Hi

ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি কর্তৃক প্রাচীন পানির কল পরিদর্শন, সংরক্ষণের দাবী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪৫ Time View

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ আজ (১২ আগস্ট ২০২৫) তারিখ বেলা ১১ টায় পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল এর একটি পরিদর্শন দল ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টি এলাকায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা একটি প্রাচীন পানির কল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল বলেন, এই পানির কলটি ঊনবিংশ শতকের শেষের কীর্ত। ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে তৈরির সাথে সাথে এর প্রযুক্তি ভারতীয় উপমহাদেশে চলে আসে। ভারতের হুগলীতে পর্তুগীজদের মাধ্যমে পানির ট্যাংকি নির্মিত হলে এই কল সেখানে স্থাপিত হয়। এদিকে ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে মহারাজ সূর্যকান্তের পত্নী বিশুদ্ধ পানির অভাবে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ঐ সময়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে অগণিত মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন শুধুমাত্র বিশুদ্ধ পানির অভাবে। ফলে প্রয়োজন দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির ট্যাংকি স্থাপনের। মহারাজ সূর্যকান্তের উদ্যোগে ইংল্যান্ডে তৈরি এই কলের প্রযুক্তি ময়মনসিংহে চলে আসে। প্রযুক্তি আনার পর এই ধরণের পানির কল তৎকালীন ময়মনসিংহ শহরের আনাচে-কানাচে স্থাপন করা হয়। সে সময়ে রাজ রাজেশ্বরী পানির ট্যাংকি হতে এসব পানির কলে পানি সরবরাহ করা হতো। পরবর্তিতে প্রেসক্লাবের নিকটে অবস্থিত ওভারহেড পানির ট্যাংকি হতে পানি এসব কলে সরবরাহ করা হতো। এসব প্রাচীন পানির কলগুলোর উপরের অংশে ধাতবের তৈরি সিংহের মাথা ছিল। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে মূল্যবান সিংহের মাথাগুলো চুরি হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টিতে একটি প্রাচীন এ ধরণের পানির কলের অর্ধেকাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। যা অতিসত্বর সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন। তা নাহলে অবশিষ্ট এই কলটিও বেহাত হয়ে যাবে। প্রতিনিধি দল আরো বলেন, ময়মনসিংহে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের যে শাখা অফিস রয়েছে তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? তারা কেন পুরাকীর্তির নিদর্শন স্বরুপ এই পানির কলটি সংরক্ষণের কোন ব্যবস্খা করছে না? তারা যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত তাহলে কি অবশিষ্ট এই একটিমাত্র প্রাচীন পানির কলের সিংহের মাথাসহ উপরের অংশ চুরি হতো? এসব পুরাকীর্তির সাথে এ অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। অবশিষ্ট প্রাচীন এই পানির কলের একটিমাত্রও যদি নিদর্শন হিসেবে যথাযথভাবে দৃশ্যমান ও সংরক্ষিত না থাকে তাহলে প্রজন্ম জানবে কি করে যে, ময়মনসিংহ নগরীতে কবে প্রথম সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তার ধরণইবা কেমন ছিল? বাংলাদেশে প্রথম ময়মনসিংহ নগরীতেই এই ধরণের পানির কল স্থাপিত হয়েছিল। প্রতিনিধি দল অনতিবিলম্বে পুরাকীর্তির নিদর্শন স্বরুপ এই পানির কলটি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান। পরিদর্শনকালে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল’র সভাপতিমণ্ডলী সদস্য অধ্যাপক স্বপন ধর, কবি সরকার আজিজ, আব্দুল কাদের চৌধুরী, মো: নুর আলী চিশতি, সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ, কার্যকরী সদস্য কবি আফতাফ আহমেদ মাহবুব, মোহাম্মদ মাসুদ চিশতি, সাংবাদিক শফিয়েল আলম সুমন, সাংবাদিক মো: বোরহান উদ্দিন আল মাছুম, তানজিল হোসেন মুণিম প্রমূখ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ফুলপুরে শনিবার  বৃক্ষরোপন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি কর্তৃক প্রাচীন পানির কল পরিদর্শন, সংরক্ষণের দাবী

