চাপে পড়ে প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব নিলেন ‘মাহমুদা পারভীন’
-
Reporter Name - Update Time : ০৫:০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
- ১৭১ Time View

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ৭১ নম্বর কাদিগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একটি পক্ষকে খুশি করতে কোনো কারন ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদ থেকে
নুপুর আক্তারকে সরানোর তোড়জোড় শুরু হলে ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয়রা। একপর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (টিইও) সৈয়দ আহমেদ এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হয়। পরে গত ৩ অক্টোবর সকালে ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন কাচিনা- মল্লিকবাড়ি সড়কে ঝাড়ু নিয়ে মিছিল-মানববন্ধনও হয়েছে।
এর আগে থেকে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নুপুর আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদ থেকে সরানো হলে ওই পদে কেউ দ্বায়িত্ব নেবেন না। স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের অবিভাবকরাও ওই পদে চেয়েছেন
নুপুর আক্তারকে। এর কারন হিসেবে বলা হয়েছে, নুপুর আক্তার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ আমূল পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যা এর আগে কখনোই হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভালোর জন্য নুপুর আক্তারকেই প্রয়োজন।
কিন্তু নুপুর আক্তারকে পদ থেকে সরানোসহ বদলি করাতে একটি পক্ষ মরিয়া হয়ে উঠে। এতে সায় দেন টিইও এবং এটিও। ফলে ওই দুই কর্মকর্তা সন্দেহের বীজ বুনেন। তারা ওই পক্ষ থেকে মোটা অংকের ঘুষ খেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠে।
জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় সাইফুল ইসলাম এবং তার মেয়ের জামাতা রমিজ খা এবং আল আমিনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের সরকারি জায়গা থেকে বাঁশ কেটে মাটি ভরাট করে পেপে বাগান করে দখল করা হয়। এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদকে জানানো হলেও জোড়ালো পদক্ষেপ নেননি। এদিকে এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন সাইফুল ইসলাম এবং তার মেয়ের জামাতা রমিজ খা। তারা স্থানীয় আবুল কালামের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নুপুর আক্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করেন। নুপুর আক্তরের স্বামী পুলিশ কর্মকর্তা সালেহ ইমরানও চক্রটির রোষানলে পড়েন। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে চক্রটির প্রধান দাবি ছিল নুপুর আক্তারকে তার পদ থেকে সরানোসহ বদলি করা। তাদের এই দাবী পুরন হবে জানতে পেরে ক্ষেপে যায় সচেতন নাগরিকরা।
গত মাসে এই বিদ্যালয়ে নুপুর আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে বহাল রাখতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে শিক্ষর্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তিনবার আবেদন করা হয়। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমদ ও সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এসবের কোনো কিছুতেই পাত্তা দেননি।
গত ২ নভেম্বর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে এক নোটিশের মাধ্যমে নুপুর আক্তারে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। একইসঙ্গে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মাহমুদা পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পারভীন দ্বায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এজন্য ছুটোছুটি করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে।
কিন্তু তার কথা শোনেননি টিইও এবং এটিইও। তবে অবশেষে দ্বায়িত্ব নিয়েছেন মাহমুদা পারভীন। আগে দ্বায়িত্ব না নেয়ার কথা জানিয়ে এখন দ্বায়িত্ব নেয়ায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একটি পক্ষকে খুশি করতে টিইও এবং এটিইও চাপ প্রয়োগ করে মাহমুদা পারভীনকে প্রধান শিক্ষককের চেয়ারে বসাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সাইফুল ইসলাম এবং তার মেয়ের জামাতা রমিজ খা বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের ভূমি দখন করিনি। উপজেলা অফিসারকে ঘুষ দেয়ার বিষয়টিও বানোয়াট। আমরা চাই বিদ্যালয় ভালোভাবে চলুক।
মাহমুদা পারভীন বলেন, উর্ধতন স্যাররা আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন, তাই দ্বায়িত্ব নিয়েছি।
এর আগে দ্বায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করার কারন হিসেবে বলেন, স্যাররা যা বলবে নিয়ম অনুসারে তাই করতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই নুপুর আক্তারকে তার পদ থেকে সরানো হয়েছে। আমি কারও পক্ষ হয়ে কিংবা টাকার বিনিময়ে এটি করিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম যেকোনো দিন গোপনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানান।













