ইয়াসমিন আক্তার
চামেলী ছিল পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বাবা-মায়ের চোখের মণি। বাবা স্কুলশিক্ষক, মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী চামেলী স্কুল, কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করে সবার মুখ উজ্জ্বল করেছিল। শিক্ষকদের স্নেহ, বন্ধুদের ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের স্বপ্নে তার দিনগুলো কাটছিল আনন্দে।
কিন্তু অনার্সের শেষ বর্ষে হঠাৎ বাবার মৃত্যু তার জীবন বদলে দিল। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েও সে থেমে থাকেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী চয়ন তাকে ভালোবাসত। বিয়ের পর চামেলী ভেবেছিল, চয়ন হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চয়নের আচরণ বদলে গেল। চামেলীর প্রতিটি কাজে বাধা, প্রতিটি সাফল্যে বিরোধিতা যেন তার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠল।
তবুও চামেলী হার মানেনি। নিজের যোগ্যতায় সে একদিন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক হলো। তার সাফল্যে কেউ আনন্দিত হলো, আবার কেউ হিংসায় শত্রুতা শুরু করল। কিন্তু চামেলী কারও কাছে মাথা নত করেনি।
একদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর সহকর্মীদের প্রশংসা পেয়ে তার চোখ ভিজে উঠল। মনে মনে বলল, “বাবা, আজ তুমি বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই গর্ব করতে। তোমার মেয়ে হার মানেনি।”
চামেলী বুঝেছিল, জীবনে সবাই ভালোবাসবে না, সবাই পাশে থাকবে না। তবুও নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হয়।
যারা একদিন তার পথ আটকে দিতে চেয়েছিল, তাদের সামনে চামেলীর সফলতাই হয়ে উঠল সবচেয়ে সুন্দর জবাব।
কারণ চামেলী শুধু একজন শিক্ষিকা নয়, সে একজন লড়াকু নারী—যে ভেঙে পড়েও আবার উঠে দাঁড়াতে জানে।