শূণ্যতা
ফারিনা ইয়াসমিন
তোমার শূণ্যতা আজও
গ্রাস করে আমাকে
হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কে দেখিতে পারে!
শূন্য হৃদয় আর অপূর্ণ জীবন
জীবনের পরতে পরতে ছিলে তুমি
আচমকা এক ঝড়ে হারিয়ে গেলে
চলে গেলে কোন সূদুরে
আসবে না ফিরে আর মনের দুয়ারে।
এখনো দিন কেটে যায় নিয়মে
সূর্য ওঠে, ভোর হয়
ফুল ফুটে, বাতাস বয়
শুধু তুমি নেই, ব্যবধান সময়ের।
অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি
যদি ফিরে আসো কখনো
বৃথা সেই প্রতীক্ষা
তোমার পানে চেয়ে থাকা।
অনেক বুঝিয়েছি মনকে।
এখন আর চোখের জল ফেলি না
তার কথা ভেবে রাত জাগি না
লক্ষী মেয়ের মতো সময়মত ঘুমাই
খিদে লাগলে খেয়ে নেই।
কারো অপেক্ষায় প্রহর গুনি না
ক্ষণে ক্ষণে আনমনে হাসি না
আবার অল্পতে কাঁদিও না।
অকারণে বেশি কথা বলি না
কারো চোখে চোখ রাখি না
সুন্দর করে সেজে আয়নায় নিজেকে
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি না।
রোমান্টিক নাটক দেখি না, গান শুনি না
যুগলবন্দী ছবি দেখে আফসোস করি না।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে,
চাঁদ দেখি না, তারা গুনি না
বেশি যত্ন পাওয়ার আশায়
বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লাগাই না।
ব্যস্ততার মাঝে সময় করে
নদীর তীরে ঘুরতে যাই না
গোধূলির রঙে নিজেকে আর রাঙাই না।
খোলা চুল তোমার ভীষণ পছন্দের ছিল।
শাড়ি পড়ে খোলা চুলে
কপালে ছোট্ট কালো টিপ
এখন আর হয়ে ওঠে না।
সব দৃশ্যপট আজ বদলে গেছে
বদলে গছো তুমি, আর
বদলে দিয়েছো আমাকেও।
হ্যাঁ, হয়তো এটাই আমি
আগে ছিলাম কল্পনায় ডুবে থাকা
এক উন্মাদ, বেখায়ালি।
জীবন আজ ঢেউহীন নদীর মতো
না আসে জোয়ার, না আছে ভাটা।
শুধু বয়ে চলেছে নিরবধি
সাদা আর কালোর মাঝে
ঠিকানা বিহীন এক খোলা চিঠি।
এখন, একা থাকতেই বেশি ভালো লাগে
নিজেকে ব্যস্ত রাখতে
নিজের সাথে নিজের কথা বলতে
ডায়েরির পাতায় লিখতে
মনের না বলা যতো কথা।