কচুয়ায় সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নিয়ে অপপ্রচার, স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া সংবাদ প্রচার
-
Reporter Name - Update Time : ০৮:১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২
- ৩৩০ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কচুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নিয়ে অপপ্রচার, স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া সংবাদ প্রচার করে আসছে সাংবাদিক মফিজুল ইসলাম বাবুল।
কচুয়া উপজেলায় সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় মোট ১৫টি মাতৃকেন্দ্র রয়েছে। বিগত দিনে এই ১৫টি মাতৃকেন্দ্র নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল। ২০০০ সাল থেকে লক্ষ লক্ষ সরকারি টাকা অলস (খেলাপি ঋণ) হয়ে পড়ে ছিল। বর্তমান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম যোগদানের পর মাতৃকেন্দ্র গুলো সচল করেছে। বর্তমানে প্রতিটি কেন্দ্রে দৃশ্যমান সাইনবোর্ড রয়েছে। প্রতি মাসে নিয়মিত ১৫ জন সম্পাদিকাদের নিয়ে মিটিং এবং ঋণের কিস্তি আদায় করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে তথ্য নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ মাতৃকেন্দ্রে ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অনেক ঋণ বকেয়া পড়ে আছে। আরোও জানা যায়, এই ঋণ খেলাপিদের অধিকাংশ মাতৃকেন্দ্রের সম্পাদিকাদের আত্মীয়-স্বজন। সময় মত ঋণ পরিশোধ না করায় সরকারি অর্থের ক্ষতি সাধন হয়েছে। এই সকল কারণে এই ১৫টি মাতৃকেন্দ্রের মধ্যে ৭ কেন্দ্রে ৭ জন সম্পাদিকাকে বিলুপ্ত করে নতুন ৭ জন সম্পাদিকা নিয়োগ করা হয় এবং পুরাতন ৮ সম্পাদিকাকে উপজেলা স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে পুনঃ নিয়োগ করে মাতৃকেন্দ্রের কার্যক্রম সক্রিয় করা হয়। মাতৃকেন্দ্রের প্রতি সম্পাদিকাদের মাসিক সম্মানী ১ হাজার টাকা করে। বছরে ১২ হাজার। মাতৃকেন্দ্রের সম্পাদিকাদের সম্মানীর টাকা বছরে ২ ধাপে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতি মাসে মিটিং করে কিস্তি আদায়ের উপর সম্মানী প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য যে, এই সম্মানী বয়স্ক/বিধবা ভাতার মত সাধারণ কোন ভাতা নয়, এটা হলো সম্পাদিকাদের বেতন। মনে করেন, এক সম্পাদিকা তার কেন্দ্রে ২০০২ সালের বকেয়া আছে ৪৪,০০০/- টাকা, তাকে অফিস থেকে বলা হয়েছে যে আগের বকেয়া ক্লিয়ার করুন তারপর সম্মানী পাবেন। এ এক ধরণের কৌশল। এ ধরনের কৌশলে অনেক পুরাতন বকেয়া উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মর্মে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে জানা যায়।
জানা যায়, কোন প্রকার পরিচয়পত্র সংযুক্ত না করে মফিজুল ইসলাম বাবুল কর্তৃক লিখিত প্রথম চিঠি সমাজ সেবা অফিসে জমা দেয়ার পরের দিনই তার জবাব পেয়েছিল। কিন্ত তা দ্রুত প্রকাশ না করে পুনরায় ৭ দিন পর ২য় চিঠি নিয়ে সমাজ সেবা অফিসে গিয়ে কর্মকর্তার সাথে বাকবিতন্ডা করে জমা না দিয়ে ফিরে এসে পোস্ট অফিস মাধ্যমে তা পূনরায় প্রেরণ করেন। আরোও জানা যায়, সমাজসেবা কর্মকর্তার চাচা মৃত্যুবরণ করায় গত সোমবার থেকে বুধবার ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে পোস্ট অফিসের পিওন চিঠি নিয়ে অফিসে গেলে কর্মকর্তাকে না পেয়ে চিঠি ফেরত নিয়ে আসে।