Update Time : ০৬:১৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ আজ (১২ আগস্ট ২০২৫) তারিখ বেলা ১১ টায় পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল এর একটি পরিদর্শন দল ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টি এলাকায় অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা একটি প্রাচীন পানির কল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল বলেন, এই পানির কলটি ঊনবিংশ শতকের শেষের কীর্ত। ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে তৈরির সাথে সাথে এর প্রযুক্তি ভারতীয় উপমহাদেশে চলে আসে। ভারতের হুগলীতে পর্তুগীজদের মাধ্যমে পানির ট্যাংকি নির্মিত হলে এই কল সেখানে স্থাপিত হয়। এদিকে ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে মহারাজ সূর্যকান্তের পত্নী বিশুদ্ধ পানির অভাবে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ঐ সময়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে অগণিত মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন শুধুমাত্র বিশুদ্ধ পানির অভাবে। ফলে প্রয়োজন দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির ট্যাংকি স্থাপনের। মহারাজ সূর্যকান্তের উদ্যোগে ইংল্যান্ডে তৈরি এই কলের প্রযুক্তি ময়মনসিংহে চলে আসে। প্রযুক্তি আনার পর এই ধরণের পানির কল তৎকালীন ময়মনসিংহ শহরের আনাচে-কানাচে স্থাপন করা হয়। সে সময়ে রাজ রাজেশ্বরী পানির ট্যাংকি হতে এসব পানির কলে পানি সরবরাহ করা হতো। পরবর্তিতে প্রেসক্লাবের নিকটে অবস্থিত ওভারহেড পানির ট্যাংকি হতে পানি এসব কলে সরবরাহ করা হতো। এসব প্রাচীন পানির কলগুলোর উপরের অংশে ধাতবের তৈরি সিংহের মাথা ছিল। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে মূল্যবান সিংহের মাথাগুলো চুরি হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ময়মনসিংহ নগরীর ট্রাংকপট্টিতে একটি প্রাচীন এ ধরণের পানির কলের অর্ধেকাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। যা অতিসত্বর সংরক্ষণ করা একান্ত প্রয়োজন। তা নাহলে অবশিষ্ট এই কলটিও বেহাত হয়ে যাবে। প্রতিনিধি দল আরো বলেন, ময়মনসিংহে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের যে শাখা অফিস রয়েছে তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? তারা কেন পুরাকীর্তির নিদর্শন স্বরুপ এই পানির কলটি সংরক্ষণের কোন ব্যবস্খা করছে না? তারা যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিত তাহলে কি অবশিষ্ট এই একটিমাত্র প্রাচীন পানির কলের সিংহের মাথাসহ উপরের অংশ চুরি হতো? এসব পুরাকীর্তির সাথে এ অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। অবশিষ্ট প্রাচীন এই পানির কলের একটিমাত্রও যদি নিদর্শন হিসেবে যথাযথভাবে দৃশ্যমান ও সংরক্ষিত না থাকে তাহলে প্রজন্ম জানবে কি করে যে, ময়মনসিংহ নগরীতে কবে প্রথম সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং তার ধরণইবা কেমন ছিল? বাংলাদেশে প্রথম ময়মনসিংহ নগরীতেই এই ধরণের পানির কল স্থাপিত হয়েছিল। প্রতিনিধি দল অনতিবিলম্বে পুরাকীর্তির নিদর্শন স্বরুপ এই পানির কলটি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান। পরিদর্শনকালে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল’র সভাপতিমণ্ডলী সদস্য অধ্যাপক স্বপন ধর, কবি সরকার আজিজ, আব্দুল কাদের চৌধুরী, মো: নুর আলী চিশতি, সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ, কার্যকরী সদস্য কবি আফতাফ আহমেদ মাহবুব, মোহাম্মদ মাসুদ চিশতি, সাংবাদিক শফিয়েল আলম সুমন, সাংবাদিক মো: বোরহান উদ্দিন আল মাছুম, তানজিল হোসেন মুণিম প্রমূখ।