Hi

ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি খুলে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা: প্রতারকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ১৭৬ Time View

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা) যশোরের কেশবপুরে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর গ্রাহকরা সঞ্চয়কৃত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে ওই সমিতির প্রায় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামক ভুয়া প্রতিষ্টান খুলে প্রতারকচক্র প্রতারণার মাধ্যমে এলাকার শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের মৃত অশোক চক্রবর্তীর ছেলে দেবদাস চক্রবর্তী, স্বপন দাসের ছেলে বিলাস দাস, মৃত সন্তোষ মল্লিকের ছেলে রকি মল্লিক, মৃত বিধান দাসের ছেলে অমিত দাস এবং মধু বিশ্বাসের ছেলে সুব্রত বিশ্বাস গত ২০১৫ সালে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে স্থানীয় গৌরিঘোনা বাজারে একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ভুয়া সমবায় সমিতি গঠন করে। ওইসময় সমিতির কর্মকর্তারা স্ট্যাম্পে চুক্তি পত্রের মাধ্যমে বাৎসরিক শতকারা দুই টাকা হারে লাভ দেওয়ার কথা বলে (ডিপিএস) সঞ্চয় প্রকল্পের নামে এলাকার প্রায় শতাধিক গরীব-অসহায় পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিমাসে ৫ শত, ১ হাজার ও ২ হাজার ৫শত টাকা হারে সঞ্চয়ের টাকা জমা নেয়। ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি তারা গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মেয়াদ শেষে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে সমিতির কর্মকর্তারা নানা টাল-বাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে ওই সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, অবশেষে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকেরা ৪ ফেব্রয়ারী সকালে প্রতারকদের বিচার চেয়ে কেশবপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তুহিন হোসেন এর নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে সমিতির ভুক্তভোগী গ্রাহক তাপস বিশ্বাস, সুশান্ত দাস, মুকুন্দ মল্লিক, জয়ন্তি মল্লিক, স্বপ্না মল্লিকসহ ২১জন গ্রাহক স্বাক্ষর করেছেন।ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নিবন্ধনের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা বাজারে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। যেকোন সমিতির ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি কর্তৃক অনুমোদন নিতে হয়।উপজেলা সমবায় অফিসার মোছাঃ নাসিমা খাতুন বলেন, ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির নিবন্ধন অনেক আগেই বাতিল হয়েছে। সমবায় আইন অনুযায়ী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ওই সমিতির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তুহিন হোসেন বলেন, ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক ওই সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

কেশবপুরে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি খুলে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা: প্রতারকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

Update Time : ০৫:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা) যশোরের কেশবপুরে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর গ্রাহকরা সঞ্চয়কৃত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে ওই সমিতির প্রায় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামক ভুয়া প্রতিষ্টান খুলে প্রতারকচক্র প্রতারণার মাধ্যমে এলাকার শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের মৃত অশোক চক্রবর্তীর ছেলে দেবদাস চক্রবর্তী, স্বপন দাসের ছেলে বিলাস দাস, মৃত সন্তোষ মল্লিকের ছেলে রকি মল্লিক, মৃত বিধান দাসের ছেলে অমিত দাস এবং মধু বিশ্বাসের ছেলে সুব্রত বিশ্বাস গত ২০১৫ সালে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে স্থানীয় গৌরিঘোনা বাজারে একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে ভুয়া সমবায় সমিতি গঠন করে। ওইসময় সমিতির কর্মকর্তারা স্ট্যাম্পে চুক্তি পত্রের মাধ্যমে বাৎসরিক শতকারা দুই টাকা হারে লাভ দেওয়ার কথা বলে (ডিপিএস) সঞ্চয় প্রকল্পের নামে এলাকার প্রায় শতাধিক গরীব-অসহায় পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিমাসে ৫ শত, ১ হাজার ও ২ হাজার ৫শত টাকা হারে সঞ্চয়ের টাকা জমা নেয়। ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি তারা গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মেয়াদ শেষে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে সমিতির কর্মকর্তারা নানা টাল-বাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে ওই সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায়, অবশেষে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাহকেরা ৪ ফেব্রয়ারী সকালে প্রতারকদের বিচার চেয়ে কেশবপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তুহিন হোসেন এর নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে সমিতির ভুক্তভোগী গ্রাহক তাপস বিশ্বাস, সুশান্ত দাস, মুকুন্দ মল্লিক, জয়ন্তি মল্লিক, স্বপ্না মল্লিকসহ ২১জন গ্রাহক স্বাক্ষর করেছেন।ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নিবন্ধনের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা বাজারে ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কোন রেজিস্ট্রেশন নেই। যেকোন সমিতির ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি কর্তৃক অনুমোদন নিতে হয়।উপজেলা সমবায় অফিসার মোছাঃ নাসিমা খাতুন বলেন, ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির নিবন্ধন অনেক আগেই বাতিল হয়েছে। সমবায় আইন অনুযায়ী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ওই সমিতির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: তুহিন হোসেন বলেন, ভদ্রাপল্লী সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক ওই সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।