Hi

ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের সঙ্গী : মরহুম এম জুবেদ আলী

  • আতিক
  • Update Time : ০৮:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪
  • ১৪৩ Time View

 আতিক- কেন্দুয়া ,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলায় ১৯৫২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দলের প্রতিটি সম্মেলনেই অংশ নিয়েছেন ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ নেতা এম জুবেদ আলী। আওয়ামী লীগের অনেক বায়োজ্যেষ্ঠ নেতা তার মতো জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবারের সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। কেউ কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সম্মেলনে অংশ নিতে চলে এসেছেন দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি উপেক্ষা করে। চশমা আঁটা ঘোলা চোখে এখানে ওখানে খুঁজে ফিরছেন পুরনো সহকর্মীদের। ঢাকা, জুলাই ২৪ /১৯৫২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দলের প্রতিটি সম্মেলনেই অংশ নিয়েছেন ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ নেতা এম জুবেদ আলী। আওয়ামী লীগের অনেক বায়োজ্যেষ্ঠ নেতা তার মতো জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবারের সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। কেউ কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সম্মেলনে অংশ নিতে চলে এসেছেন দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি উপেক্ষা করে। চশমা আঁটা ঘোলা চোখে এখানে ওখানে খুঁজে ফিরছেন পুরনো সহকর্মীদের। শুক্রবার আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়ে দেখা মেলে দলের বর্ষীয়ান নেতা জুবেদ আলীর সঙ্গে। বয়স ৮০ পার হতে চললো তার। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। তার আগেই ‘শেখের পো’র (বঙ্গবন্ধুর) শিষ্যত্ব নেন। শেখ নেই তার মেয়ে আছে। তাই এখনও লাঠি হাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছেন প্রিয় সংগঠনের সম্মেলনে। ঘোলা হয়ে আসা চোখ, শ্রবনশক্তি কমে আসা কান আর শীর্ণ শরীর নিয়ে এখনও রাজনীতির হিসাব কষে চলেছেন জুবেদ আলী। আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলনের স্মৃতি চারণ করে। জুবেদ আলী বলেন, “১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নিই আমি। এরপর থেকে সবগুলো সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। তখন সংগঠনের নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে মতিঝিলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দু’ হাজার লোক হয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল ২২/২৩। তখন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু), আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমেদ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আব্দুস সালাম খান প্রমুখ।” এ যুগ আর সে যুগের তুলনা করে তিনি বলেন, “তখনকার নেতা-কর্মীরা আদর্শ আর চরিত্রগত দিক থেকে এখনকার নেতাদের চেয়ে ভাল ছিল। তখন আমাদের সামনে লক্ষ্য ছিল। জাতির মুক্তির জন্য নেতারা কাজ করে যাচ্ছিল।” রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে এসেছেন আশীতিপর ইসাহাক আলী। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ডাকেন আলহাজ্ব ডা. ইসাহাক বলে। সেই ১৯৫২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বয়সের কারণে ২০০৪ সালে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও দলের প্রতি টান রয়েই গেছে। তাই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এবারও এসেছেন সম্মেলনে যোগ দিতে। বললেন “জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতিগুলোর একটি হল ৫৭ কী ৫৮ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু) একবার রাজশাহী গিয়েছিলেন। ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে তার হাত ধরে একবার বুলালাম। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছি। সেই স্মৃতি কখনোই ভুলতে পারব না।” ইসাহাক আলী বলেন, “আওয়ামী লীগ তৃণমূলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দল। হাজারো ষড়যন্ত্র এ দলের ভিত্তি নড়াতে পারেনি। কারণ এর ভিত্তি আমাদের মতো হাজারো গ্রামের মানুষের মনের ভেতর। ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের নেতৃত্ব বদল হয়, দল নড়বড়ে হয়। কিন্তু কখনও ভেঙে পড়েনি। আগামী ১০০ বছরেও ভাঙবে না। কিন্তু এর জন্য তৃণমূলের বক্তব্য কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। কেন্দ্রকেও তৃনমূলের কথা শুনতে হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

ফুলপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির  মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের সঙ্গী : মরহুম এম জুবেদ আলী

