
ভালুকা প্রতিনিধিঃ- ময়মনসিংহের ভালুকায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক গর্ভের সন্তানকে বাচাতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক অসহায় স্বামী।
জানা যায়, ওই যুবকের শশুরই নিজের গর্ভবতী মেয়েকে ডিএনসি করাতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জামাতা সাগর মিয়া বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের দরিদ্র বাবুল মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া ও একই ইউনিয়নের তামাট গ্রামের প্রভাবশালী মোঃ মনির খান এডওয়ার্ড এর কন্যা অবন্তি খানমের সাথে ভালোবেসে কোর্ট মেরিজের মাধ্যমে বিয়ে হয়। পরে প্রায় ১ বছর সংসার করার পর কিশোরীর পিতা মামলা করে মেয়ের জামাই সাগর মিয়াকে জেলহাজতে প্রেরন করে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। এর মধ্যেই ওই কিশোরী গর্ভবতী হলে তার পিতা মনির খান এডওয়ার্ড মেয়েকে ডিএনসি করতে সখিপুর একটি ক্লিনেকে নিয়ে গেলে গর্ভের সন্তানের বয়স ৬ মাস পার হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডিএনসি করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে মনির খান এডওয়ার্ড ডিএনসি করতে ব্যর্থ হয়ে মেয়ের গর্ভজাত সন্তান নষ্ট করতে বিভিন্ন জায়গায় দৌরঝাপ শুরু করেন। এদিকে অবন্তি খানম সন্তানকে বাচাতে তার স্বামী সাগর মিয়াকে বিভিন্ন ভাবে অনুরোধ করতে থাকেন। পরে সাগর মিয়া বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানান এবং ভালুকা মডেল থানা পুলিশকেও অবগত করেন। এতে কোন সুরাহা না হলে সুমন মিয়া নিজ সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের দাবি হতভাগ্য ওই পিতা সমুন মিয়া সন্তানকে বাচাতে ও সুবিচার পেতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন যে শিশু পৃথিবীর আলোই দেখেনি তার কি অপরাধ? এমন নিষ্ঠুর ও জঘন্য কাজের নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি যে কোন মূল্যে গর্ভের শিশুকে বাচানো হোক। এদিকে নিজ সন্তানকে হারানোর ভয়ে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পরেছেন সুমন মিয়া ও তার পরিবার।