মোঃ হামিদুর রহমান লিমন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুরের তিনটি নির্বাচনী জনসভায় তিন প্রার্থীর জন্য ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের নির্বাচনী সভায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিনকে কাছে ডেকে নিয়ে তাঁর উঁচু করে রংপুর-৬ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই যে আমার মেয়ে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে দিয়ে গেলাম। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করা মানে আমাকে জয়ী করা, জয়-পুতুলকে (শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল) জয়ী করা। আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন। নৌকা জিতলে আমি আবার আসব। এখানে এসে সভা করব। এ অঞ্চলের বাকি কাজ করে যাব।’ প্রায় ৩৩মিনিটি দেয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে এসেছে তারা মানুষের শান্তি চায় না। তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন থেকে রংপুরও বাদ যায়নি। বিএনপি-জামায়াত ট্রেনের লাইন কেটে ফেলেছে। বগি পড়ে দুর্ঘটনা ঘটবে, তারা মানুষ মারার ফাঁদ তৈরি করেছে। এ থেকে ঘৃণার আর কী হতে পারে? বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও করাই আনন্দ। এটি তাদের আন্দোলন। আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি, মানুষ হত্যায় কিসের আন্দোলন এটাই আমার প্রশ্ন। আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাসীদের নাশকতা প্রতিহত করার আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। অগ্নিসন্ত্রাস করতে যারা আসবে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ধরতে হবে। উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, পুলিশে সোপর্দ করতে হবে। মানুষের জীবন নিয়ে কাউকে খেলতে দেব না। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করি। দিন-রাত পরিশ্রম করি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তারা আসে ধ্বংস করতে। প্রয়োজনে বাড়ির পাশে রেললাইন থাকলে পাহারা দিতে হবে। জনগণকে প্রতিরোধ করতে হবে। যারা অগ্নিসন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কাজ করে, মানুষ খুন করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি।’ শ্বশুর বাড়ির এলাকা রংপুরের পীরগঞ্জ হওয়ায় নিজেকে এলাকার পুত্রবধু পরিচয় দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের এলাকার পুত্রবধ‚। কি বাহে একখান ভোট মুই পামু না? হামাক একখান ভোট দিবা না? এর আগে স্বামীর গ্রামের বাড়ি পীরগঞ্জের লালদীঘি ফতেহপুরে যান শেখ হাসিনা। স্বামীর ওয়াজেদ মিয়ার কবর জিয়ারত করেন এবং নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে সময় কাটান তিনি। অন্যদিকে, দুপুর ১২টার দিকে তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে রংপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউকের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেখানে জনসভা শেষ করে মিঠাপুকুরে জায়গীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রংপুর-৫ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী রাশেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি। তারাগঞ্জের নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছেন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উত্তরবঙ্গ মঙ্গাপীড়িত থেকে মুক্তি পেয়েছে। মঙ্গা থেকে মুক্তি পেয়ে এখন উন্নয়নের সুফল সুবাতাস বইছে। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন বলে চিকিৎসা সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মোবাইল ফোন যাতে সবার হাতে পৌঁছায়, সেটা উম্মুক্ত করেছি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করেছি। আমরা বিনা পয়সায় বই দিই। প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিয়ে থাকি। গবেষণার জন্য টাকা দিই। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা, প্রযুক্তির শিক্ষা দেওয়া সব ধরনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মা–-বাবাকে আর টাকা খরচ করে বই কিনতে হয় না। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সব জায়গা করে দিচ্ছি, ৫৬২টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেছি। মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মের উন্নয়নে কাজ করছি। বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভ‚মিহীন গৃহহীন থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাঁদের ঘরবাড়ি, জমি নেই, তাঁদের দুই কাঠা জমিসহ ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি। ৩৩টি জেলা ভ‚মিহীন গৃহহীন হয়েছে। তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জে কোনো গৃহহীন নেই। কৃষক লীগের নেতাদের দিয়ে প্রত্যেক উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত আমরা তথ্য নিয়ে ঘর করে দিচ্ছি। চাল, ডাল, তেল ভর্তুকি ম‚ল্যে কেনার সুযোগ করে দিয়েছি। এসব হয়েছে আপনারা নৌকা মার্কা ভোট দিয়েছেন বলে। আমরা আপনাদের সেবা দিচ্ছি।’ এরআগে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরের তারাগঞ্জে আসেন তিনি। ছোট বোন শেখ রেহানা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।