Hi

ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে ফেরানোর ব্যাপারে আলোচনার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অগাস্ট ২০২২
  • ২১১ Time View

বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুদিনের সফরে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট চীনা মন্ত্রীর ঢাকা সফর শুরু হবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশে আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা।
বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ও শীতকালীন অবকাশের জন্য ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ব্যক্তি উদ্যোগে দেশে ফিরে আসে। আড়াই বছর পার হলেও আর চীনে ফিরে যাওয়া হয়নি তাদের। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীদের।
গত সোমবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কর্মী বিনিময় আরও সহজতর করার জন্য, দেশটির সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা-কুনমিং ও ঢাকা-গুয়াংজু রুট খোলার অনুমোদন দিয়েছে।
আরও বলা হয়, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স দ্বারা পরিচালিত বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট জুলাই থেকে প্রতি মাসে এক থেকে দুইটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন চীনের মূল ভূখণ্ডে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন ক্যাটাগরিতে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে তার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা হয়নি। যার ফলে, চীনফেরত শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র মানসিক চাপ, হতাশা কাজ করছে।
যদিও সোমবার (২০ জুন) ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ‘রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক মিনিট’ শীর্ষক এক বার্তায় জানানো হয়, দীর্ঘদিন করোনা মহামারিতে বন্ধ থাকার পরে করোনা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় ফের বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে চীন। এ প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপেই চীনে ফেরার অনুমতি পাচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সফর উপলক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনফেরত শিক্ষার্থীদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। তারা মনে করে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষার্থী ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যপারে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। সরকার যদি আন্তরিক হয় তাহলে পরের সেমিস্টারের মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে স্বাভাবিক পড়াশোনার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
চীনকে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র উল্লেখ করে,চায়না ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার রিসোর্সেস এন্ড হাইড্রোপাওয়ার রিসার্চ, বেইজিংয়ে মাস্টার অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রেড-১ স্কলারশীপে অধ্যয়নরত মো. রাসেল আহম্মেদ বলেন, অতীতে চীন সবসময় বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জোর দাবি জানালে, চীনে পড়ুয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীন সরকার একটা আশানুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি আশাবাদী।
তিনি বলেন, চীন উচ্চ শিক্ষার জন্য একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় দেশ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বহু শিক্ষার্থী স্কলারশিপে চীনে পড়াশোনা করতে যায়। তারা চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে সুনামের সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০২০ সালের পর থেকে চীন সরকার তাদের জিরো কোভিড পলিসি নীতির কারণে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য বর্ডার বন্ধ রেখেছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে। যেটা প্রকৃতপক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের এডুকেশন লাইফে অনেকটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
চীনের নানজিং ইউনিভার্সিটি অফ ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড টেকনোলজি তে মাস্টার্স অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ্ আল বারী ভূবন বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, সামরিক, আবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেক্টরে চীন বাংলাদেশকে অকুন্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চীন বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সামগ্রী উপহার দিয়ে দুদেশের সম্পর্কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জিডিপিসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন বয়ে আনবে।
আশা করছি অদূর ভবিষ্যতেও চীন বাংলাদেশের সাথে বরাবরের মতো পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বেরদ্বার উন্মোচিত রাখবে।
আমি মনে করি, আসন্ন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে বাংলাদেশে অবস্থানরত আটকে পড়া চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের চীনে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও চীনা সরকারের মধ্যে কার্যকরী এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।
ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, পাকিস্তান থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী চীনে ফেরত গিয়েছে এবং সম্প্রতি আফগানিস্তানে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পর আফগানিস্তানের চীনা দূতাবাস পহেলা আগস্ট থেকে আফগান নাগরিকদের জন্য চীনের সকলধরণের ভিসা প্রদানের সেবা চালুর ঘোষণা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস সম্প্রতি তাদের ভিসা আবেদন কার্যক্রম শুরু করলেও, এখনও বাংলাদেশ থেকে চীনে শিক্ষার্থী ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বা শিক্ষার্থীদের ভিসা কার্যক্রম নিয়ে তেমন আশানুরূপ কোনো দৃঢ় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
একজন সাধারন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর কাছে জোড় দাবী জানাচ্ছি যে, চীনের সাথে জোর কূটনীতিক তৎপরতার মাধ্যমে, অনাতিবিলম্বে বাংলাদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চীনে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ময়মনসিংহ-১১ আসনে বিজয়ী বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে ফেরানোর ব্যাপারে আলোচনার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা

