আওয়ামী ২ মন্ত্রী ও ডিআইজির ক্ষমতার প্রভাবে কৃষকদল নেতার সাড়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ
-
Reporter Name - Update Time : ১০:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
- ১৭৯ Time View

ভালুকা( ময়মনসিংহ) সংবাদদাতাঃ
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকা কালীন সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতার কষ্টের উপার্জিত সাড়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক মন্ত্রী লতিব বিশ্বাস এর মেয়ে সুমা ও তার জামাতা সিরাজগঞ্জের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসের আমুর ভাগিনা সবুজ হোসেন সহ সাবেক ডিআইজি হারুনের বন্ধু পরিচয়ে রোকুনুজ্জামান এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন এর প্রতিকার চেয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন মহলের দারে দারে।ময়মনসিংহের ভালুকায় স্মাইল এ্যাপারেলস লিঃ কোম্পানির সাথে কর্ম চুক্তির বিলের ১০ কোটি ৫০ লক্ষ আত্মসাৎ এর অভিযোগ তুলেছেন ওই ব্যবসায়ী । এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মেসার্স আর.এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর প্রোপাইটর মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেসার্স আর.এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর প্রোপাইটর মোঃ রিয়াজ উদ্দিন স্মাইল এ্যাপারেলস লিঃ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্তৃক ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত একটি ব্যবসায়ীক কর্ম চুক্তির মাধ্যমে অয়ার্ক অর্ডার পায়। তারই ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৫ই মার্চ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিয়মিত কাজ করে আসলেও প্রথম প্রথম ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর যথারিতী বিল পরিশোধ করলেও কিছুদিন পর বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে কর্ম সচল রাখার জন্য ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিজ পুঁজিতে ব্যবসায়ীক কাজ পরিচালনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কোম্পানির কাছে কোম্পানির কাছে মোটা অংকের বিল পাওনা হলে তারা জানতে পারেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারন সম্পাদক পদে বহাল রয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে আসছেন। এরই জেরে স্মাইল এ্যপালেস লিঃ এর পরিচালক বৃন্দ সাবেক মন্ত্রী লতিব বিশ্বাস এর মেয়ে সুমা ও তার জামাতা সিরাজগঞ্জের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসের আমুর ভাগিনা সবুজ হোসেন সহ সাবেক ডিআইজি হারুনের বন্ধু পরিচয়ে রোকুনুজ্জামান কেন্দ্রীয় ওই কৃষকদল নেতাকে তাদের অফিসে গৃহবন্দী করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব ও গ্রেফতারের ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে প্রানের ভয়ে ওই কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা তার কষ্টের উপার্জিত সাড়ে ১০ কোটি টাকার মায়া ত্যাগ করে চলে আসেন।
এর পর দীর্ঘদিন পেরোলেও তিনি আওয়ামী প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেননি কিংবা নিজের পাওনা ন্যায্য দাবীটি প্রকাশ করতে পারেননি কারোও কাছে। গত ৫ই আগষ্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের বিদায়ে ক্ষমতা পালাবদলের পর এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তার পাওনা টাকা ফেরত পেতে একের পর এক দরবার করে আসছিলেন। কিন্তু কোনো দরবারেই এর সুরহা না পাওয়া ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ সাধারন সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বিচার চেয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ রিয়াজ উদ্দিন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি স্মাইল এ্যাপারেলস লিঃ এর সাথে ২০১৫ সালের ৫ই মার্চ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে কর্ম চুক্তি করে কাজ করে আসছিলাম। প্রথমে আমার বিল যথাযথ পরিশোধ করলেও পরে আমার বিল আর পরিশোধ করেনি কোম্পানি। এক পর্যায়ে আমি আমার পাওনা বিল দাবী করলে কোম্পানির কতৃপক্ষ যখন জানতে পারে আমি কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ সাধারন সম্পাদক তখন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কোম্পানির পরিচালক বৃন্দ তাদের পারিবারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার টাকা আত্মসাৎ করে। আমি তাদের বিরধী মতাদর্শের হওয়ার কারনেই আমার কষ্টের উপার্জিত সাড়ে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নানা প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলো। আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের প্রভাব খাটিয়ে তাতের আত্মীয় স্বজনের আমার কষ্টের উপার্জিত টাকা আমাকে না দিয়ে তারা আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমি আমার পাওনা টাকা ফেরত চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত রোকুনুজ্জামান সাথে মোবাইলফোনে একাধিকবার ফোন দিলে রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।











