রংপুরে জমি নিয়ে হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ
-
Reporter Name - Update Time : ০৩:৪৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অগাস্ট ২০২৩
- ১৪৭ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে হামলা মামলা দিয়ে বাড়ী ছাড়া করার অভিযোগ করেছে একটি অসহায় পরিবার। সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার দাবি করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সদর উপজেলা প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে অসহায় আক্তারুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের রায় পাওয়ার পরেও নিজ জমিতে যেতে পারছিনা বরং ভূমিদস্যু রংপুর নগরীর গণেশপুর দোলাপাড়া এলাকার মৃত-আফতাব উদ্দিনের ছেলে সাখোয়াত হোসেন, সাব্বির হোসেন ও মৃত- আজগার আলীর স্ত্রী নূর আফরোজা গংদের হুমকিতে ভয়ে আমার পরিবার নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
উল্লেখ্য যে, দেওডোবা মৌজার জেএল নং-১০২, বুজারত খতিয়ান নং-৪৮৩, খারিজ খতিয়ান নং-৫৭৬৩, সাবেক দাগ নং-৮৩৮, বুজারত দাগ নং-৮৭৭, জমি ত্রিশ শতকের মধ্যে ২০ শতকের মধ্যে ১০ শতক তন্মধ্যে ৪ শতক জমি আমার মা মোছা: আক্তারা বেগম আমার ছোট ভাই আখিনুরসহ আমার নামীয় সম্পত্তি। আমাদের প্রতিপক্ষ মৃত- আজগার আলীর স্ত্রী নূর আফরোজা বেওয়া, তার ছেলে ইমরান, মেয়ে উমাইয়া বেগম, মৃত- আফতাব আলীর ছেলে সাখোয়াত হোসেন উভয়ের সাং- গণেশপুর দোলাপাড়া, রংপুর মহানগর রংপুদের মধ্যে নূর- আফরোজার দেওডোবা মৌজার জেএল নং-৯৫, বুজারত খতিয়ান নং-২২৩৫, সাবেক দাগ নং-১৪৮, দাগ নং-১৫০, নতুন দাগ নং-৩৩১২ এর ২ শতক জমির সাথে আমাদের তপশীল বর্ণিত ৪ শতক জমির মবদোলা বা বিনিময়পত্র দলিল নং-৬৩১০/০৯ ইং সম্পাদন হয়। দলিল সম্পাদন হওয়ার পর নূর আফরোজার উক্ত ২ শতক জমির খোঁজ নিয়ে জানতে পারি নূর আফরোজার তপশীল বর্ণিত কোন জমিই নেই। নূর আফরোজা অন্যন্যাদের সহযোগীতায় প্রতারণা মূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে আমাদের তপশীল বর্ণিত ৪ শতক জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ভূয়া তপশীল বর্ণিত ২ শতক জমি দিয়ে আমাদের সাথে মবদোলা দলিল নং-৬৩১০/০৯ ইং সম্পাদন করেন। উক্ত ঘটনায় আমার মাসহ আমরা দুই ভাই বর্ণিত দলিল নং-৬৩১০/০৯ বাতিল চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে অন্য মোকাদ্দমা নং-২১৭/২০১৯ দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
আক্তারুল আরো জানান, আমরা রায় পাওয়ার পরও ভূমিদস্যু সাখোয়াত, নূর আফরোজা গং আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আমাদের তপশীল বর্ণিত ৪ শতক জমি দখলের পাওয়ারা করে আসছে। ঘটনার দিন গত ২ আগষ্ট ২০২৩ ইং তারিখে আমরা আমাদের জমিতে গেলে নূর আফরোজা ও সাখোয়াতের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের এক সঙ্গবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রে-সস্ত্রের সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর অকর্তিক হামলা চালায়। এসময় আমার ভাই আখিনুর গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আবার মেডিকেলেও সাখোয়াত গং ১০/১৫ সন্ত্রাসী নিয়ে গিয়ে আমার ভাইয়ের উপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা চালায়। পরে আমার ভাই আখিনুর জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
এছাড়াও তারা ঘটনাস্থলে আমার মা-বাবাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এসময় আমার মায়ের কাপড় টানা-হেচড়া করে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এদিকে এ ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য নূর আফরোজা বাদী হয়ে উল্টো আমাকে সহ ৫ জনকে বিবাদী করে রংপুর মেট্রোপলিটন (আরপিএমপি) কোতয়ালী থানায় গত ৬ আগষ্ট ২০২৩ ইং তারিখে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১০। আমরা মিথ্যা মামলাটির সুষ্টু তদৗল্প দাবী করছি। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আপনাদের মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করছি। যেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমরা ন্যায়-বিচার পাই।
জাতির বিবেক বন্ধুগণ, আমরা গরিব মানুষ, একদিন কাজ না করলে আমাদের পেটে ভাত জোটে না। গ্রেফতার আতঙ্কে ও সাখোয়াত বাহিনীর ভয়ে বর্তমানে আমরা স-পরিবার পলাতক রয়েছি। তাই কোন কর্ম করতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। যে জমিতে আমার দাদার কবর রয়েছে সেই জমিতে আজ আমরা সাখোয়াত বাহীনিদের ভয়ে যেতে পারছি না। সাখোয়াত-নূর আফরোজা গংরা আমাদের পিছনে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছে। যে কোন সময় তারা আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।






















