Hi

ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কারমাইকেল কলেজে কাকসু নির্বাচন রোড ম্যাপ ঘোষণা

ইশরাত জাহান ইশা মনি রংপুর প্রতিনিধি:

কারমাইকেল কলেজ উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাজারো ছাত্র–ছাত্রীর স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র এই ক্যাম্পাস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কাকসু নির্বাচন না থাকায় শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা ও ন্যায্য দাবি জানানোর কোনো বৈধ ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল না।এখন যদি কাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে যাবে নতুন সুযোগের দরজা—নিরাপদ, স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ার এক বাস্তব পথ।

কাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করবে। নিজের প্রতিনিধি নিজেই বেছে নেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণ বাড়াবে।
ক্যাম্পাস পরিচালনায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হবে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে যেমন:
হোস্টেলের সমস্যা, লাইব্রেরির অভাব, ল্যাবের অপ্রতুলতা, নিরাপত্তা–সঙ্কট, টয়লেট সমস্যা—এসব দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির সমাধানে কাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিধিরা নিয়মিত এসব সমস্যা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবে এবং সমাধানের জন্য চাপ তৈরি করবে, ফরমফিলাপ ফি বৃদ্ধি, পরীক্ষা–সংক্রান্ত অনিয়ম, হোস্টেল বরাদ্দ, কোর্স বরাদ্দসহ নানা ক্ষেত্রে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কাকসু থাকলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের মতামত বিবেচনা করতে হবে। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে।

একটি সক্রিয় ছাত্র সংসদ নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, কুইজ, সেমিনার, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারে। ছাত্র–ছাত্রীরা তাদের প্রতিভা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বাস্তব ক্ষেত্র পাবে। ক্যাম্পাস আরও প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল হয়ে উঠবে।

র‍্যাগিং, যৌন হয়রানি, ছাত্রীদের নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে কাকসু শক্ত অবস্থান নিতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী অন্যায়ের শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম থাকবে। এতে ক্যাম্পাস হবে আরও নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক। যে দাবি শিক্ষার্থীরা আলাদা ভাবে বলতে পারে না, তা কাকসু সংগঠিত কণ্ঠে তুলে ধরবে। হাজারো শিক্ষার্থীর চাহিদা একসাথে উচ্চারিত হলে দাবি আদায়ের সম্ভাবনাও বহুগুণ বেড়ে যায়। কাকসু নেতৃত্ব, সংগঠন, পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করে—যা ভবিষ্যৎ জীবনে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগামী দিনের সমাজনেতা ও রাষ্ট্রনেতাদেরও জন্ম হয় এমন প্ল্যাটফর্ম থেকে। কারমাইকেল কলেজে কাকসু নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়—এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা, সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। একটি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ছাত্র সংসদ কলেজকে আরও অগ্রগামী, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থী–বন্ধব করে তুলতে পারে।

কাকসু নির্বাচন মানে—শিক্ষার্থীর শক্তি, শিক্ষার্থীর কণ্ঠ, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভালুকায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ

কারমাইকেল কলেজে কাকসু নির্বাচন রোড ম্যাপ ঘোষণা

Update Time : ০৭:২৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ইশরাত জাহান ইশা মনি রংপুর প্রতিনিধি:

কারমাইকেল কলেজ উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। হাজারো ছাত্র–ছাত্রীর স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র এই ক্যাম্পাস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কলেজে কাকসু নির্বাচন না থাকায় শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা ও ন্যায্য দাবি জানানোর কোনো বৈধ ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল না।এখন যদি কাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে যাবে নতুন সুযোগের দরজা—নিরাপদ, স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ার এক বাস্তব পথ।

কাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পুনরুজ্জীবিত করবে। নিজের প্রতিনিধি নিজেই বেছে নেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও অংশগ্রহণ বাড়াবে।
ক্যাম্পাস পরিচালনায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হবে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে যেমন:
হোস্টেলের সমস্যা, লাইব্রেরির অভাব, ল্যাবের অপ্রতুলতা, নিরাপত্তা–সঙ্কট, টয়লেট সমস্যা—এসব দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির সমাধানে কাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিধিরা নিয়মিত এসব সমস্যা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবে এবং সমাধানের জন্য চাপ তৈরি করবে, ফরমফিলাপ ফি বৃদ্ধি, পরীক্ষা–সংক্রান্ত অনিয়ম, হোস্টেল বরাদ্দ, কোর্স বরাদ্দসহ নানা ক্ষেত্রে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। কাকসু থাকলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের মতামত বিবেচনা করতে হবে। এতে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে।

একটি সক্রিয় ছাত্র সংসদ নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, কুইজ, সেমিনার, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারে। ছাত্র–ছাত্রীরা তাদের প্রতিভা বিকাশ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বাস্তব ক্ষেত্র পাবে। ক্যাম্পাস আরও প্রাণবন্ত ও সৃজনশীল হয়ে উঠবে।

র‍্যাগিং, যৌন হয়রানি, ছাত্রীদের নিরাপত্তা—এসব বিষয়ে কাকসু শক্ত অবস্থান নিতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী অন্যায়ের শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম থাকবে। এতে ক্যাম্পাস হবে আরও নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক। যে দাবি শিক্ষার্থীরা আলাদা ভাবে বলতে পারে না, তা কাকসু সংগঠিত কণ্ঠে তুলে ধরবে। হাজারো শিক্ষার্থীর চাহিদা একসাথে উচ্চারিত হলে দাবি আদায়ের সম্ভাবনাও বহুগুণ বেড়ে যায়। কাকসু নেতৃত্ব, সংগঠন, পরিকল্পনা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করে—যা ভবিষ্যৎ জীবনে পেশাগত ও ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগামী দিনের সমাজনেতা ও রাষ্ট্রনেতাদেরও জন্ম হয় এমন প্ল্যাটফর্ম থেকে। কারমাইকেল কলেজে কাকসু নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়—এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা, সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। একটি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ছাত্র সংসদ কলেজকে আরও অগ্রগামী, স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থী–বন্ধব করে তুলতে পারে।

কাকসু নির্বাচন মানে—শিক্ষার্থীর শক্তি, শিক্ষার্থীর কণ্ঠ, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।