ভূমি দস্যু মুছা মিয়ার আতঙ্কে অতিষ্ঠ পরানগঞ্জের এলাকাবাসী
-
Reporter Name - Update Time : ০৫:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩
- ১৩৭ Time View

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
পরানগঞ্জে সন্ত্রাসী দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল নেওয়ার চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ভূমি দস্যু বিরুদ্ধে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ফদিয়ার চর গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ফদিয়ার চর নামক এলাকায় চাঁদা দাবি করাসহ জমি দখলের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন নিরীহ এক কৃষক আব্দুল বারী। তার জমি দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷
স্থানীয় সূত্রে যানাযায় তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করে বেড়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না বলে জানা যায়। নিরীহ ওই কৃষক তার জমিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করাসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে।
এ ঘটনায় জমির মালিক ভূক্তভোগী আব্দুল বারী বাদী হয়ে গত ৩/৭/২০২৩ ইং রোজ সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় পুলিশ সুপারের কার্যালয় সহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
পরানগঞ্জে ফদায়ার চর গ্রামে সন্ত্রাসী দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল নেওয়ার ভূমি দস্যু,মোঃ মুছা মিয়া, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। আর মুছা মিয়া, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছেও বলে জানা যায়।
এলাকাবাসী সাংবাদিকদের বলেন অন্যের ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক খুটি স্থাপন কর চাঁদা দাবি করে জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছ ভূমি দস্যুরা।
একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায়, ফদিয়ার চর গ্রামে মাতব্বরদের নিয়ে গ্রামের মধ্যে বিচারে বসেন সেখানে দুই পক্ষের কাগজ পত্ৰ দেখানো হলে সেই বিচারেও জমি পায়না বলে জানান।
ভূক্তভোগী আব্দুল বারির ক্রয়কৃত ভোগ দখলীয় জমি যাহার দলিল নং- ৬১৫৫ তাং-০৯ ইং জিএল নং- ৩৫ আব্দুল্লাপুর মৌজার ৫২ নং বিআরএস খতিয়ানভুক্ত, সাবেক দাগ ৮৮, ৯৬ হাল দাগ ১৬৩ নং দাগের ১০.০০ শতাংশ জমি ক্রয়কৃত সম্পত্তি দলিল নং-৬১৫৫ তাং ৭-০৮-১৯ ইং মূলে প্রাপ্ত হয়।
এমনকি আমার জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বিধায় আমি বাদী হয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় পুলিশ সুপারের কার্যালয় সহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করি। আমার জমিতে গেলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এই ভাবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সম্পত্তি লুটপাট চাঁদা দাবি করাসহ নানা অপকর্মের সাথে জরিত একাধিক অভিযোগ রয়েছে মুছা মিয়া, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে। সে চরাঞ্চলের চিহ্নিত ত্রাস, তার সামনে অনেকেই কথা বলার সাহস করে না,। এ ব্যাপারে এলাকায় সালিস দরবার হয়েছে সালিশ দরবারে মীমাংসা করেন মুছা মিয়া তাতেও রাজি হয় নাই। জোরপূর্বক জমি দখল করিবে বলে হুমকি দিয়ে আসছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মুছা মিয়া, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিনএসব অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার নিজের জমি আমি কারো জমি দখল করি নাই। তাছাড়া কোন সন্ত্রাসী দিয়ে জমি দখলও করি নাই ।
তার নিজস্ব বাহিনীর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি
বলেন, আমার কোন সন্ত্রাসী বাহিনী নাই। জমি দখলের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল দুইপক্ষের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ আপুস মীমাংসার করে ছিলেন।
স্থানীয় জনগণ সাংবাদিকদের বলেন মুছা, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন ভূমিদস্যু সহ বিভিন্ন জনগণের সাথে প্রতারণা করে আসছেন এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে দীর্ঘদিন যাবত নিজের প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সম্মত্তি দখল লুটপাট চাঁদা দাবি করা তার নিত্যদিনের পেশা বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফদিয়ার চর গ্রামের সাধারণ মানুষ মোঃ মুছা মিয়া, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন ভূমি দস্যুদের কাছে জিম্মি রয়েছে অনেকেই। স্থানীয় আবু তাহের, মোঃআমছু মিয়া, মোফাজ্জল হোসেন নামক কৃষক ভূমি দস্যুর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন জমি সংক্রান্ত বিরোধীদে আমাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছে।
এলাকার গরিব সাধারণ মানুষ আরও বলেন এর কোন বিচার পাইনি। তারা এলাকার সন্ত্রাসী দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক বলে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা মুছা, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন গংদের অত্যাচারে অনিষ্ট গ্রামবাসী।
ফদিয়ার চর গ্রামের সাধারণ মানুষ জিম্মি এদের কাছে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মুছা, মোবারক হোসেন, মেরাজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনানোক ব্যবস্থা নেওয়া হোক বলে এলাকাবাসীর গণদাবি জানিয়েছেন। কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরে ইন্সপেক্টর আশরাফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলেও জানা যায়।


















