Hi

ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে বন্ধু নিয়ে বোনের ঘরে ভাই, চিনে ফেলায় হত্যা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৪৮ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে আপন বোনের বাসায় বন্ধুকে নিয়ে চুরি করতে গিয়েছিলেন রুবেল। বিষয়টি টের পেয়ে যায় বোন শাহনাজ বেগম শিমু (৩৯)। একপর্যায়ে ভয়ে চিৎকার শুরু করেন তিনি। আর বোনকে থামাতে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ভাই।

এ ঘটনায় বন্ধুসহ আপন ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে আপন বোনের ঘরে বন্ধুকে নিয়ে চুরি করার পরিকল্পনা করে রুবেল। এ সময় বোন চিৎকার করলে তার হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় তারা। পরে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের নিজ বসতঘর থেকে শিমু নামে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা কাপাসিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে শাহনাজ বেগম শিমুর ছোট ভাই ও কাপাসিয়ার কুলগঙ্গা গ্রামের মো. কামরুজ্জামান রুবেল (৩৬) ছাড়াও তার বন্ধু ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার মো. মিনালকে (২১) গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

গাজীপুর পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. সালেহ্ ইমরান বলেন, নিহত শিমুর আপন ছোট ভাই রুবেল গাজীপুরে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করতো। পাঁচ মাস আগে রুবেল ওই হোটেলের চাকরি ছেড়ে দিলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা ঋণ করে। পরে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বোন শিমুর বাসায় চুরির পরিকল্পনা করে সে। এরই ধারাবাহিকতায় অপর আসামি মো. মিনালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে রুবেল ও মিনাল গভীর রাতে শাহনাজ আক্তারের ঘরের জানালা খুলে চুরির উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে তাদের সাড়াশব্দ পেয়ে শিমু চিৎকার দিলে মিনাল ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায় এবং রুবেল শিমুর হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে মিনালের সঙ্গে শিমুর ধস্তাধস্তি হলে মিনাল শিমুর মুখে আঘাত করে এবং শিমুর বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরে। এরপর আসামি রুবেল টেবিলের ড্রয়ার থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইল নিয়ে শিমুর হাত ও পা-বেঁধে রেখে চলে যায়।

ঘটনার পরদিন সকালে রুবেল চাকু, প্লাস ও মোবাইল সেট ভেঙে ঝাজর এলাকায় ব্রিজের নিচে খালের পানিতে ফেলে দেয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে। এ ঘটনায় রুবেলকে গ্রেপ্তারের পর স্বর্ণ বিক্রির ৫৭ হাজার টাকা উদ্ধার ছাড়াও তার দেয়া তথ্যমতে গাজীপুর মহানগরের ঝাজর কবরস্থান ব্রিজের নিচে খাল থেকে প্লাস, সুইচ গিয়ার চাকু ও চোরাইকৃত মোবাইল সেটের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বলেন, নিহতের ভাই রুবেল ও মিনাল স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বর্ণ বিক্রির অবশিষ্ট টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

গভীর রাতে বন্ধু নিয়ে বোনের ঘরে ভাই, চিনে ফেলায় হত্যা

Update Time : ০৩:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ এপ্রিল ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে আপন বোনের বাসায় বন্ধুকে নিয়ে চুরি করতে গিয়েছিলেন রুবেল। বিষয়টি টের পেয়ে যায় বোন শাহনাজ বেগম শিমু (৩৯)। একপর্যায়ে ভয়ে চিৎকার শুরু করেন তিনি। আর বোনকে থামাতে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ভাই।

এ ঘটনায় বন্ধুসহ আপন ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জানা যায়, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে আপন বোনের ঘরে বন্ধুকে নিয়ে চুরি করার পরিকল্পনা করে রুবেল। এ সময় বোন চিৎকার করলে তার হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় তারা। পরে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের নিজ বসতঘর থেকে শিমু নামে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা কাপাসিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে শাহনাজ বেগম শিমুর ছোট ভাই ও কাপাসিয়ার কুলগঙ্গা গ্রামের মো. কামরুজ্জামান রুবেল (৩৬) ছাড়াও তার বন্ধু ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার মো. মিনালকে (২১) গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

গাজীপুর পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. সালেহ্ ইমরান বলেন, নিহত শিমুর আপন ছোট ভাই রুবেল গাজীপুরে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করতো। পাঁচ মাস আগে রুবেল ওই হোটেলের চাকরি ছেড়ে দিলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা ঋণ করে। পরে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে বোন শিমুর বাসায় চুরির পরিকল্পনা করে সে। এরই ধারাবাহিকতায় অপর আসামি মো. মিনালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরবর্তীতে রুবেল ও মিনাল গভীর রাতে শাহনাজ আক্তারের ঘরের জানালা খুলে চুরির উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে।

পরে তাদের সাড়াশব্দ পেয়ে শিমু চিৎকার দিলে মিনাল ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায় এবং রুবেল শিমুর হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে মিনালের সঙ্গে শিমুর ধস্তাধস্তি হলে মিনাল শিমুর মুখে আঘাত করে এবং শিমুর বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরে। এরপর আসামি রুবেল টেবিলের ড্রয়ার থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইল নিয়ে শিমুর হাত ও পা-বেঁধে রেখে চলে যায়।

ঘটনার পরদিন সকালে রুবেল চাকু, প্লাস ও মোবাইল সেট ভেঙে ঝাজর এলাকায় ব্রিজের নিচে খালের পানিতে ফেলে দেয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে। এ ঘটনায় রুবেলকে গ্রেপ্তারের পর স্বর্ণ বিক্রির ৫৭ হাজার টাকা উদ্ধার ছাড়াও তার দেয়া তথ্যমতে গাজীপুর মহানগরের ঝাজর কবরস্থান ব্রিজের নিচে খাল থেকে প্লাস, সুইচ গিয়ার চাকু ও চোরাইকৃত মোবাইল সেটের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে গাজীপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বলেন, নিহতের ভাই রুবেল ও মিনাল স্বেচ্ছায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বর্ণ বিক্রির অবশিষ্ট টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে।