ভালুকার কুমির খামারটি উম্মুক্ত করে দেয়া হলো পর্যটকদের জন্য
-
Reporter Name - Update Time : ০৪:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
- ১৯৪ Time View

ভালুকা (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত সরীসৃপ রেপটাইল ফার্ম লিমিটেড (কুমিরের খামার), যা দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরে মালিকদের অনুপস্থিতির কারণে পরিত্যক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত ছিলো, এখন দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করল বর্তমান দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষ ।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াাল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) পর্যটকদের জন্য একটি সরীসৃপ ফার্ম খোলার জন্য কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে এটিকে আয়ের একটি উৎস করে তোলা যায়, যা শেষ পর্যন্ত দেশের উন্নয়েনে অবদান রাখতে পারে।
হাইকোট্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ খামারের কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
২০১২ সালে, প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদার- একজন পলাতক ব্যাঙ্কার এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো আর্থিক অপরাধে প্রায় তিনডজন মামলায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী – খামারটি কিনেছিলেন। পিকে হালদারের মালিকানা ২০২০ সালে প্রত্যাহার করা হয়েছিলো, যখন তার আর্থিক অসদাচরণে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড, একটি নন-ব্যাংক ঋণদাতা সংস্থার দায়ের করা একটি পিটিশনের জবাবে যার কাছ থেকে হালদার ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, হাইকোর্ট খামার পরিচালনার জন্য ২০২১ সালে ৯ ডিসেম্বর একটি ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে।
কমিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কুমির বিশেষজ্ঞ এনাম হককে।
অন্য পাঁচ সদস্য হলেন- ডাঃ নাঈম আহমেদ, চেয়ারম্যান, এবং ডাঃ শেখ মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, রিজাউল শিকদার, ডাঃ মোঃ রফিকুল আলম, এবং ফখরুদ্দিন আহমেদ, পরিচালক।
আদালত-নিযুক্ত পরিচালনা পর্ষদ ১২ ফেব্রæয়ারী, ২০২২-এ খামারটি দখল করে নেয়, যখন খামারটিতে একটি খুব অসুস্থসহ প্রায় ১ হাজার ৭৩০টি কুমির ছিলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা, অসতর্কতা ও খাবারের অভাবে প্রতিনিয়ত কুমিরের মৃত্যু হচ্ছে।
গত প্রজনন মৌসুমের পর এখন নতুন বাচ্চাসহ ২ হাজার ৫২৬ টি কুমির রয়েছে বলে জানা যায়।
খামারকে টিকিয়ে রাখা ও লাভজনক করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করা হয়।
বোর্ড ব্যবস্থাপনা কমিটি, এই খামার থেকে লাভের পরিকল্পনা করে, পর্যটনের জন্য খামারটি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খামারের অর্জিত আয়ের মধ্যে রয়েছে কুমিরের খাবার, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং আনুষঙ্গিক খরচ, সেইসাথে আইএলএফএসএল-এর ঋণ পরিশোধ করা।
তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে কুমিরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, চীন, জাপান, দক্ষিণ কুরিয়ার মতো দেশগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত কুমিরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমদানি করে থাকে।


















