Hi

ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআন হাদীসের আলোকে সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩
  • ১৪৯ Time View

মাওলানা শামীম আহমেদ আলোচকঃ বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকা। মানুষের জন্য কঠিন দিন হচ্ছে কেয়ামতের দিন। সূর্য মানুষের মাথার একদম নিকটে চলে আসবে। সূর্যের প্রখরতায় মানুষের মাথার মগজ টগবগ করতে থাকবে। সেদিন সামান্য ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো কিছুই থাকবে না কেবল আল্লাহর আরশ ছাড়া। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে মহান আল্লাহ কিছু মানুষকে তাঁর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।’ (বুখারি : ৬৬০)। যথা ন্যায়পরায়ণ শাসক: মহান আল্লাহ এই শ্রেণির লোকদের ভীষণ ভালোবাসেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা হুজরাত : ৯) ইবাদতগুজার যুবক : যৌবন মহান আল্লাহর অনেক বড় নিয়ামত। এই নিয়ামতকে যারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তারাই সফল হয়। সাধারণত যৌবন মানুষকে বেপরোয়া বানিয়ে দেয়, যৌবনের তাড়নায় কেউ কেউ ডুবে যায় পাপের সাগরে। যৌবনের এই তাড়নাকে যারা নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত করবে, তারা কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে। যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে : আল্লামা নববী (রহ.) বলেন, ‘মসজিদের সঙ্গে অন্তরের সম্পৃক্ততা দ্বারা উদ্দেশ্য, মসজিদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গুরুত্বসহকারে মসজিদে পড়া। জাগতিক সব কাজ ছেড়ে সার্বক্ষণিক মসজিদে বসে থাকা নয়। বরং কখন মসজিদ থেকে ডাক আসে, সে চিন্তা অন্তরে সর্বদা সজাগ রাখা। (উমদাতুল কারি : ৫/২৬১) আল্লাহর জন্য ভালোবাসা পোষণকারী : যে দুজন মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি সামনে রেখে পরস্পরে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, সেসব মানুষ কোথায়, যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরে ভালোবাসত? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেব। আজকের দিনটা এমনই যে, আজ আমার ছায়া ছাড়া কোথাও কোনো ছায়া নেই। (মুয়াত্তায়ে মালেক: ১৭১৮) নারীর কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী : সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়, কিন্তু সে এই বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’। সেসব মুত্তাকিকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। গোপনে সম্পদ দানকারী : যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাতও তা জানে না। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান-সদকাকারীকে আল্লাহ কেয়ামতের দিন আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। গোপনে অশ্রুবর্ষণকারী : যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে, ফলে তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সাত শ্রেণির লোকের মধ্যে শামিল করে নিন। আমিন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

কোরআন হাদীসের আলোকে সাত শ্রেণির মানুষ আল্লাহর কাছে প্রিয়

Update Time : ০৪:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

মাওলানা শামীম আহমেদ আলোচকঃ বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকা। মানুষের জন্য কঠিন দিন হচ্ছে কেয়ামতের দিন। সূর্য মানুষের মাথার একদম নিকটে চলে আসবে। সূর্যের প্রখরতায় মানুষের মাথার মগজ টগবগ করতে থাকবে। সেদিন সামান্য ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো কিছুই থাকবে না কেবল আল্লাহর আরশ ছাড়া। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে মহান আল্লাহ কিছু মানুষকে তাঁর রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।’ (বুখারি : ৬৬০)। যথা ন্যায়পরায়ণ শাসক: মহান আল্লাহ এই শ্রেণির লোকদের ভীষণ ভালোবাসেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা হুজরাত : ৯) ইবাদতগুজার যুবক : যৌবন মহান আল্লাহর অনেক বড় নিয়ামত। এই নিয়ামতকে যারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তারাই সফল হয়। সাধারণত যৌবন মানুষকে বেপরোয়া বানিয়ে দেয়, যৌবনের তাড়নায় কেউ কেউ ডুবে যায় পাপের সাগরে। যৌবনের এই তাড়নাকে যারা নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত করবে, তারা কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে। যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে : আল্লামা নববী (রহ.) বলেন, ‘মসজিদের সঙ্গে অন্তরের সম্পৃক্ততা দ্বারা উদ্দেশ্য, মসজিদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গুরুত্বসহকারে মসজিদে পড়া। জাগতিক সব কাজ ছেড়ে সার্বক্ষণিক মসজিদে বসে থাকা নয়। বরং কখন মসজিদ থেকে ডাক আসে, সে চিন্তা অন্তরে সর্বদা সজাগ রাখা। (উমদাতুল কারি : ৫/২৬১) আল্লাহর জন্য ভালোবাসা পোষণকারী : যে দুজন মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি সামনে রেখে পরস্পরে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, সেসব মানুষ কোথায়, যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরে ভালোবাসত? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেব। আজকের দিনটা এমনই যে, আজ আমার ছায়া ছাড়া কোথাও কোনো ছায়া নেই। (মুয়াত্তায়ে মালেক: ১৭১৮) নারীর কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী : সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়, কিন্তু সে এই বলে প্রত্যাখ্যান করে যে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি’। সেসব মুত্তাকিকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। গোপনে সম্পদ দানকারী : যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাতও তা জানে না। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান-সদকাকারীকে আল্লাহ কেয়ামতের দিন আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। গোপনে অশ্রুবর্ষণকারী : যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে, ফলে তার দুই চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বইতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সাত শ্রেণির লোকের মধ্যে শামিল করে নিন। আমিন।