Hi

ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারাকান্দায় চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর জমি দখলের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১৫৫ Time View

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
সারাদেশে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। ঠিক সেই সময়ে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের বিসকা গ্রামের এক সংখ্যালঘু অসহায় হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি ও জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।

জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় জমির মালিক এর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে জমি দখলকারীরা।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩) তারিখ সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল এর নেতৃত্বে দখলকারী আঃ হাকিম, কুদ্দুস সহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করে বাড়িঘর ভাংচুর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা কেটে ত্রাসের সৃষ্টি করে।

এ সময় চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে স্বয়ং উপস্থিত থেকে এ তান্ডবলীলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষ্ণ চন্দ্র সূত্রধর অভিযোগ করে জানায়, আমি স্থানীয় আঃ হামিদ এবং কুদ্দুস এর কাছে বিসকা মৌজাস্থিত জে এল নং – ৩৯১ বি আর এস খতিয়ান নং – ৫৭২ এর অন্তর্ভুক্ত বি আর এস দাগ নং – ৩১৫৮/ ৩১৫৯ ২ দাগে যথাক্রমে ২৫ এবং ২০ মোট ৪৫ শতাংশ জমি বিক্রি করি।

উল্লেখিত দুই ব্যাক্তির কাছে জমি বিক্রি করে দখল ও বুঝিয়ে দেই। কিন্ত তারা আমার ৩১৬০ দাগে বাড়ির জমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে দফায় দফায় দরবার শালিস হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ এক দরবার সালিসে আমার ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের জমির দাম দেড় লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে লিখে দিতে বলে চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় এখন উক্ত জমি জোর পূর্বক দখল করে নিতে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে তারা।

অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছে। এই গ্রামে আমি আমার অসুস্থ স্ত্রী এবং এক সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছি সংখ্যা লঘু এবং আমার পরিবারে লোকজন সংখ্যায় কম দেখে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা ও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে যাতে জমি ছেড়ে আমরা চলে যাই। ভুক্তভোগী কৃষ্ণ চন্দ্র সূত্র ধর এর ভাগিনী সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য দীপালী জানান, চেয়ারম্যান স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নিরাপত্তার কথা ভেবে ভয়ে অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাননা।

স্থানীয়রা বলেন, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র সূত্র ধর জমি ওয়ারিশ সূত্রে ভোগদখল করে আসছে। দুই দাগে ৪৫ শতাংশ জমি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দিলেও গত ১৮ ফেব্রুয়ারী এই ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল স্বয়ং উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জমি দখলে নিতে জমিতে থাকা ঘর ভাংচুর করে এবং গাছপালা কেটে ত্রাসের সৃষ্টি করে।

এ সময় এলাকার শত শত মানুষ ঘটনা স্বচক্ষে দেখেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, চেয়ারম্যান এর পালিত ক্যাডারদের কারনে সবাই চুপ থাকে। তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে গত এক বছরে বিসকা ইউনিয়নে গজহরপুর এবং বাতিকুড়া এলাকায় ২ টি নিরীহ পরিবার এর জমি দখল করে নিয়েছে। লালমা এলাকায় এক ব্যাক্তির জমি দখল করতে গিয়ে গণরোষ এবং গণ ধোলাই এর শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বিসকা এলাকার হিন্দু পরিবারটির সম্পত্তি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

অসহায় পরিবারগুলো আজ সম্পত্তি রক্ষায় দিশেহারা। অনেকেই দারস্থ হচ্ছেন আদালতে। সচেতন মহল এর দাবি দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্বল ও সংখ্যালঘুদের জমি দখল এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনে সরকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আশা দেখানো সময়ে বিসকা গ্রামে সংখ্যা লঘু পরিবার এর জমি দখলের ঘটনা কোনোভাবে প্রত্যাশিত নয়। তারা এর সুষ্ঠ বিচার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল এর সাথে দুদিনেও বার বার ফোনে যোগাযোগ করে তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বার বার চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে দখলদার আব্দুল কদ্দুস এর ফোনে যোগাযোগ করে জানা যায় তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত জায়গা দখল করতে সমস্যা কোথায়। সংখ্যালুঘুদের জায়গা দখল করবো কেন? এ বিষয়ে আরেকজন দখলদার আব্দুল হামিদ পুলিশের ফোনে কথা বললে তাঁর শশুর ফোনে কথা বলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভালুকায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ

তারাকান্দায় চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর জমি দখলের অভিযোগ

