Hi

ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ নেতার নামে ফেসবুকে অপপ্রচার, সাইবার আইনে মামলা

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় চাঁদা না দেয়ায় যুবলীগ নেতা মো. সোহেল রানা মন্ডল নামে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় মো. মঞ্জুরুল হকসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

সোমবার (২২ এপ্রিল) মো. সোহেল রানা মন্ডল বাদী হয়ে ময়মনসিংহ সাইবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। বাদি পক্ষের আইনজীবি আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলা আমলে নিয়ে পিবিআই পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিবাদী সোহেল রানা মন্ডল একজন ব্যবসায়ী। আনুমানিক তিন মাস আগে আসামী মঞ্জুরুল ইসলাম মামলার এক নম্বর সাক্ষী মো. ইব্রাহিম হোসেনকে খবর দিলে সে তার সাথে দেখা করতে যায়। দেখা করতে গেলে ইব্রাহিমকে কিল ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারাকান্দা পোষ্ট অফিসের পাশে এক পরিত্যক্ত খালি ঘরে নিয়ে যায়।

সেখানে নিয়ে তাদের কথা মতো কাজ করতে বলে। না হলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় ইব্রাহিম তাদের কথা মতো কাজ করতে রাজি হয়। এসময় মঞ্জুরুল হক একটি মোবাইল বের করে ভিডিও করে এবং তাকে ইব্রাহিমকে বলতে বলে যুবলীগ নেতা সোহেল মন্ডল ও মামলার দুই নম্বর সাক্ষী রুবেল মিয়া হেরোইনের ব্যবসা করে।

এমন ভিডিও মঞ্জুরুল হকের মোবাইলে ধারণ করে রাখে। পরে আবারও ইব্রাহিম এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে তাড়িয়ে দেয় এবং আইনের আশ্রয় নিলে মেরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। ভয়ে ইব্রাহিম এসব বিষয় গোপণ রাখে। পরে চলতি মাসের ১৩ এপ্রিল আসামী মঞ্জুরুল হকের মোবাইলের হোয়াটসআপ নাম্বার থেকে কল দিয়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় ওই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

তখন বাদী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামী মঞ্জুরুল হকের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ও তারাকান্দা সদর ক্রাইম নামের আইডি থেকে যুবলীগ নেতার দুইটি ছবিসহ পোষ্ট দেন। পোষ্টে লিখা ছিল, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ রোজ মঙ্গলবার সকারে তারাকান্দা স্কুল রোড শিক্ষক সমিতির বারান্দায় হেরোইন বিক্রির সময় স্থানীয় লোকজন ইব্রাহিম (২১) নামের এক যুবককে আটক করে। এবং হেরোইন ক্রয় করা মো. সুজন মিয়া, পিতা. নজর আলী, মাতা. পারভীন বেগম। ইব্রাহিম তারাকান্দা গো-হাটা এলাকার বাসিন্দা।

তখন ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসা করিলে সে জানায় এই হেরোইন তার নয়, হেরোইন যুবলীগ সদস্য মধুপুর মন্ডল বাড়ির ছেলে সোহেল মন্ডলের। ওই পোষ্টে আরও লিখা হয়, সোহেল মন্ডল একজন হেরোইন ব্যবসায়ী। ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে সোহেল মন্ডলের কাছে পৌছে দেয়। এমন লিখা ফেসবুকে দেখার পর যুবলীগ নেতা মামলা করতে তারাকান্দা থানায় যান। সেখান থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এবিষয়ে জানতে মামলার আসামী মো. মঞ্জুরুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং সোহেল রানা মন্ডল একজন হেরোইন ব্যবসায়ী। তার কুকীর্তি ঢাকতেই আমার নামে মিথ্যা মামলা মামলা করেছে।

যুবলীগ নেতা মো. সোহেল রানা মন্ডল বলেন, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এক লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন অপপ্রচার করছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মামলা করেছি। আশা করছি, আমি সঠিক বিচার পাব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

