খাগড়াছড়ি র মাইসছড়ি ভূমি সংক্রান্ত প্রকাশিত বিভ্রাট কর সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা
-
Reporter Name - Update Time : ০৩:২০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩
- ২২৯ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি ::: গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে CHT NEWS অনলাইন পোর্টাল থেকে মাইসছড়িতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভূমি বেদখল একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, এই সংবাদ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদের তথ্যবিভ্রাট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং পাহাড়ি বাঙালিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার উস্কানি দেওয়া হয়েছে। মহালছড়ি উপজেলাধীন ৪নং মাইসছড়ির বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ ফয়েজ মিয়ার সন্তান আঃ জলিল বলেন- আমার বাবা ফয়েজ মিয়া বাংলাদেশ স্বাধীনের পর থেকে এই জমিতে বসবাস করেন,আমাদের বাড়ি ও দোকান তৈরি করা হয়,এই জমিতে আমরা দখলে আছি,কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো চাইলাপ্রু, পিতা- মৃত রিম্রাচাই চৌধুরী,২৫৫ নং মাইজছড়ি মৌজা, থানা- মহালছড়ি,৮২ নং খতিয়ানে ও ২৫ নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত ৪.৪১একর জমির একটি দলিল দিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা নম্বর ৩৬/২০০০. আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে,নিম্ন আদালত রায় দেন যে মামলার সালিশি জমি এইটি নয়,বিভিন্ন তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এই জমি তাদের ২৫৫ নং দলিলের জায়গা না,তার পর তারা আপীল করে, যা দেওয়ানী আপীল নম্বর ৮৫/০৬ ইংরেজি ও দেওয়ানী আপীল ৮৬/২০০৬ খাগড়াছড়ি, আপীলেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়। ছাড়াও সার্ভেয়ার তদন্তে প্রমাণিত হয় এই জমি হলো কাপ্তাই ফ্রিসল্যান্ডের জায়গা,মানে সরকারি খাস জায়গা, মংশিপ্রু চৌধুরী উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করা খতিয়ানের জায়গা না।তাদের বিভিন্ন হুমকি, দমকি দিয়ে আমাদের জায়গা দখল করার চেষ্টা করে,তাই আমরা না পারতে ২৯ অক্টোবর ২০২৩ মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হই,মহামান্য হাইকোর্ট মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাদেশ জারী করেন,আমরা এ আদেশ সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছি। আমাদেরকে মংশিপ্রু চৌধুরী, তার ছেলে উজ্জ্বল মারমা,সূর্য মারমাসহ অপরিচিত কয়েক জন আমাদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করে,টাকা না দিলে আমাদে প্রাণে বেঁচে থাকতে দিবেনা এবং আমাদের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেন,আমরা কোন প্রতিউত্তর না করে চলে আসি,পরে থানায় গঠনাটি জানিয়ে রাখি।আমরা জীবন নিরাপত্তা- হীনতায় আছি,প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ আমাদের সুন্দর জীবনযাপনে সুযোগ করে দিবেন। মাইসছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা আঃ ছাত্তার বলেন- আমরা ১৯৮০ সাল থেকে দেখছি ফয়েজ মিয়া এই জমিতে বসবাস করছে,আমরা এই খানে মংশিপ্রু চৌধুরী বাবা,দাদা কাউকে বসবাস করতেও দেখিনি,চাষবাস করতেও দেখিনি, তারা একটি হোডিং দিয়ে মামলা করেছিলো,সেই মামলার রায় ফয়েজ মিয়া সন্তানরা পায়,আর এই জায়গা আমরা জানি সরকারি খাস,কিছু লোক পাহাড়ি বাঙালির মধ্যে শান্তি সম্প্রীতি নষ্ট করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চাচ্ছে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে জনমনে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে, এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে,যাতে পাহাড়ি, বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে থাকতে না,আমরা এই মিথ্যা অপপ্রচারে প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ভুট্টু মিয়া বলেন- আমার ৫০০ কলা গাছ ফল সহ কেটে ফেলে মংশিপ্রু চৌধুরী ও তার সাথে থাকা কয়েক জন,আমি ২৮/০৯/২০২০ সালে মহালছড়ি থানায় একটি জিডি নং১০২৬/২০ করি।এই জমি বারবার প্রমাণিত হয়েছে আমার বাবা ফয়েজ মিয়া র,আমার বাবা ১৯৭৫ সাল থেকে এই খানে,এখন আমরা আছি। মাইসছড়ির মাছ ব্যবসায়ী ও পাশ্ববর্তী নুরু মিয়া বলেন- আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি এই জায়গা ফয়েজ মিয়ার,সে ধান চাষ করতো,গরুর গাড়ি রাখতো,এই জায়গা সরকারি খাস জানি,ফয়েজ মিয়া আজকে থেকে প্রায় ৫০ বছর দরে এই খানে আছে,এখন তার ছেলে মেয়েরা বসবাস করে,প্রতিবেশী হিসেবে অনেকে বসবাস করছে।কখনও শুনিনি রেকর্ডের জায়গা, এলাকার শান্তি নষ্ট করার জন্য বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাইসছড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ২০ জন বৃদ্ধ লোক বলেন- আমরা মাইসছড়িতে দেশ স্বাধীনের পর থেকে বসবাস করে আসছি,এইখানে জঙ্গল ছিলো,কাপ্তাই বাদের ফলে প্রায় সময় পানিতে ডুবে থাকতো,যতটুকু ভাসা থাকতোও ওখানেই মানুষ বসবাস করতো,আমরা ফয়েজ মিয়াকে দেখতাম বাড়ি করে থাকতো,পানি চলে গেলে নীচু জাগায় ধান চাষ করতো, এই জমি সরকারি খাস, এই জমি কারো নামে রেকর্ড নাই, মংশিপ্রু চৌধুরী মামলাও করেছিলো,আদালত রায় দিয়েছে এই জমি, তাদের রেকর্ডের না,ফয়েজ মিয়া বসবাস কৃত জমি আর কাগজের জমি এক নয়।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই মিথ্যা প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ থাকলো।