Update Time : ০৪:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
সারাদেশে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। ঠিক সেই সময়ে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের বিসকা গ্রামের এক সংখ্যালঘু অসহায় হিন্দু পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে হয়রানি ও জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।

জমি দখলে বাঁধা দেওয়ায় জমির মালিক এর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে জমি দখলকারীরা।
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩) তারিখ সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল এর নেতৃত্বে দখলকারী আঃ হাকিম, কুদ্দুস সহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করে বাড়িঘর ভাংচুর ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা কেটে ত্রাসের সৃষ্টি করে।

এ সময় চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী নিয়ে স্বয়ং উপস্থিত থেকে এ তান্ডবলীলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষ্ণ চন্দ্র সূত্রধর অভিযোগ করে জানায়, আমি স্থানীয় আঃ হামিদ এবং কুদ্দুস এর কাছে বিসকা মৌজাস্থিত জে এল নং – ৩৯১ বি আর এস খতিয়ান নং – ৫৭২ এর অন্তর্ভুক্ত বি আর এস দাগ নং – ৩১৫৮/ ৩১৫৯ ২ দাগে যথাক্রমে ২৫ এবং ২০ মোট ৪৫ শতাংশ জমি বিক্রি করি।

উল্লেখিত দুই ব্যাক্তির কাছে জমি বিক্রি করে দখল ও বুঝিয়ে দেই। কিন্ত তারা আমার ৩১৬০ দাগে বাড়ির জমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে দফায় দফায় দরবার শালিস হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। সর্বশেষ এক দরবার সালিসে আমার ৮ লক্ষ টাকা মূল্যের জমির দাম দেড় লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে লিখে দিতে বলে চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল। জমি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় এখন উক্ত জমি জোর পূর্বক দখল করে নিতে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে তারা।

অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছে। এই গ্রামে আমি আমার অসুস্থ স্ত্রী এবং এক সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছি সংখ্যা লঘু এবং আমার পরিবারে লোকজন সংখ্যায় কম দেখে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা ও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে যাতে জমি ছেড়ে আমরা চলে যাই। ভুক্তভোগী কৃষ্ণ চন্দ্র সূত্র ধর এর ভাগিনী সাবেক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য দীপালী জানান, চেয়ারম্যান স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় নিরাপত্তার কথা ভেবে ভয়ে অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাননা।

স্থানীয়রা বলেন, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমির মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র সূত্র ধর জমি ওয়ারিশ সূত্রে ভোগদখল করে আসছে। দুই দাগে ৪৫ শতাংশ জমি বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দিলেও গত ১৮ ফেব্রুয়ারী এই ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল স্বয়ং উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জমি দখলে নিতে জমিতে থাকা ঘর ভাংচুর করে এবং গাছপালা কেটে ত্রাসের সৃষ্টি করে।

এ সময় এলাকার শত শত মানুষ ঘটনা স্বচক্ষে দেখেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, চেয়ারম্যান এর পালিত ক্যাডারদের কারনে সবাই চুপ থাকে। তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে গত এক বছরে বিসকা ইউনিয়নে গজহরপুর এবং বাতিকুড়া এলাকায় ২ টি নিরীহ পরিবার এর জমি দখল করে নিয়েছে। লালমা এলাকায় এক ব্যাক্তির জমি দখল করতে গিয়ে গণরোষ এবং গণ ধোলাই এর শিকার হয়েছেন। বর্তমানে বিসকা এলাকার হিন্দু পরিবারটির সম্পত্তি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

অসহায় পরিবারগুলো আজ সম্পত্তি রক্ষায় দিশেহারা। অনেকেই দারস্থ হচ্ছেন আদালতে। সচেতন মহল এর দাবি দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্বল ও সংখ্যালঘুদের জমি দখল এবং তাঁদের ওপর নির্যাতনে সরকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আশা দেখানো সময়ে বিসকা গ্রামে সংখ্যা লঘু পরিবার এর জমি দখলের ঘটনা কোনোভাবে প্রত্যাশিত নয়। তারা এর সুষ্ঠ বিচার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাকের আহমেদ বাবুল এর সাথে দুদিনেও বার বার ফোনে যোগাযোগ করে তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বার বার চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে দখলদার আব্দুল কদ্দুস এর ফোনে যোগাযোগ করে জানা যায় তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত জায়গা দখল করতে সমস্যা কোথায়। সংখ্যালুঘুদের জায়গা দখল করবো কেন? এ বিষয়ে আরেকজন দখলদার আব্দুল হামিদ পুলিশের ফোনে কথা বললে তাঁর শশুর ফোনে কথা বলেন।