যুবলীগ নেতার নামে ফেসবুকে অপপ্রচার, সাইবার আইনে মামলা

Update Time : ০৫:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় চাঁদা না দেয়ায় যুবলীগ নেতা মো. সোহেল রানা মন্ডল নামে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে। মামলায় মো. মঞ্জুরুল হকসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

সোমবার (২২ এপ্রিল) মো. সোহেল রানা মন্ডল বাদী হয়ে ময়মনসিংহ সাইবার আদালতে মামলা দায়ের করেন। বাদি পক্ষের আইনজীবি আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলা আমলে নিয়ে পিবিআই পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথির বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিবাদী সোহেল রানা মন্ডল একজন ব্যবসায়ী। আনুমানিক তিন মাস আগে আসামী মঞ্জুরুল ইসলাম মামলার এক নম্বর সাক্ষী মো. ইব্রাহিম হোসেনকে খবর দিলে সে তার সাথে দেখা করতে যায়। দেখা করতে গেলে ইব্রাহিমকে কিল ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তারাকান্দা পোষ্ট অফিসের পাশে এক পরিত্যক্ত খালি ঘরে নিয়ে যায়।

সেখানে নিয়ে তাদের কথা মতো কাজ করতে বলে। না হলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় ইব্রাহিম তাদের কথা মতো কাজ করতে রাজি হয়। এসময় মঞ্জুরুল হক একটি মোবাইল বের করে ভিডিও করে এবং তাকে ইব্রাহিমকে বলতে বলে যুবলীগ নেতা সোহেল মন্ডল ও মামলার দুই নম্বর সাক্ষী রুবেল মিয়া হেরোইনের ব্যবসা করে।

এমন ভিডিও মঞ্জুরুল হকের মোবাইলে ধারণ করে রাখে। পরে আবারও ইব্রাহিম এলোপাথারি কিল ঘুষি মেরে তাড়িয়ে দেয় এবং আইনের আশ্রয় নিলে মেরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। ভয়ে ইব্রাহিম এসব বিষয় গোপণ রাখে। পরে চলতি মাসের ১৩ এপ্রিল আসামী মঞ্জুরুল হকের মোবাইলের হোয়াটসআপ নাম্বার থেকে কল দিয়ে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় ওই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

তখন বাদী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামী মঞ্জুরুল হকের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ও তারাকান্দা সদর ক্রাইম নামের আইডি থেকে যুবলীগ নেতার দুইটি ছবিসহ পোষ্ট দেন। পোষ্টে লিখা ছিল, ১৬ এপ্রিল ২০২৪ রোজ মঙ্গলবার সকারে তারাকান্দা স্কুল রোড শিক্ষক সমিতির বারান্দায় হেরোইন বিক্রির সময় স্থানীয় লোকজন ইব্রাহিম (২১) নামের এক যুবককে আটক করে। এবং হেরোইন ক্রয় করা মো. সুজন মিয়া, পিতা. নজর আলী, মাতা. পারভীন বেগম। ইব্রাহিম তারাকান্দা গো-হাটা এলাকার বাসিন্দা।

তখন ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসা করিলে সে জানায় এই হেরোইন তার নয়, হেরোইন যুবলীগ সদস্য মধুপুর মন্ডল বাড়ির ছেলে সোহেল মন্ডলের। ওই পোষ্টে আরও লিখা হয়, সোহেল মন্ডল একজন হেরোইন ব্যবসায়ী। ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে সোহেল মন্ডলের কাছে পৌছে দেয়। এমন লিখা ফেসবুকে দেখার পর যুবলীগ নেতা মামলা করতে তারাকান্দা থানায় যান। সেখান থেকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এবিষয়ে জানতে মামলার আসামী মো. মঞ্জুরুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং সোহেল রানা মন্ডল একজন হেরোইন ব্যবসায়ী। তার কুকীর্তি ঢাকতেই আমার নামে মিথ্যা মামলা মামলা করেছে।

যুবলীগ নেতা মো. সোহেল রানা মন্ডল বলেন, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এক লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন অপপ্রচার করছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মামলা করেছি। আশা করছি, আমি সঠিক বিচার পাব।