Hi

ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি বই বিক্রির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩
  • ২১২ Time View

আতিক – কেন্দুয়া- নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ–

নেত্রকোনার কেন্দুুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃনজরুল ইসলাম, মঙ্গলবার বিকালে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেনির নতুন ও পুরাতন বইসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন মাসকা বাজারে বই গুলো জব্দ করেন। এরই প্রতিবাদে বুধবার ওই শিক্ষকের বিচারের দাবীতে মাসকা বাজারে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন করেন।
মানব বন্ধনে তারা প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করেন।
মানববন্ধন বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক ভাবে তাদের সাথে আমাদের বিরোধ রয়েছে, যে কারনে তারা আমার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছে। তাছাড়া গত কাল বই বিক্রির সময় আমি স্কুলে উপস্থিত ছিলাম না। তবে যদি নতুন বছরের বই থাকে তা নষ্ট বই থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন মাসকা গ্রামের লতিফ মেম্বার ও বদরুল আলমের সঙ্গে আমার দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে, তারই জের ধরে তারা আমার নামে এ মানববন্ধন করেছে।
জানা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বিদ্যালয় উন্নয়নের কথা বলে কমিটির সিদ্ধান্ত ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিরেখে পুরাতন বই ও নির্মান সামগ্রী ১৪ হাজার ৭শ টাকায় বিক্রি করে দেন। মাসকা বাজারের ইজারাদার মোঃ বদরুল ইসলাম এ ঘটনা সংবাদ পেয়ে স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে বই ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী আটক করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরাতন বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী জব্দ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের গুদামে হেফাজতে রাখেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি জানান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে পরামর্শ ক্রমে পুরাতন অপ্রয়োজনীয় বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রীর বিক্রিত টাকা বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে বিক্রি করেছি। তবে যারা আটক করেছেন, তারা বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক ও নন কমিটিরও সদস্য না। তাদের সাথে পূর্বশত্রুতার জেরে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ কাজটি করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, পুরাতন বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী ১৪ হাজার ৭শ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম। বই ও নির্মান সমাগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে অনুমতি নেয়ার দরকার থাকলে ও তিনি অনুমতি না নিয়েই বিক্রি করেছেন। এটি তার অন্যায়। এজন্যই প্রধান শিক্ষককে বুধবার কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হবে। বিষয়টির অনুলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে । তবে বিক্রিত বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী জব্দ করে গুদামে এনে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

সরকারি বই বিক্রির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

Update Time : ০২:২৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

আতিক – কেন্দুয়া- নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ–

নেত্রকোনার কেন্দুুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃনজরুল ইসলাম, মঙ্গলবার বিকালে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেনির নতুন ও পুরাতন বইসহ অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন মাসকা বাজারে বই গুলো জব্দ করেন। এরই প্রতিবাদে বুধবার ওই শিক্ষকের বিচারের দাবীতে মাসকা বাজারে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধন করেন।
মানব বন্ধনে তারা প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করেন।
মানববন্ধন বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক ভাবে তাদের সাথে আমাদের বিরোধ রয়েছে, যে কারনে তারা আমার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছে। তাছাড়া গত কাল বই বিক্রির সময় আমি স্কুলে উপস্থিত ছিলাম না। তবে যদি নতুন বছরের বই থাকে তা নষ্ট বই থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন মাসকা গ্রামের লতিফ মেম্বার ও বদরুল আলমের সঙ্গে আমার দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে, তারই জের ধরে তারা আমার নামে এ মানববন্ধন করেছে।
জানা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বিদ্যালয় উন্নয়নের কথা বলে কমিটির সিদ্ধান্ত ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিরেখে পুরাতন বই ও নির্মান সামগ্রী ১৪ হাজার ৭শ টাকায় বিক্রি করে দেন। মাসকা বাজারের ইজারাদার মোঃ বদরুল ইসলাম এ ঘটনা সংবাদ পেয়ে স্থানীয় জনতাকে সাথে নিয়ে বই ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী আটক করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরাতন বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী জব্দ করে উপজেলা শিক্ষা অফিসের গুদামে হেফাজতে রাখেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে,তিনি জানান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে পরামর্শ ক্রমে পুরাতন অপ্রয়োজনীয় বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রীর বিক্রিত টাকা বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করতে বিক্রি করেছি। তবে যারা আটক করেছেন, তারা বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক ও নন কমিটিরও সদস্য না। তাদের সাথে পূর্বশত্রুতার জেরে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ কাজটি করেছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, পুরাতন বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী ১৪ হাজার ৭শ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম। বই ও নির্মান সমাগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে অনুমতি নেয়ার দরকার থাকলে ও তিনি অনুমতি না নিয়েই বিক্রি করেছেন। এটি তার অন্যায়। এজন্যই প্রধান শিক্ষককে বুধবার কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হবে। বিষয়টির অনুলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে । তবে বিক্রিত বই ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী জব্দ করে গুদামে এনে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।