Hi

ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রী সেজে ড্রাইভারকে খুন করে অটোরিক্সা ছুরি : পরিবারে শোকের মাতম

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
  • ১৭২ Time View

আতিক – কেন্দুয়া(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :-যাত্রীবেশে চালক গোলাম রব্বানীকে খুন করে অটোরিক্সা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এর ফলে অটোরিক্সা, সিএনজি ও মোটরবাইক চালকদের মধ্যে আতংক উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ অক্টোবর সোমবার রাত অনুমান ১০টার দিকে নেত্রকোনা কেন্দুয়া আঠারোবাড়ী সড়কের ফেনারগাতি এলাকায় বড় কালিয়ান নামক স্থানে।

জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের গাবর কালিয়ান গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিন ভূঞার ছেলে ৩ সন্তানের জনক গোলাম রব্বানী জীবিকার তাগিদে কেন্দুয়া আঠারোবাড়ী সড়কে অটোরিক্সা চালাতেন।

সোমবার রাত অনুমান ৮ টার দিকে তিনি আঠারোবাড়ী রায়বাজার থেকে ৪ জন যাত্রী উঠিয়ে ফেনারগাতি এলাকায় যাচ্ছিলেন।

কিন্তু ফেনারগাতি যাবার আগেই যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গোলাম রব্বানীকে খুন করে অটোরিক্সা নিয়ে চলে যায়।

কেন্দুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল বড়কালিয়ান গ্রামের জনৈক রতন মিয়ার গাছের বাগান থেকে গোলাম রব্বানীর লাশ উদ্ধার করি। ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে গোলাম রব্বানীর লাশ নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।

গোলাম রব্বানির ভাগ্নে কবির হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো তার মামা অটোরিক্সা চালিয়ে কেন্দুয়া আঠারোবাড়ী সড়ক পথে ফেনারগাতি এলাকায় যাচ্ছিলেন। রাত ৮ দিকে রায়বাজার থেকে ৪ জন যাত্রী উঠিয়ে ফেনারগাতি যাবার সময় তার মামাতো ভাইকে কয়টি টাকা দিয়ে যায় তার মামা।

কবির বলেন, আমার মামাতো ভাই যাত্রীদের নাম জানেনা, তবে তাদেরকে দেখলেই চিনতে পারবে।

গোলাম রব্বানীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার স্বামী হারিয়ে আহাজারি করে বলতে থাকেন, আমার সব শেষ অইয়্যা গেছে। আমার স্বামীই অটোরিক্সা চালাইয়া টাকা রোজগার করতেন। তিনিই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। প্রতিদিন রোজগার করলে আমাদের খাওন মিলতো। কিন্তু আমার স্বামীকে যাত্রীরা খুন করে অটোরিক্সাটি নিয়ে যায়। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, ধারণা করছি যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা চালক গোলাম রব্বানীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তকরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই মামলা নেওয়া হবে। তবে আসামী শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

যাত্রী সেজে ড্রাইভারকে খুন করে অটোরিক্সা ছুরি : পরিবারে শোকের মাতম

Update Time : ০৭:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪

আতিক – কেন্দুয়া(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :-যাত্রীবেশে চালক গোলাম রব্বানীকে খুন করে অটোরিক্সা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এর ফলে অটোরিক্সা, সিএনজি ও মোটরবাইক চালকদের মধ্যে আতংক উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ অক্টোবর সোমবার রাত অনুমান ১০টার দিকে নেত্রকোনা কেন্দুয়া আঠারোবাড়ী সড়কের ফেনারগাতি এলাকায় বড় কালিয়ান নামক স্থানে।

জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়ী ইউনিয়নের গাবর কালিয়ান গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিন ভূঞার ছেলে ৩ সন্তানের জনক গোলাম রব্বানী জীবিকার তাগিদে কেন্দুয়া আঠারোবাড়ী সড়কে অটোরিক্সা চালাতেন।

সোমবার রাত অনুমান ৮ টার দিকে তিনি আঠারোবাড়ী রায়বাজার থেকে ৪ জন যাত্রী উঠিয়ে ফেনারগাতি এলাকায় যাচ্ছিলেন।

কিন্তু ফেনারগাতি যাবার আগেই যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গোলাম রব্বানীকে খুন করে অটোরিক্সা নিয়ে চলে যায়।

কেন্দুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল আহম্মেদ জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল বড়কালিয়ান গ্রামের জনৈক রতন মিয়ার গাছের বাগান থেকে গোলাম রব্বানীর লাশ উদ্ধার করি। ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে গোলাম রব্বানীর লাশ নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।

গোলাম রব্বানির ভাগ্নে কবির হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো তার মামা অটোরিক্সা চালিয়ে কেন্দুয়া আঠারোবাড়ী সড়ক পথে ফেনারগাতি এলাকায় যাচ্ছিলেন। রাত ৮ দিকে রায়বাজার থেকে ৪ জন যাত্রী উঠিয়ে ফেনারগাতি যাবার সময় তার মামাতো ভাইকে কয়টি টাকা দিয়ে যায় তার মামা।

কবির বলেন, আমার মামাতো ভাই যাত্রীদের নাম জানেনা, তবে তাদেরকে দেখলেই চিনতে পারবে।

গোলাম রব্বানীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার স্বামী হারিয়ে আহাজারি করে বলতে থাকেন, আমার সব শেষ অইয়্যা গেছে। আমার স্বামীই অটোরিক্সা চালাইয়া টাকা রোজগার করতেন। তিনিই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। প্রতিদিন রোজগার করলে আমাদের খাওন মিলতো। কিন্তু আমার স্বামীকে যাত্রীরা খুন করে অটোরিক্সাটি নিয়ে যায়। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, ধারণা করছি যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা চালক গোলাম রব্বানীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তকরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই মামলা নেওয়া হবে। তবে আসামী শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।