Hi

ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগ সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২
  • ৩৭০ Time View

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দুর্যোগ সহনশীল ফসলের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বলেন, আপনাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ফসলের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে যুৎসই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বর্তমানের এক বাস্তবতা। এজন্য কৃষিতে আমাদের অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি একে এগিয়ে নিতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হামিদ বলেন,‘হাওড় এলাকার কৃষকরা বছরে একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাদের এই এক ফসলি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে কৃষিবিদ ও কৃষি সম্প্রসারণ বিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষির সাফল্য অব্যাহত রাখতে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে মৌসুমী ফল ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এসব পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বর্তমান সরকারের কৃষি নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে দক্ষ কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানী তৈরিতে আরো যতœবান হওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি ও বাকৃবি’র আচার্য ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকা-ের প্রশংসা করে বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বায়ন ও জ্ঞান অর্থনীতির তীব্র প্রতিযোগিতার এই যুগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আপন বৈশিষ্ট্যে টিকে থাকতে হলে তার স্থানিক, জাতিক ও বৈশ্বিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা, মান ও আন্তর্জাতিক চরিত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব। আমি জেনে আনন্দিত যে উচ্চতর কৃষি শিক্ষার পথিকৃৎ ও প্রধান বিদ্যাপীট হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ যতœবান।’
বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে- একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ সমুন্নত রেখে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নয়ন করে চলছে। এর ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ অনুসরণ করে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি হাওড় ও চর উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও এ্যালুমনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত প্রযুক্তি মেলা পরিদর্শন করেন।
বাকৃবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার মন্ডল।
ধর্ম মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, এ্যালুমনাই এ্যাসোসিয়েট প্রেসিডেন্ট কৃষিবিদ ড. মোহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক এমপি, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন খান ও কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভালুকায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ

দুর্যোগ সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ

Update Time : ০৭:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ জুলাই ২০২২

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দুর্যোগ সহনশীল ফসলের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আজ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বলেন, আপনাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ফসলের বিভিন্ন জাত উদ্ভাবনে যুৎসই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বর্তমানের এক বাস্তবতা। এজন্য কৃষিতে আমাদের অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি একে এগিয়ে নিতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হামিদ বলেন,‘হাওড় এলাকার কৃষকরা বছরে একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। তাদের এই এক ফসলি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে কৃষিবিদ ও কৃষি সম্প্রসারণ বিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষির সাফল্য অব্যাহত রাখতে উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে মৌসুমী ফল ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এসব পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বর্তমান সরকারের কৃষি নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে দক্ষ কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানী তৈরিতে আরো যতœবান হওয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি ও বাকৃবি’র আচার্য ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষণা ও একাডেমিক কর্মকা-ের প্রশংসা করে বলেন, ‘আধুনিক বিশ্বায়ন ও জ্ঞান অর্থনীতির তীব্র প্রতিযোগিতার এই যুগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আপন বৈশিষ্ট্যে টিকে থাকতে হলে তার স্থানিক, জাতিক ও বৈশ্বিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এটি প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা, মান ও আন্তর্জাতিক চরিত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব। আমি জেনে আনন্দিত যে উচ্চতর কৃষি শিক্ষার পথিকৃৎ ও প্রধান বিদ্যাপীট হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ যতœবান।’
বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে- একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ সমুন্নত রেখে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নয়ন করে চলছে। এর ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ অনুসরণ করে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
রাষ্ট্রপতি হাওড় ও চর উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও এ্যালুমনাই এসোসিয়েশন আয়োজিত প্রযুক্তি মেলা পরিদর্শন করেন।
বাকৃবি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক উপাচার্য ড. এম এ সাত্তার মন্ডল।
ধর্ম মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, এ্যালুমনাই এ্যাসোসিয়েট প্রেসিডেন্ট কৃষিবিদ ড. মোহাম্মাদ আবদুর রাজ্জাক এমপি, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন খান ও কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।