মনির উদ্দিন মুন্না খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি ::
খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের আয়োজনে জেলা শহরের মিলনপুরে আসন্ন বৈসু উৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ মাহি, এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আছে।বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেনাবাহিনী এখানে দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন ধরনের দায়িত্বের মধ্যে সরকারকে সহযোগিতা করা। সে সমস্যা নিরসনে সরকার চুক্তি করেছে। সেই চুক্তির বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করা।আমাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত।যেটা হচ্ছে সহযোগীতার স্বরূপ। আমাদের দায়িত্বের ক্ষেত্রে মূলত মূল টার্গেট থাকে সন্ত্রাসী। কিন্তু স্থানীয় জনগনের সাথে আমাদের সম্পর্ক সবসময় সৌহাদ্যপূর্ণ, সম্প্রীতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ থাকবে। শান্তি, সম্প্র্রীতি ও উন্নয়নে সম্পর্কের মধ্যে নিজেদের জড়িয়ে রাখবে।
বুধবার (২৯মার্চ) বিকেলে সভায় তিনি আরো বলেন, আমরা জানি, পাহাড় সমতলের মতো নয়, এখানে ভূমির বাস্তবতা কারণে সমস্ত সুযোগ সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না। সরকারের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও সব সুযোগ সুবিধা সমান ভাবে দিতে পারে না। সেনাবাহিনীর দায়িত্বের অংশ হিসেবে যেহেতু আমরা দুর্গম এলাকাতে থাকি। ফলে সরকারের সফলতাকে আমরা চেষ্টা করি যতদূর সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। আমরা স্থানীয় জনগনের কল্যাণের জন্য সেনাবাহিনীর অবদান যে অতীতে ছিলো তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এজন্য প্রয়োজন সবার সহযোগিতা। কোন কাজ একা করার সম্ভব নয়। কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
রিজিয়ন কমান্ডার বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নেতৃবৃন্দের নিকট আসন্ন বৈসু উৎসব উপলক্ষে নগদ ১লক্ষ টাকার চেক, উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম এবং ১০০টি প্লাস্টিকের চেয়ার উপহার স্বরূপ প্রদান করেন।
আয়োজিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুশীল জীবন ত্রিপুরা।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয় প্রকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ির সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সেনা রিজিয়নের জিটুআই জাহিদ হাসান, পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাংলা একাডেমি পুরষ্কারপ্রাপ্ত লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সাবেক সভাপতি সুরেশ মোহন ত্রিপুরা, মনীন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র লাল রোয়াজা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা ও হিরন জয় ত্রিপুরা, রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত লেখক শোভা রানী ত্রিপুরাসহ প্রমুখ।