Update Time : ০২:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অগাস্ট ২০২২

বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুদিনের সফরে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, ৬ আগস্ট চীনা মন্ত্রীর ঢাকা সফর শুরু হবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশে আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা।
বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ও শীতকালীন অবকাশের জন্য ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ব্যক্তি উদ্যোগে দেশে ফিরে আসে। আড়াই বছর পার হলেও আর চীনে ফিরে যাওয়া হয়নি তাদের। ফলে একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতির মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীদের।
গত সোমবার (২৫ জুলাই) বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কর্মী বিনিময় আরও সহজতর করার জন্য, দেশটির সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্প্রতি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা-কুনমিং ও ঢাকা-গুয়াংজু রুট খোলার অনুমোদন দিয়েছে।
আরও বলা হয়, চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স ও চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স দ্বারা পরিচালিত বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট জুলাই থেকে প্রতি মাসে এক থেকে দুইটি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন চীনের মূল ভূখণ্ডে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন ক্যাটাগরিতে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবে তার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা হয়নি। যার ফলে, চীনফেরত শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র মানসিক চাপ, হতাশা কাজ করছে।
যদিও সোমবার (২০ জুন) ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ‘রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক মিনিট’ শীর্ষক এক বার্তায় জানানো হয়, দীর্ঘদিন করোনা মহামারিতে বন্ধ থাকার পরে করোনা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় ফের বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে চীন। এ প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপেই চীনে ফেরার অনুমতি পাচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সফর উপলক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনফেরত শিক্ষার্থীদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। তারা মনে করে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষার্থী ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যপারে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে। সরকার যদি আন্তরিক হয় তাহলে পরের সেমিস্টারের মধ্যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে স্বাভাবিক পড়াশোনার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
চীনকে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র উল্লেখ করে,চায়না ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার রিসোর্সেস এন্ড হাইড্রোপাওয়ার রিসার্চ, বেইজিংয়ে মাস্টার অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্রেড-১ স্কলারশীপে অধ্যয়নরত মো. রাসেল আহম্মেদ বলেন, অতীতে চীন সবসময় বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে জোর দাবি জানালে, চীনে পড়ুয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীন সরকার একটা আশানুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমি আশাবাদী।
তিনি বলেন, চীন উচ্চ শিক্ষার জন্য একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় দেশ। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বহু শিক্ষার্থী স্কলারশিপে চীনে পড়াশোনা করতে যায়। তারা চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে সুনামের সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০২০ সালের পর থেকে চীন সরকার তাদের জিরো কোভিড পলিসি নীতির কারণে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের জন্য বর্ডার বন্ধ রেখেছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে। যেটা প্রকৃতপক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের এডুকেশন লাইফে অনেকটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
চীনের নানজিং ইউনিভার্সিটি অফ ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড টেকনোলজি তে মাস্টার্স অফ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ্ আল বারী ভূবন বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, অর্থনৈতিক, সামরিক, আবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেক্টরে চীন বাংলাদেশকে অকুন্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চীন বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা সামগ্রী উপহার দিয়ে দুদেশের সম্পর্কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জিডিপিসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন বয়ে আনবে।
আশা করছি অদূর ভবিষ্যতেও চীন বাংলাদেশের সাথে বরাবরের মতো পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বেরদ্বার উন্মোচিত রাখবে।
আমি মনে করি, আসন্ন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে বাংলাদেশে অবস্থানরত আটকে পড়া চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের চীনে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও চীনা সরকারের মধ্যে কার্যকরী এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হবে।
ইতিমধ্যে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, পাকিস্তান থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী চীনে ফেরত গিয়েছে এবং সম্প্রতি আফগানিস্তানে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পর আফগানিস্তানের চীনা দূতাবাস পহেলা আগস্ট থেকে আফগান নাগরিকদের জন্য চীনের সকলধরণের ভিসা প্রদানের সেবা চালুর ঘোষণা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের চীনা দূতাবাস সম্প্রতি তাদের ভিসা আবেদন কার্যক্রম শুরু করলেও, এখনও বাংলাদেশ থেকে চীনে শিক্ষার্থী ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে বা শিক্ষার্থীদের ভিসা কার্যক্রম নিয়ে তেমন আশানুরূপ কোনো দৃঢ় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
একজন সাধারন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর কাছে জোড় দাবী জানাচ্ছি যে, চীনের সাথে জোর কূটনীতিক তৎপরতার মাধ্যমে, অনাতিবিলম্বে বাংলাদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চীনে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।