Hi

ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চৌগাছায় গৃহবধূ রহিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই: ভাসুর গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩
  • ১৫৪ Time View

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা)

যশোরের চৌগাছায় গৃহবধূ রহিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করে ভাসুর রুস্তম আলী (৪২) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ৯ মে সন্ধ্যায় পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এর নেতৃত্ত্বে এসআই সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ সঙ্গীয় এসআই গোলাম আলীসহ চৌকস দল চৌগাছার বড় কাবিলপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।

পিবিআই অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৫ মার্চ চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের মো: মহিউদ্দিন এর স্ত্রী রহিমা খাতুনের সাথে ভাসুর রুস্তম আলীর ঝগড়া হয় এবং বেলা অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় রহিমা খাতুনের শয়ন কক্ষ হতে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রহিমার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে দেখে রহিমা আহত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে রয়েছে। আহত অবস্থায় রহিমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে রহিমাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বিকাল অনুমান ০৫.২০ ঘটিকার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রহিমাকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ সুরতহাল করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত রহিমার শরীরে আঘাত, গলায় ফাঁসের চিহ্ন এবং মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া যায় মর্মে উল্লেখ করে। অত্র মামলার বাদী গত ৯মে পিবিআই অফিসে এসে রহিমার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আবেদন করলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। এসআই (নিঃ) মোঃ সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ তদন্তকালে ঘটনাটি হত্যা মনে হওয়ায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রুস্তমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে নিহত রহিমার চাচা মো: নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২। মামলাটি যশোর জেলা পিবিআই স্ব-উদ্দ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) মোঃ সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ এর উপর অর্পণ করেন।

আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১০ বছর আগে রহিমা খাতুন (২৭) এর সাথে চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের মোঃ মোবারক আলীর ছেলে মো: মহিউদ্দিন (৩৮) সহিত বিবাহ হয়। সম্পর্কে রুস্তম আলী মৃত রহিমা খাতুনের ভাসুর। গত ২৫ মার্চ সকালে রহিমা খাতুনের সাথে রুস্তম আলীর ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে রহিমা খাতুনের শয়ন কক্ষ হতে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রহিমার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে আহত অবস্থায় রহিমাকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে। ওইসময় রুস্তম আলী ঘর থেকে দ্রুত বের হয়ে চলে যায় এবং রহিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলো মর্মে রুস্তম আলী পরিবারের লোকজনকে জানায়। সরেজমিন তদন্ত ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় রহিমা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।

এ ব্যাপারে পিবিআই যশোর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, গৃহবধূ রহিমা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অপরাধে রুস্তম আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (১০ মে) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ফুলপুরে শনিবার  বৃক্ষরোপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

চৌগাছায় গৃহবধূ রহিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই: ভাসুর গ্রেফতার

Update Time : ০৫:২৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা)

যশোরের চৌগাছায় গৃহবধূ রহিমা হত্যার রহস্য উদঘাটন করে ভাসুর রুস্তম আলী (৪২) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ৯ মে সন্ধ্যায় পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এর নেতৃত্ত্বে এসআই সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ সঙ্গীয় এসআই গোলাম আলীসহ চৌকস দল চৌগাছার বড় কাবিলপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।

পিবিআই অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত ২৫ মার্চ চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের মো: মহিউদ্দিন এর স্ত্রী রহিমা খাতুনের সাথে ভাসুর রুস্তম আলীর ঝগড়া হয় এবং বেলা অনুমান ১২.০০ ঘটিকার সময় রহিমা খাতুনের শয়ন কক্ষ হতে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রহিমার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে দেখে রহিমা আহত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে রয়েছে। আহত অবস্থায় রহিমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে রহিমাকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বিকাল অনুমান ০৫.২০ ঘটিকার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রহিমাকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ সুরতহাল করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে মৃত রহিমার শরীরে আঘাত, গলায় ফাঁসের চিহ্ন এবং মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া যায় মর্মে উল্লেখ করে। অত্র মামলার বাদী গত ৯মে পিবিআই অফিসে এসে রহিমার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আবেদন করলে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। এসআই (নিঃ) মোঃ সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ তদন্তকালে ঘটনাটি হত্যা মনে হওয়ায় ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রুস্তমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে নিহত রহিমার চাচা মো: নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২। মামলাটি যশোর জেলা পিবিআই স্ব-উদ্দ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) মোঃ সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ এর উপর অর্পণ করেন।

আসামির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১০ বছর আগে রহিমা খাতুন (২৭) এর সাথে চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের মোঃ মোবারক আলীর ছেলে মো: মহিউদ্দিন (৩৮) সহিত বিবাহ হয়। সম্পর্কে রুস্তম আলী মৃত রহিমা খাতুনের ভাসুর। গত ২৫ মার্চ সকালে রহিমা খাতুনের সাথে রুস্তম আলীর ঝগড়া হয়। পরবর্তীতে রহিমা খাতুনের শয়ন কক্ষ হতে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রহিমার শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে আহত অবস্থায় রহিমাকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে। ওইসময় রুস্তম আলী ঘর থেকে দ্রুত বের হয়ে চলে যায় এবং রহিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলো মর্মে রুস্তম আলী পরিবারের লোকজনকে জানায়। সরেজমিন তদন্ত ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় রহিমা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।

এ ব্যাপারে পিবিআই যশোর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, গৃহবধূ রহিমা খাতুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অপরাধে রুস্তম আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (১০ মে) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।