কামানোর জন্য নিজে নিজের মতো মাঠ জরিপ রিপোর্ট করে সেচ লাইসেন্স বাণিজ্য করে বর্তমানে তার বদলি আদেশাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেলে অসহায় কৃষকের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে পালানোর সুযোগ তৈরী হবে। বিধায় তার বদলি আদেশ কিছুদিনের জন্য স্থগিত করা প্রয়োজন। কৃষি প্রধান এ উপজেলার একজন কৃষক হিসেবে তিনি এর সুবিচার কামনা করেন। বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেচ লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের সুযোগ নেই। আমি তো বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সদস্য সচিব। আমার কাজ হচ্ছে সেচ লাইসেন্স এর জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে তা যাচাই- বাছাই করে উপজেলা সেচ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যার এর কাছে উপস্থাপন করা। এরপর উনিই সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন কোনটি অনুমোদন যোগ্য আর কোনটি বাতিল করা হবে। এখানে আমার কিছু করার নেই। আমি অনিয়ম করে থাকলে এতোদিন কেনো অভিযোগ করা হলো না। সম্প্রতি এ উপজেলা থেকে লালমনিরহাট জেলায় আমার প্রমোশন হয়েছে। এমতাবস্থায় আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফুলপুরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নওগাঁর মান্দায় বিএমডিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেচ লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ০৮:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০২৩

 নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর মান্দায় বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সেচ লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৫মে) বিকেলে বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সেচ লাইসেন্স বঞ্চিত ভূক্তভোগী খাইরুল ইসলাম নামের এক কৃষক। তিনি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের চকজামদই গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভূক্তভোগী খাইরুল ইসলাম মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের চকজামদই গ্রামের একজন কৃষক। চকজামদই মৌজায় তার ১৬-১৮ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। যা সেচ ব্যবস্থাপনার অভাবে ভালোভাবে ফসল ফলাতে পারেন না। এমতাবস্থায় পার্শ্বেই ১৯৮৫ ফিট ও ১৬২০ ফিট এবং উজানে ১৫০০ ফিট (যেখান হতে পানি তার জমিতে আসে না) বিএমডিএ নলকূপ হতে সেচ না পাওয়ায় ভালোভাবে ফসল ফলানো সম্ভব হয় না। তিনি নিজ উদ্যোগে উক্ত জমিতে সেচের জন্য অগভীর নলকূপ স্থাপনের চেষ্টা করলে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে হয়। তার বাবা আবেদন করার পর বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের নিকট আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেও সাধমত টাকা না দেওয়ায় অন্যায় ভাবে মাঠ জরিপ না করেই মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তার লাইসেন্স প্রদানে অনিহা প্রকাশ করেছে। ভূক্তভোগী কৃষকের দাবি যে, বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনসহ ওই অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলীগণ বিনা টাকায় কাউকে লাইসেন্স প্রদান করেন না। এমতাবস্থায় তিনি তাদের টাকা আদান প্রদানের গোপন ভিডিও চিত্রও সংগ্রহ করেন। প্রতিটি লাইসেন্স প্রদানের নামে হাজার হাজার টাকা কোন কোন ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা গ্রহণ করছেন। টাকা প্রদানে ব্যার্থতায় লাইসেন্স প্রদানে উপজেলা কমিটির নিকট ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন তিনি। ইতোপূর্বে মাঠ জরিপের জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটির গঠনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মাঠ জরিপের রিপোর্ট উপস্থাপন করা হতো । বর্তমানে তা করা হয় না। কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তার বদলির জন্য তড়িঘড়ি করে মোটা অংকের টাকা কামানোর জন্য নিজে নিজের মতো মাঠ জরিপ রিপোর্ট করে সেচ লাইসেন্স বাণিজ্য করে বর্তমানে তার বদলি আদেশাধীন রয়েছে। এমতাবস্থায় তিনি অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেলে অসহায় কৃষকের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে পালানোর সুযোগ তৈরী হবে। বিধায় তার বদলি আদেশ কিছুদিনের জন্য স্থগিত করা প্রয়োজন। কৃষি প্রধান এ উপজেলার একজন কৃষক হিসেবে তিনি এর সুবিচার কামনা করেন। বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেচ লাইসেন্স প্রদানে অনিয়মের সুযোগ নেই। আমি তো বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ মান্দা জোন এর সদস্য সচিব। আমার কাজ হচ্ছে সেচ লাইসেন্স এর জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে তা যাচাই- বাছাই করে উপজেলা সেচ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্যার এর কাছে উপস্থাপন করা। এরপর উনিই সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন কোনটি অনুমোদন যোগ্য আর কোনটি বাতিল করা হবে। এখানে আমার কিছু করার নেই। আমি অনিয়ম করে থাকলে এতোদিন কেনো অভিযোগ করা হলো না। সম্প্রতি এ উপজেলা থেকে লালমনিরহাট জেলায় আমার প্রমোশন হয়েছে। এমতাবস্থায় আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।