ময়মনসিংহে সেপ্টি ট্যাংকি হতে অজ্ঞাতনামা তরুণের লাশ উদ্ধার ; গ্রেফতার -৪
-
Reporter Name - Update Time : ০৬:১৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ জুলাই ২০২২
- ২৩২ Time View

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ।
গতকাল মঙ্গলবার (০৫ জুলাই ২০২২) তারিখ বেলা ১১.৩০ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানাধীন দাদরা গ্রামের পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সেপ্টি ট্যাংকিতে অজ্ঞাতনামা ১৫ বছর বয়সের একজন তরুনের লাশ পাওয়া যায়।
তারাকান্দা থানা পুলিশ সেণ্টি ট্যাংক হতে লাশ উত্তোলন করে। স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে লাশের পরিচয় উদ্ঘাটিত হলে জানা যায় লাশটি সামাদ (১৫), পিতা-মোঃ শাহজাহান মিয়া, সাং-চানুর মোড়, দাদরা, থানা-তারাকান্দা, জেলা-ময়মনসিংহ।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সামাদ (১৫) এর পিতা-মাতা ও পরিবারের লোকজন এসে লাশ সনাক্ত করে। জানা যায় যে, মৃত সামাদ (১৫) একজন অটোরিক্সা চালক ছিলেন। তারাকান্দা থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করে।
মৃত সামাদ (১৫) এর পিতা-মোঃ শাহজাহান মিয়া অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করিলে তারাকান্দা থানার মামলা নং-০৪, তারিখ-০৫/০৭/২০২২ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের অভিযানে তারাকান্দা থানা পুলিশকে সহায়তার জন্য ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’কে নির্দেশ প্রদান করেন।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম জানান, ডিবি পুলিশ হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তারাকান্দা ও ফুলপুর এলাকা হতে ০৪ জন আসামি আটক করে।
ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী রাস্তার পাশে নিহত সামাদ (১৫) এর চালিত অটোরিক্সাটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাইয়া উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আটককৃত মোঃ রবিন মিয়া (১৯) নিহত সামাদ এর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। বন্ধুত্বের সুবাদে সামাদ রবিনদের বাড়ীতে বিভিন্ন সময় যাতায়াত করিত। রবিন ও রোহানের ছোট বোন আকলিমা (১৩) এর সাথে সামাদ (১৫) এর অন্তরঙ্গ বা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সামাদ (১৫) ও আকলিমা এর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক কোনো ভাবে ফেরাতে না পেরে আসামি রবিন ও রোহান সামাদ (১৫) কে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এরই জের ধরে গত ০৪ জুলাই ২০২২ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৮:০০ ঘটিকায় সামাদ (১৫) এর অটোরিক্সায় চড়ে আসামি রবিন, রোহান ও নাঈম বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সময়ক্ষেপন করে। পূর্ব পরিকল্পনা মতে আসামি শাহীন ও পলাতক ০২ জন আসামি পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অপেক্ষা করে।
সামাদ (১৫) এর অটোরিক্সায় চড়ে রাত অনুমান ২০.৩০ ঘটিকায় রবিন, রোহান ও নাঈম স্কুলের নিকট পৌঁছিলে আসামিরা অটোরিক্সাটি রাস্তার পাশে রেখে সামাদ (১৫) কে স্কুলের পিছনে ঝোঁপঝাড়ের আড়ালে নিয়ে গিয়ে প্লাষ্টিকের রশি ও জালের টুকরা দিয়ে সামাদের গলায় পেচিয়ে ও নাক, মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে সামাদ (১৫) এর লাশ পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সেপ্টি ট্যাংকির মধ্যে গুম করে আসামিরা পালিয়ে যায়। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো মোঃ রবিন মিয়া (১৯), মোঃ রোহান মিয়া (২৪), মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান নাঈম (১৯), মোঃ শাহীনুর ইসলাম (২২)। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।


















