Hi

ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের আতঙ্ক মনু কুলু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ২২০ Time View

আল আমিন  ময়মনসিংহ:
চাকা ঘুরিয়ে তৈল ভাঙানোর গল্প কে না শুনেছে। জীবনের শুরুটা তৈল বিক্রি দিয়ে হলেও শেষটায় রয়েছে নানা প্রতারণার গল্প। এই প্রতারণা গল্পের খলনায়ক মনু মিয়া। তবে আশপাশের বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেদের কাছে তিনি মনু কুলু নামে বেশ পরিচিত। তিনি রাতারাতি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে বনে গেছেন বিত্তবানদের তালিকায়। এ যেন আচমকাই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। মনু মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার পাইথল এলাকায়।

মনু মিয়া শুধু নিজ উপজেলায় নয়! বরং প্রভাব বিস্তার করেছে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় ভালুকায়। এই দুই উপজেলায় রয়েছে তার নানা ধরনের একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের উড়াহাটি গ্রামে এম.এম.আর ইটভাটা কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে মনু মিয়া ও ভাটার ম্যানেজার সুমনের নীরব ভূমিকায় মাদক কারবারি চলে আসছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে ভাটার মালিক মনু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মাদক কারবারি বন্ধের ব্যপারে আগ্রহ দেখাননি এবং এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও অবগত করেননি। সরেজমিনে খুঁজ নিতে গেলে স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত অব্দি এই ভাটায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেশ চোখে পড়ে। ভাটার মালিক ও ম্যানেজার সুমনের নীরব ভূমিকা সচেতনমহলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়াও মনুর বিরুদ্ধে রয়েছে অর্ধকোটি টাকা প্রতারণা বাণিজ্যের অভিযোগ।

এ ব্যপারে রাজৈ এলাকার ভুক্তভোগী সজীব খান জানায়, মনু মিয়া ইট বিক্রির কথা বলে ১৯ লক্ষ টাকা অগ্রীম নিয়ে ইট প্রদানে টালবাহানা ও জমির ৭ বছরের ভাড়া বকেয়া রেখেছে। পরে সজিব তার প্রদেয় টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঠুকে দেয় ভাটার মালিক। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ভাটা সংলগ্ম কোন জমি থেকে মাটি না কাটার শর্ত উল্লেখ থাকলেও অধিক লাভের আশায় অনেক জমি থেকে মাটি কেটে অন্তত ১৫ ফুট গর্ত করে এলাকার অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করেছেন তিনি। তৎকালীন সময় আওয়ামীলীগের দাপট দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চুক্তি বহি:ভূত নানা অপকর্মসহ অনেকের কাছে ইট বিক্রির কথা বলে অগ্রিম টাকা নিয়ে সর্বহারা করে দিয়েছেন এই মনু মিয়া। জমির ভাড়া ও ইটের জন্য দেয়া অগ্রিম টাকা উদ্ধারের দাবিতে সজিব খান বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তার পৈশাচিক কাণ্ড থেকে বাদ যায়নি খেটে খাওয়া প্রতিবেশিরাও। নিজের এলাকায় অনেক জমি জোরামুলে বেদখল করে মাছের খামার নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জমির মালিক হাতেম আলী জানায়-“মনুর মাছের খামারে আমার ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে, সেই জমির ভাড়া চাইতে গেলে হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে তটস্থ করে রাখে।” এছাড়াও বিগত সরকারের আমলে মনু আমার ছেলে মজুবরের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তার জ্বলায় আমি ভিটে মাটি বেচে ছেলেকে প্রবাসে পাঠিয়েছি।

মনু মিয়ার আলিশান বাড়ি ও সাজসজ্জা দেখলেই বুঝা যায় তিনি দু’হাতে কত কামিয়েছেন। এলাকাবাসীর কন্ঠরোধ করেছেন রেখেছেন টাকার ক্ষমতায়। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলার ভয় দেখিয়ে ঠান্ডা করে দেন। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়েও পায়নি সুফল। প্রতারণার মাধ্যমে রাতারাতি কুলু থেকে প্রভাবশালী মনু মিয়া এসব অপকর্ম অবাদে চালিয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার এসব অপকর্ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে। মনুর এসব অপকর্ম তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ময়মনসিংহের আতঙ্ক মনু কুলু

