আজও সেই প্রতিজ্ঞায়
-
Reporter Name - Update Time : ১০:০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ১ Time View

ইয়াসমিন আক্তার
ব্যস্ত একজন মানুষের সঙ্গে হঠাৎ করেই পরিচয় হয়েছিল প্রীতির। একদিন আবির প্রীতির কাছে ফোন নাম্বার চেয়েছিল। প্রীতিও কোনো এক অজানা বিশ্বাসে তাকে নিজের নাম্বারটা দিয়েছিল।
সেই ছোট্ট একটি মুহূর্ত থেকেই শুরু হয়েছিল তাদের পরিচয়।
প্রথমে দুজনের মধ্যে সাধারণ কথা হতো। তারপর ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গড়ে উঠল বন্ধুত্বে। কথা বলতে বলতে কখন যে দুজন দুজনের কাছে এতটা আপন হয়ে উঠেছিল, তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।
প্রীতি জানত, আবির বিবাহিত। তাই তাকে পাওয়ার কোনো স্বপ্ন সে কখনো দেখেনি। আবিরও জানত, তাদের সম্পর্কের একটা সীমারেখা আছে। তবুও তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে ছিল এক ধরনের গভীর বিশ্বাস, যেখানে কোনো দাবি ছিল না, ছিল শুধু একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা।
আবিরের কোনো সমস্যা হলে সে প্রীতিকে বলত। নিজের কষ্ট, দুশ্চিন্তা কিংবা মনের অনেক কথা সে প্রীতির সঙ্গে ভাগ করে নিত। প্রীতিও মন দিয়ে তার কথা শুনত, সাহস দিত, প্রয়োজনে পাশে থাকার চেষ্টা করত।
মাঝে মাঝে আবেগের বশে প্রীতি অভিমান করত।
বলত,
“তুমি আমাকে ফোন দিলে না কেন? কথা বললে না কেন? তুমি জানো, তোমার সঙ্গে কথা না হলে আমার কেমন লাগে?”
আবির হয়তো তার অভিমান বুঝত। আর সেই কারণেই একদিন দুজন দুজনকে কথা দিয়েছিল—
তাদের বন্ধুত্ব সারা জীবন থাকবে।
জীবন যতই বদলে যাক, যত ব্যস্ততাই আসুক, তাদের এই বন্ধুত্ব কখনো শেষ হবে না।
প্রীতি সেই কথাটা খুব বিশ্বাস করেছিল।
একদিন আবির হঠাৎ তার স্ত্রীকে প্রীতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। মুহূর্তটা প্রীতির কাছে একটু অস্বস্তিকর ছিল। মনে মনে ভাবছিল, আবিরের স্ত্রী হয়তো তাদের বন্ধুত্বের কথা জেনে তাকে ভুল বুঝতে পারেন। হয়তো হিংসা করতে পারেন, হয়তো মনে কিছু প্রশ্ন জাগতে পারে।
কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার পর প্রীতির মনে তেমন কিছুই হলো না।
আবিরের স্ত্রী খুব স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তার আচরণে প্রীতি কোনো হিংসা, বিরক্তি বা খারাপ লাগার প্রকাশ দেখতে পায়নি।
সেদিন প্রীতির মনে হলো, সব সম্পর্ককে সন্দেহের চোখে দেখতে হয় না। কিছু সম্পর্ক সত্যিই কোনো স্বার্থ ছাড়াই সুন্দর থাকতে পারে।
প্রীতি জানত, আবির তার নয়। তার নিজের সংসার আছে, নিজের পৃথিবী আছে। সেই পৃথিবীতে প্রীতির কোনো অধিকার নেই।
কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের জায়গাটা ছিল আলাদা।
তারা দুজন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রীতি আজও সেই প্রতিশ্রুতির কাছে আবদ্ধ।
সময় বদলেছে। জীবনে ব্যস্ততা এসেছে। অনেক কিছুই হয়তো আগের মতো নেই। তবুও প্রীতির মনে সেই কথাটা আজও একই রকম রয়ে গেছে—
“তোমাকে পাওয়ার জন্য নয়, একজন ভালো বন্ধু হিসেবে তোমাকে সারা জীবন মনে রাখার জন্যই হয়তো আমাদের এই পরিচয়।”
প্রীতি জানে, কিছু সম্পর্কের কোনো নাম দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। শুধু বিশ্বাস আর সম্মান থাকলেই সেই সম্পর্ক অনেক দূর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
আর তাই আজও প্রীতি সেই প্রতিজ্ঞায় অটল—
যে বন্ধুত্বের শুরু হয়েছিল একটি ফোন নাম্বার দিয়ে, সেই বন্ধুত্ব যেন শেষ না হয় কোনো নীরবতায়।
















