Hi

ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে সম্প্রীতি রক্ষায় সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দদের সাথে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪
  • ১৪০ Time View

এনামুল হক, শেরপুর:

সম্প্রীতি রক্ষায় ইসকন এবং হিন্দু নেতৃবৃন্দদের সাথে শেরপুর জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী’র বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জন-সাধারণের অংশগ্রহণে আগস্ট মাসে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীন হয়েছে। এখন ওই স্বৈরশাসকের দোসররা সারাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য হিন্দুর সম্প্রদায় মানুষের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে আর বিএনপির উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু শেরপুরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসা বাড়ি এবং মন্দিরে কোন রকম আক্রমণ করতে পারিনি দুষ্কৃতিকারীরা।
আর এটা সম্ভব হওয়ার কারণ হল আমাদের তৎপরতা।

সরকার পতনের পর থেকেই আমাদের জেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে মাঠে ছিলেন। তারপরও ফাঁকফোকরে দু’একটি বিচ্ছিন্ন
ঘটনা ঘটেছে, যা দুষ্কৃতিকারী এবং পরাজিত স্বৈরশাসকের লোকজনই করিয়েছে।

তিনি আরো বলেন,বিএনপি সম্প্রীতির রাজনীতি বিশ্বাস করে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। তিনি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তারেক রহমান আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন- বিএনপি বা তার কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্বারা কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতিত হলে তার রক্ষা নেই। তাকে দল থেকে বহিষ্কার এবং আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কোনরকম নির্যাতন-নিপীড়ন যাতে না হয় সে বিষয়ে কড়া নজর রাখার জন্য তারেক রহমান নির্দেশ দেন বলে জানায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হযরত আলী।

এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকা ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা ছাড়াও জেলা সর্বত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর যাতে কোন নির্যাতন ও লুটপাট না হয় সে বিষয়ে কড়া নজর রেখেছি। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমরা আপনাদের বিষয় নিয়ে মাঠে নামবো এবং বর্তমান সরকারের কাছে আপনাদের অধিকার আদায়ে জোর দাবি জানাবো। আপনারা মন্দিরে নিশ্চিন্তে পূজা অর্চনা ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করবেন। বিএনপি সব সময় আপনাদের পাশে আছে।

উপস্থিত হিন্দুর সম্প্রদায় নেতৃবৃন্দদের মধ্যে ইসকনের সেক্রেটারি অপূর্ব দাস বলেন, শেরপুরে আমরা মোটামুটি ভালো রয়েছি। কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও আক্রমণের শিকার হইনি। তবে আপনারা পাশে থাকলে আমরা সাহস পাবো।

এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি শান্ত রায়, সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনাথ বর্মন, শহর শাখার সভাপতি পিপুল সরকার, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ দেসহ বিভিন্ন স্তরের হিন্দু নেতৃবৃন্দ, বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে মোঃ হাতেম আলী, আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, ফজলুর রহমান তারা, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এস এম শহিদুল ইসলাম, আবু রায়হান রুপমসহ সুধীমহল উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

শেরপুরে সম্প্রীতি রক্ষায় সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দদের সাথে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৬:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৪

এনামুল হক, শেরপুর:

সম্প্রীতি রক্ষায় ইসকন এবং হিন্দু নেতৃবৃন্দদের সাথে শেরপুর জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী’র বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জন-সাধারণের অংশগ্রহণে আগস্ট মাসে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীন হয়েছে। এখন ওই স্বৈরশাসকের দোসররা সারাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য হিন্দুর সম্প্রদায় মানুষের উপর নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে আর বিএনপির উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু শেরপুরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসা বাড়ি এবং মন্দিরে কোন রকম আক্রমণ করতে পারিনি দুষ্কৃতিকারীরা।
আর এটা সম্ভব হওয়ার কারণ হল আমাদের তৎপরতা।

সরকার পতনের পর থেকেই আমাদের জেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে মাঠে ছিলেন। তারপরও ফাঁকফোকরে দু’একটি বিচ্ছিন্ন
ঘটনা ঘটেছে, যা দুষ্কৃতিকারী এবং পরাজিত স্বৈরশাসকের লোকজনই করিয়েছে।

তিনি আরো বলেন,বিএনপি সম্প্রীতির রাজনীতি বিশ্বাস করে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। তিনি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তারেক রহমান আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন- বিএনপি বা তার কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্বারা কোন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতিত হলে তার রক্ষা নেই। তাকে দল থেকে বহিষ্কার এবং আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কোনরকম নির্যাতন-নিপীড়ন যাতে না হয় সে বিষয়ে কড়া নজর রাখার জন্য তারেক রহমান নির্দেশ দেন বলে জানায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হযরত আলী।

এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকা ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা ছাড়াও জেলা সর্বত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর যাতে কোন নির্যাতন ও লুটপাট না হয় সে বিষয়ে কড়া নজর রেখেছি। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আমরা আপনাদের বিষয় নিয়ে মাঠে নামবো এবং বর্তমান সরকারের কাছে আপনাদের অধিকার আদায়ে জোর দাবি জানাবো। আপনারা মন্দিরে নিশ্চিন্তে পূজা অর্চনা ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করবেন। বিএনপি সব সময় আপনাদের পাশে আছে।

উপস্থিত হিন্দুর সম্প্রদায় নেতৃবৃন্দদের মধ্যে ইসকনের সেক্রেটারি অপূর্ব দাস বলেন, শেরপুরে আমরা মোটামুটি ভালো রয়েছি। কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও আক্রমণের শিকার হইনি। তবে আপনারা পাশে থাকলে আমরা সাহস পাবো।

এসময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি শান্ত রায়, সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনাথ বর্মন, শহর শাখার সভাপতি পিপুল সরকার, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ দেসহ বিভিন্ন স্তরের হিন্দু নেতৃবৃন্দ, বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে মোঃ হাতেম আলী, আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, ফজলুর রহমান তারা, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এস এম শহিদুল ইসলাম, আবু রায়হান রুপমসহ সুধীমহল উপস্থিত ছিলেন।