Update Time : ১০:১৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আল আমিন  ময়মনসিংহ:
চাকা ঘুরিয়ে তৈল ভাঙানোর গল্প কে না শুনেছে। জীবনের শুরুটা তৈল বিক্রি দিয়ে হলেও শেষটায় রয়েছে নানা প্রতারণার গল্প। এই প্রতারণা গল্পের খলনায়ক মনু মিয়া। তবে আশপাশের বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেদের কাছে তিনি মনু কুলু নামে বেশ পরিচিত। তিনি রাতারাতি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে বনে গেছেন বিত্তবানদের তালিকায়। এ যেন আচমকাই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। মনু মিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার পাইথল এলাকায়।

মনু মিয়া শুধু নিজ উপজেলায় নয়! বরং প্রভাব বিস্তার করেছে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় ভালুকায়। এই দুই উপজেলায় রয়েছে তার নানা ধরনের একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের উড়াহাটি গ্রামে এম.এম.আর ইটভাটা কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে মনু মিয়া ও ভাটার ম্যানেজার সুমনের নীরব ভূমিকায় মাদক কারবারি চলে আসছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহকালে ভাটার মালিক মনু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মাদক কারবারি বন্ধের ব্যপারে আগ্রহ দেখাননি এবং এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও অবগত করেননি। সরেজমিনে খুঁজ নিতে গেলে স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত অব্দি এই ভাটায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেশ চোখে পড়ে। ভাটার মালিক ও ম্যানেজার সুমনের নীরব ভূমিকা সচেতনমহলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এছাড়াও মনুর বিরুদ্ধে রয়েছে অর্ধকোটি টাকা প্রতারণা বাণিজ্যের অভিযোগ।

এ ব্যপারে রাজৈ এলাকার ভুক্তভোগী সজীব খান জানায়, মনু মিয়া ইট বিক্রির কথা বলে ১৯ লক্ষ টাকা অগ্রীম নিয়ে ইট প্রদানে টালবাহানা ও জমির ৭ বছরের ভাড়া বকেয়া রেখেছে। পরে সজিব তার প্রদেয় টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঠুকে দেয় ভাটার মালিক। অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ভাটা সংলগ্ম কোন জমি থেকে মাটি না কাটার শর্ত উল্লেখ থাকলেও অধিক লাভের আশায় অনেক জমি থেকে মাটি কেটে অন্তত ১৫ ফুট গর্ত করে এলাকার অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করেছেন তিনি। তৎকালীন সময় আওয়ামীলীগের দাপট দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চুক্তি বহি:ভূত নানা অপকর্মসহ অনেকের কাছে ইট বিক্রির কথা বলে অগ্রিম টাকা নিয়ে সর্বহারা করে দিয়েছেন এই মনু মিয়া। জমির ভাড়া ও ইটের জন্য দেয়া অগ্রিম টাকা উদ্ধারের দাবিতে সজিব খান বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তার পৈশাচিক কাণ্ড থেকে বাদ যায়নি খেটে খাওয়া প্রতিবেশিরাও। নিজের এলাকায় অনেক জমি জোরামুলে বেদখল করে মাছের খামার নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জমির মালিক হাতেম আলী জানায়-“মনুর মাছের খামারে আমার ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে, সেই জমির ভাড়া চাইতে গেলে হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে তটস্থ করে রাখে।” এছাড়াও বিগত সরকারের আমলে মনু আমার ছেলে মজুবরের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তার জ্বলায় আমি ভিটে মাটি বেচে ছেলেকে প্রবাসে পাঠিয়েছি।

মনু মিয়ার আলিশান বাড়ি ও সাজসজ্জা দেখলেই বুঝা যায় তিনি দু’হাতে কত কামিয়েছেন। এলাকাবাসীর কন্ঠরোধ করেছেন রেখেছেন টাকার ক্ষমতায়। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলার ভয় দেখিয়ে ঠান্ডা করে দেন। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়েও পায়নি সুফল। প্রতারণার মাধ্যমে রাতারাতি কুলু থেকে প্রভাবশালী মনু মিয়া এসব অপকর্ম অবাদে চালিয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার এসব অপকর্ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে। মনুর এসব অপকর্ম তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।