Hi

ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন আদর্শ কৃষক সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ২ Time View

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

একসময়ের সাধারণ কৃষক আব্দুস সাত্তার সানা এখন কলারোয়ার গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনুকরণীয় রোল মডেল। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে। কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের কামারালী গ্রামের এই সফল কৃষকের উদ্যোগে এলাকায় শুরু হয়েছে নিয়মিত ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিং ও কৃষি সমাবেশ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

​শূন্য থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প ​অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম কৃষিকাজে হাত দেন আব্দুস সাত্তার সানা। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন এক বিশাল ‘সবজি সমারোহ মাঠ’। সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। একে একে গড়ে তোলেন মৎস্য ঘের এবং গরু-ছাগলের খামার।

​কৃষির উপার্জনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে একটি মুদি দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন কৃষি জমি ক্রয় ও বন্ধক রেখে বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

​‘কৃষক প্রেমিক দল’ ও স্বেচ্ছাশ্রম নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি সাত্তার সানা। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা কলারোয়ার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি গঠন করেছেন ‘কৃষক প্রেমিক দল’। এই দলের ব্যানারে তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন কৃষি পরামর্শ সভা ও সমাবেশ। তার সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে পুরো যুগীখালী ইউনিয়ন এখন কৃষিখাতে এক উর্বর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

​কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষক। সম্প্রতি যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খালের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৫ ফুট প্রস্থ এবং ৮ ফুট গভীরতার এক বিশাল খাল পুনঃসংস্কার করেন। এতে করে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এখন তিনি রিজারভার ও খাল খনন করে এলাকার চাষিদের পানির চাহিদা মেঠাচ্ছেন।

এছাড়া ৬বিঘা  মিশ্র মৎস্য ঘেরের পাড়ে পড়ে থাকা আইল বা জমিতে ছিম সহ বিভিন্ন সবজির ফসল করে এলাকাবাসীর ত্যাগ লাগিয়েছেন। আর এ কাজে

সার্বক সহযোগীতা করে আসছেন-টেকসই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ এবং আন্তার্জাতিক সংস্থা সলিডারিডাড নে টওয়ার্ক এশিয়া।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, আব্দুস সাত্তার সানার নিঃস্বার্থ পরামর্শ এবং খালের জলাবদ্ধতা দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে তারা এখন নির্বিঘ্নে ফসল ফলাতে পারছেন। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো এলাকার কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারেন, সাত্তার সানা তার বাস্তব প্রমাণ। এলাকার কৃষকরা এখন তাকে একজন ‘কৃষক বন্ধু’ হিসেবেই দেখছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

রামিসার হত্যাকারীর বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবো সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড- প্রধানমন্ত্রী

কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন আদর্শ কৃষক সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব

Update Time : ১০:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

একসময়ের সাধারণ কৃষক আব্দুস সাত্তার সানা এখন কলারোয়ার গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনুকরণীয় রোল মডেল। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে। কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের কামারালী গ্রামের এই সফল কৃষকের উদ্যোগে এলাকায় শুরু হয়েছে নিয়মিত ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিং ও কৃষি সমাবেশ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

​শূন্য থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প ​অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম কৃষিকাজে হাত দেন আব্দুস সাত্তার সানা। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন এক বিশাল ‘সবজি সমারোহ মাঠ’। সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। একে একে গড়ে তোলেন মৎস্য ঘের এবং গরু-ছাগলের খামার।

​কৃষির উপার্জনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে একটি মুদি দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন কৃষি জমি ক্রয় ও বন্ধক রেখে বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ও স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

​‘কৃষক প্রেমিক দল’ ও স্বেচ্ছাশ্রম নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি সাত্তার সানা। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা কলারোয়ার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি গঠন করেছেন ‘কৃষক প্রেমিক দল’। এই দলের ব্যানারে তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন কৃষি পরামর্শ সভা ও সমাবেশ। তার সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে পুরো যুগীখালী ইউনিয়ন এখন কৃষিখাতে এক উর্বর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

​কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষক। সম্প্রতি যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খালের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৫ ফুট প্রস্থ এবং ৮ ফুট গভীরতার এক বিশাল খাল পুনঃসংস্কার করেন। এতে করে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এখন তিনি রিজারভার ও খাল খনন করে এলাকার চাষিদের পানির চাহিদা মেঠাচ্ছেন।

এছাড়া ৬বিঘা  মিশ্র মৎস্য ঘেরের পাড়ে পড়ে থাকা আইল বা জমিতে ছিম সহ বিভিন্ন সবজির ফসল করে এলাকাবাসীর ত্যাগ লাগিয়েছেন। আর এ কাজে

সার্বক সহযোগীতা করে আসছেন-টেকসই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ এবং আন্তার্জাতিক সংস্থা সলিডারিডাড নে টওয়ার্ক এশিয়া।

​স্থানীয় কৃষকরা জানান, আব্দুস সাত্তার সানার নিঃস্বার্থ পরামর্শ এবং খালের জলাবদ্ধতা দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে তারা এখন নির্বিঘ্নে ফসল ফলাতে পারছেন। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো এলাকার কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারেন, সাত্তার সানা তার বাস্তব প্রমাণ। এলাকার কৃষকরা এখন তাকে একজন ‘কৃষক বন্ধু’ হিসেবেই দেখছেন।