Update Time : ০৮:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

 আতিক- কেন্দুয়া ,নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলায় ১৯৫২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দলের প্রতিটি সম্মেলনেই অংশ নিয়েছেন ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ নেতা এম জুবেদ আলী। আওয়ামী লীগের অনেক বায়োজ্যেষ্ঠ নেতা তার মতো জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবারের সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। কেউ কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সম্মেলনে অংশ নিতে চলে এসেছেন দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি উপেক্ষা করে। চশমা আঁটা ঘোলা চোখে এখানে ওখানে খুঁজে ফিরছেন পুরনো সহকর্মীদের। ঢাকা, জুলাই ২৪ /১৯৫২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দলের প্রতিটি সম্মেলনেই অংশ নিয়েছেন ময়মনসিংহের আওয়ামী লীগ নেতা এম জুবেদ আলী। আওয়ামী লীগের অনেক বায়োজ্যেষ্ঠ নেতা তার মতো জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবারের সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছিলেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। কেউ কেউ বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও সম্মেলনে অংশ নিতে চলে এসেছেন দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তি উপেক্ষা করে। চশমা আঁটা ঘোলা চোখে এখানে ওখানে খুঁজে ফিরছেন পুরনো সহকর্মীদের। শুক্রবার আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গিয়ে দেখা মেলে দলের বর্ষীয়ান নেতা জুবেদ আলীর সঙ্গে। বয়স ৮০ পার হতে চললো তার। ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। তার আগেই ‘শেখের পো’র (বঙ্গবন্ধুর) শিষ্যত্ব নেন। শেখ নেই তার মেয়ে আছে। তাই এখনও লাঠি হাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলে এসেছেন প্রিয় সংগঠনের সম্মেলনে। ঘোলা হয়ে আসা চোখ, শ্রবনশক্তি কমে আসা কান আর শীর্ণ শরীর নিয়ে এখনও রাজনীতির হিসাব কষে চলেছেন জুবেদ আলী। আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলনের স্মৃতি চারণ করে। জুবেদ আলী বলেন, “১৯৫২’র ভাষা আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নিই আমি। এরপর থেকে সবগুলো সম্মেলনে যোগ দিয়েছি। তখন সংগঠনের নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে মতিঝিলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দু’ হাজার লোক হয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল ২২/২৩। তখন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু), আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমেদ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আব্দুস সালাম খান প্রমুখ।” এ যুগ আর সে যুগের তুলনা করে তিনি বলেন, “তখনকার নেতা-কর্মীরা আদর্শ আর চরিত্রগত দিক থেকে এখনকার নেতাদের চেয়ে ভাল ছিল। তখন আমাদের সামনে লক্ষ্য ছিল। জাতির মুক্তির জন্য নেতারা কাজ করে যাচ্ছিল।” রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে এসেছেন আশীতিপর ইসাহাক আলী। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ডাকেন আলহাজ্ব ডা. ইসাহাক বলে। সেই ১৯৫২ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বয়সের কারণে ২০০৪ সালে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও দলের প্রতি টান রয়েই গেছে। তাই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এবারও এসেছেন সম্মেলনে যোগ দিতে। বললেন “জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতিগুলোর একটি হল ৫৭ কী ৫৮ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর শেখ সাহেব (বঙ্গবন্ধু) একবার রাজশাহী গিয়েছিলেন। ঈদগাহ মাঠে সমাবেশে তার হাত ধরে একবার বুলালাম। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছি। সেই স্মৃতি কখনোই ভুলতে পারব না।” ইসাহাক আলী বলেন, “আওয়ামী লীগ তৃণমূলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দল। হাজারো ষড়যন্ত্র এ দলের ভিত্তি নড়াতে পারেনি। কারণ এর ভিত্তি আমাদের মতো হাজারো গ্রামের মানুষের মনের ভেতর। ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের নেতৃত্ব বদল হয়, দল নড়বড়ে হয়। কিন্তু কখনও ভেঙে পড়েনি। আগামী ১০০ বছরেও ভাঙবে না। কিন্তু এর জন্য তৃণমূলের বক্তব্য কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। কেন্দ্রকেও তৃনমূলের কথা শুনতে হয়।