ইয়াসমিন আক্তার
দেশকে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বিজ্ঞানী আরিফ আবিষ্কার করলেন এক অভিনব যন্ত্র, যার নাম ‘প্রতিরক্ষা-৭১’। এই যন্ত্রের সাহায্যে দেশের যেকোনো প্রান্তে লুকিয়ে থাকা বিপজ্জনক অস্ত্র শনাক্ত করা এবং দূর থেকেই সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। কিন্তু যন্ত্রটির সবচেয়ে বড় রহস্য ছিল, এটি মানুষের চিন্তার উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করে বিপদের সংকেত দিতে পারত।
একদিন আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের নজরে পড়ল যন্ত্রটি। তারা বুঝতে পারল, এটি হাতে পেলে পুরো দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। গভীর রাতে বিজ্ঞানাগারে হামলা চালিয়ে তারা যন্ত্রটি চুরি করে নিয়ে গেল।
কিন্তু অপরাধীরা জানত না, আরিফ যন্ত্রটির ভেতরে একটি বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছেন। দেশবিরোধী কোনো কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করলেই যন্ত্রটি নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং গোপনে তার অবস্থান জানিয়ে দেবে জাতীয় নিরাপত্তা কেন্দ্রে।
অপরাধীরা যন্ত্রটি চালু করতেই পর্দায় ভেসে উঠল—
“সতর্কবার্তা! এই প্রযুক্তি মানবতার কল্যাণের জন্য, ধ্বংসের জন্য নয়।”
মুহূর্তের মধ্যে যন্ত্রটি বন্ধ হয়ে গেল। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালাল। গ্রেপ্তার হলো অপরাধী চক্রের সদস্যরা, উদ্ধার হলো দেশের জন্য অমূল্য সেই প্রযুক্তি।
পরদিন বিজ্ঞানী আরিফকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হলো। সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করলেন, “আপনার সবচেয়ে বড় সাফল্য কী?”
আরিফ মৃদু হেসে বললেন, “যন্ত্র আবিষ্কার করা আমার সাফল্য নয়। আমার সাফল্য হলো, সেই যন্ত্র যেন কখনো মানুষের ধ্বংসের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করা।”
সেদিন দেশের মানুষ বুঝতে পারল, বিজ্ঞানের প্রকৃত শক্তি শুধু অসম্ভবকে সম্ভব করার মধ্যে নয়, বরং সেই শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মধ্যেও নিহিত।
সমাপ্ত।