Hi

ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ার শাজাহানপুরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর প্রতারণার মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪
  • ১৭৮ Time View

মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় নিজ স্ত্রী’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন স্বামী। গত ৭জুলাই বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম(৩৮)। একমাত্র আসামি স্ত্রী সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর দক্ষিনপাড়া এলাকার মোংলা শেখ এর মেয়ে স্বপ্না খাতুন(৪৫)। বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৫সালের ৩১ডিসেম্বর আমি চট্রগ্রামে একটি কোম্পনিতে কাজ করছিলাম। এসময় আমার সহকর্মী একদিন আমার মোবাইল ফোন থেকে স্বপ্নার সাথে কথা বলে। আমার সহকর্মী চাকরী ছেড়ে চলে গেলে স্বপ্না একদিন আমার মোবাইল ফোনে কল করে। তখন আমাদের মধ্যে কিছু সময় কথা হয়। এরপর প্রায়ই স্বপ্না আমাকে কল দিয়ে কথা বলতো।

সিরাজুল বলেন, ওই বছরে আমি ছুটিতে বাড়ি আসার সময় স্বপ্না আমাকে তাঁর সাথে দেখা করার জন্য খুব করে অনুরোধ করে। আমি তাঁর কথা ফেলতে না পারায় দেখা করতে যাই। এ সময় স্বপ্নার সাথে বেশ কয়েকজন যুবককে দেখে আমি ঘাবড়ে যাই এবং বাধ্য হয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রিতে স্বাক্ষর করি। বিয়ের পরপরই আমি স্বপ্নার সবকিছু বুঝতে পারি। তবে নিজের সন্মান হারানোর ভয়ে কিছু বলতে পারছিলাম না। আমার সাথে সংসার করা অবস্থায় স্বপ্না তাঁর আরেক স্বামী আনোয়ার হোসেনকে এনজিও থেকে টাকা তুলে দেন এবং সেই টাকা পরিশোধে ব্যার্থ হলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বপ্নার বিরুদ্ধে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ মামলাও করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানাযায়, রেজিস্ট্রি কাবিনে স্বপ্নাকে কুমারী উল্লেখ করা থাকলেও বাস্তবে সিরাজগঞ্জ সায়েদাবাদ পূর্নরবাসন এলাকার ফজলু শেখ ও আনোয়ার হোসেন নামের দুজনের সাথে স্বপ্নার বিয়ে হয়েছিলো। এবং আনোয়ার হোসেনের সাথে স্বপ্নার সংসার এখনো চলমান আছে। স্বপ্নার নাতি এবং নাতনিও রয়েছে। রেজিস্ট্রি কাবিনের ৬নং কলামে স্বপ্নার জন্ম তারিখ ১০জনুয়ারি ১৯৮৬ লেখা হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর বয়স ৪মে ১৯৭৯রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে স্বপ্না খতুন এর ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েক দিন ধরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম এর এ্যাডভোকেট মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, স্বপ্নার বিরুদ্ধে ৪০৬এবং ৪২০ধারায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

রামিসার হত্যাকারীর বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করবো সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড- প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার শাজাহানপুরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর প্রতারণার মামলা

Update Time : ১২:০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলায় নিজ স্ত্রী’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন স্বামী। গত ৭জুলাই বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম(৩৮)। একমাত্র আসামি স্ত্রী সিরাজগঞ্জ শহরের মাছুমপুর দক্ষিনপাড়া এলাকার মোংলা শেখ এর মেয়ে স্বপ্না খাতুন(৪৫)। বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৫সালের ৩১ডিসেম্বর আমি চট্রগ্রামে একটি কোম্পনিতে কাজ করছিলাম। এসময় আমার সহকর্মী একদিন আমার মোবাইল ফোন থেকে স্বপ্নার সাথে কথা বলে। আমার সহকর্মী চাকরী ছেড়ে চলে গেলে স্বপ্না একদিন আমার মোবাইল ফোনে কল করে। তখন আমাদের মধ্যে কিছু সময় কথা হয়। এরপর প্রায়ই স্বপ্না আমাকে কল দিয়ে কথা বলতো।

সিরাজুল বলেন, ওই বছরে আমি ছুটিতে বাড়ি আসার সময় স্বপ্না আমাকে তাঁর সাথে দেখা করার জন্য খুব করে অনুরোধ করে। আমি তাঁর কথা ফেলতে না পারায় দেখা করতে যাই। এ সময় স্বপ্নার সাথে বেশ কয়েকজন যুবককে দেখে আমি ঘাবড়ে যাই এবং বাধ্য হয়ে বিয়ের রেজিস্ট্রিতে স্বাক্ষর করি। বিয়ের পরপরই আমি স্বপ্নার সবকিছু বুঝতে পারি। তবে নিজের সন্মান হারানোর ভয়ে কিছু বলতে পারছিলাম না। আমার সাথে সংসার করা অবস্থায় স্বপ্না তাঁর আরেক স্বামী আনোয়ার হোসেনকে এনজিও থেকে টাকা তুলে দেন এবং সেই টাকা পরিশোধে ব্যার্থ হলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে স্বপ্নার বিরুদ্ধে বগুড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ মামলাও করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানাযায়, রেজিস্ট্রি কাবিনে স্বপ্নাকে কুমারী উল্লেখ করা থাকলেও বাস্তবে সিরাজগঞ্জ সায়েদাবাদ পূর্নরবাসন এলাকার ফজলু শেখ ও আনোয়ার হোসেন নামের দুজনের সাথে স্বপ্নার বিয়ে হয়েছিলো। এবং আনোয়ার হোসেনের সাথে স্বপ্নার সংসার এখনো চলমান আছে। স্বপ্নার নাতি এবং নাতনিও রয়েছে। রেজিস্ট্রি কাবিনের ৬নং কলামে স্বপ্নার জন্ম তারিখ ১০জনুয়ারি ১৯৮৬ লেখা হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর বয়স ৪মে ১৯৭৯রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে স্বপ্না খতুন এর ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েক দিন ধরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

জানতে চাইলে সিরাজুল ইসলাম এর এ্যাডভোকেট মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, স্বপ্নার বিরুদ্ধে ৪০৬এবং ৪২০ধারায় আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।