Hi

ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে বিছানা ধুতে গিয়ে মৎস্য ঘেরের পানিতে ডুবে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩
  • ১৯০ Time View

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা)

যশোরের কেশবপুরে মাদ্রাসা পড়ুয়া জিহাদ হোসেন (৬) নামের এক শিশু বিছানা ধৌত করতে গিয়ে মৎস্য ঘেরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার আলতাপোল গ্রামে। সে ওই গ্রামের আলমগীর হোসেন মীর এর ছেলে। মৃত্যুর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলতাপোল গ্রামের আলমগীর হোসেন মীর এর ছেলে জিহাদ হোসেন (৬) একই গ্রামের মাওলানা আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস এর নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা ফতেমাতুজ্জোহরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসার ১ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। সেই সুবাদে মাদ্রাসা পরিচালনাকারী আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস শিশু ছাত্র জিহাদকে ব্যবহৃত বিছানা ধৌত করতে বলেন। তার কথামতো ২৩মে দুপুরে জিহাদ বিছানা ধৌত করতে পাশ্ববর্তী শংকর পাল এর মৎস্য ঘেরে যায়। ওইসময় ঘেরের পানিতে ডুবে শিশু জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওলানা আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস তার নিজ বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাসিক বেতনের মাধ্যমে প্রায় ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের দিয়ে তিনি প্রায় প্রায় এ ধরনের কাজ করিয়ে থাকেন। তাকে নিষেধ করলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেন না।
মাদ্রাসার বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা পরিচালনাকারী আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস এর স্ত্রী মুসলিমা বেগম বলেন, আমরা এলাকার মানুষের জানিয়ে ৪ বছর আগে এই মাদ্রাসা বানিয়েছি। সেই থেকেই আমি ও আমার স্বামী মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছি। এখানে ৩৯ জন মতো ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করে। স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামী বাহিরে কোথাও আছে। খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায় তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

কেশবপুরে বিছানা ধুতে গিয়ে মৎস্য ঘেরের পানিতে ডুবে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু

Update Time : ০৩:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা)

যশোরের কেশবপুরে মাদ্রাসা পড়ুয়া জিহাদ হোসেন (৬) নামের এক শিশু বিছানা ধৌত করতে গিয়ে মৎস্য ঘেরের পানিতে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার আলতাপোল গ্রামে। সে ওই গ্রামের আলমগীর হোসেন মীর এর ছেলে। মৃত্যুর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আলতাপোল গ্রামের আলমগীর হোসেন মীর এর ছেলে জিহাদ হোসেন (৬) একই গ্রামের মাওলানা আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস এর নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা ফতেমাতুজ্জোহরা (রাঃ) মহিলা কওমী মাদ্রাসার ১ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো। সেই সুবাদে মাদ্রাসা পরিচালনাকারী আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস শিশু ছাত্র জিহাদকে ব্যবহৃত বিছানা ধৌত করতে বলেন। তার কথামতো ২৩মে দুপুরে জিহাদ বিছানা ধৌত করতে পাশ্ববর্তী শংকর পাল এর মৎস্য ঘেরে যায়। ওইসময় ঘেরের পানিতে ডুবে শিশু জিহাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওলানা আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস তার নিজ বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাসিক বেতনের মাধ্যমে প্রায় ৪০ জন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের দিয়ে তিনি প্রায় প্রায় এ ধরনের কাজ করিয়ে থাকেন। তাকে নিষেধ করলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেন না।
মাদ্রাসার বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা পরিচালনাকারী আইয়ুব হোসাইন বিশ্বাস এর স্ত্রী মুসলিমা বেগম বলেন, আমরা এলাকার মানুষের জানিয়ে ৪ বছর আগে এই মাদ্রাসা বানিয়েছি। সেই থেকেই আমি ও আমার স্বামী মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছি। এখানে ৩৯ জন মতো ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করে। স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্বামী বাহিরে কোথাও আছে। খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায় তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মাদ্রাসা পড়ুয়া এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের লোকজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।