মফিজুল ইসলাম বাবুল সম্পর্কে তথ্য নিয়ে জানা যায়, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা জনাব আক্তার উদ্দিন প্রধান এর সাথে তার ভীষণ সখ্যতা ছিল। উল্লিখিত কর্মকর্তা যখন দূর্নীতির জন্য সমালোচিত হয়ে অন্যত্র স্ট্যান্ড রিলিজ হয়ে চলে যায়, তখন সে ওই কর্মকর্তার পক্ষে সাফায় গেয়ে নিউজ করে এবং ইউটিউবে ভিডিও দেয়। পরবর্তীতে নতুন কর্মকর্তা জনাব মোঃ নাহিদ ইসলাম যোগদান করলে মফিজুল ইসলাম বাবুল একদিন আকস্মিক অফিসে গিয়ে মাস্ক ইস্যু নিয়ে ভিডিও ধারণ করতে অফিসারের সাথে বাকবিতন্ডা করে। এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা নাহিদ ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব শাহাজান শিশির এর নিকট মৌখিক অভিযোগ দিলে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা আক্তার উদ্দিন প্রধানের বিরুদ্ধে দূণীর্তির অভিযোগে দায়েরকৃত বিভাগীয় মামলায় বর্তমান কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলামকে মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে, যা এখনও সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ে চলমান রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে এ বিষয়ে বর্তমান কর্মকর্তাকে সঠিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন না করার নিমিত্তে¦ সাবেক কর্মকর্তার পক্ষে মফিজুল ইসলাম বাবুল বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ ও হেয় প্রতিপন্ন করতেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নাহিদ ইসলাম থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমাজসেবা মাতৃকেন্দ্রের সম্পাদিকাদের সম্মানীর টাকা প্রথম ধাপে একজনকে কম দেওয়া হয়েছে সেটা ঠিক, কিন্তু কেন সম্পাদিকাকে টাকা কম দেয়া হয়েছে সেটা তিনি আগে জানতে চাইতে পারতেন! তিনি তা না করে সবচেয়ে স্পর্শকাতর নথি “মাস্টার রোল” চেয়ে বসলেন। আমি ওনাকে লিখিত আবেদন করতে বলি, এরপর তিনি ১ম চিঠি অফিসে জমা দিয়েই ফেইসবুকে/ ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টালে নিউজ করে সমাজ সেবার সম্মানহানি ঘটায়। চিঠির জবাব পাওয়ার পর তা প্রকাশ না করে তিনি আবার ২য় চিঠি প্রেরণ করে কি বোঝাতে চেয়েছেন তা বোধগম্য নয়।
মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি কোন সাংবাদিক সরকারি অফিসের নথিপত্র দেখতে চায়, তবে তথ্য অধিকার আইন অনুসারে তা দেখার জন্য ওই অফিস বরাবর লিখিত ভাবে আবেদন করতে হবে অথবা ফর্ম ‘ক’ মাধ্যমে আবেদন দাখিল করতে হয়। আবেদন দাখিলের ২০ কর্মদিবসের মধ্যে দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তা তা দেখাবে কিনা তা জানাবে। কর্মকর্তা আরো বলেন, তথ্য চাওয়া এবং নথিপত্র চাওয়া এক নয়। দুইটাই আলাদা বিষয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরো বলেন, আপনারা যদি এতটাই উদ্বিগ্ন হন তাহলে সরকারি যে ঋণগুলো যুগের পর যুগ অলস পড়ে আছে, সেগুলো সম্পর্কে সিরিজ নিউজ করে কচুয়ার জনগণকে জানিয়ে দিন! দেখেন হয়ত আপনার আশেপাশের কারোও না কারোও মুখোশ উন্মোচন হয়ে যেতে পারে! একই সাথে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

















